পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর নিহত :: উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি-সেনাবাহিনী :: বিমান বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি গঠন :: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বর্ণনায় বিভীষিকাময় মুহূর্ত
বিভীষিকাময় এক ভয়াবহ দৃশ্য। গোটা জাতি স্তব্ধ। সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার জনতা হাতে হাত ধরে তৈরি করেছে বেষ্টনী। এর মধ্যদিয়েই অ্যাম্বুলেন্সগুলো আসছে এবং যাচ্ছে। এখানে-সেখানে ছুটছেন অভিভাবকরা। কেউ খুঁজছেন সন্তানকে, কেউ খুঁজছেন ভাগ্নেকে। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে উত্তরার আকাশ। মাঝেমধ্যে বাজছে ফায়ার সার্ভিসের সাইরেন। হুইসেল বাজিয়ে আসছে অ্যাম্বুলেন্স। গতকাল রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্যাম্পাসে দুপুরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থলে দেখা মিলছে এমন দৃশ্যের। সন্ধ্যায় ঘনিয়ে আসা অন্ধকারে অভিভাবকরা যেন নিখোঁজ স্বজনকে খুঁজে পাওয়ার আশার আলোর খোঁজে ছুটে চলেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনো আহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা না গেলেও আইএসপিআর জানিয়েছে বিমান দুর্ঘটনায় ১৭২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রশিক্ষণ বিমানটি যখন আছড়ে পড়ে, তখনো কেউ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পারেননি। আশপাশের মানুষ বুঝতে পারেননি, কেন এতগুলো অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে-আসছে। অতঃপর বোঝা গেল কী ট্র্যাজেডি নামল উত্তরার আকাশে, যাতে ঝরে গেল অনেক তাজা প্রাণ। প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই খবর ছড়িয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিধ্বস্ত বিমান এবং আগুনে পোড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার ভয়াবহতা শুনে চারদিকে হাজারো উৎসুক জনতা ভিড় করেন রাজধানীর শেষপ্রান্তের দিয়াবাড়িতে। ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালেও কেউ কেউ সন্তানের খোঁজে আসেন। কেউ আসেন ছোট ভাই, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নির খোঁজে।
বিমান বিধ্বস্তের পর ভয়াবহ অগ্নিকাÐে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ও আহতদের সবাই শিক্ষার্থী। তারা আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিউটসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলাস্থ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের ৯ মিনিট পরেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে আছড়ে পড়ে।
এ সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কেউ ক্যান্টিনে ছিল, কেউ ক্লাস শেষ করে নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা দেখলো, হঠাৎ করে যেন সবকিছু ধ্বংসস্ত‚পে পরিণত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তাদের পাশাপাশি মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তায় করেন। দুর্ঘটনায় বিমানটির বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও বিমান বাহিনীর একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে। বিমান দুর্ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন থেকে এক বার্তায় সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয় ইনকিলাবের। তারা জানান, সোমবার দুপুর সোয়া ১টার কিছু পর হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে স্কুলের পাঁচতলাবিশিষ্ট সাত নম্বর ভবনের ছাদে ধাক্কা লাগে। পরে বিমানটি স্কুল সেকশনের দোতলা ভবনের পড়ে বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিক ধাক্কার পর বিমানটি পাশের দোতলা ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ভবনে তখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনে আগুন ধরে যায়, মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো কাঠামোয়। দুর্ঘটনার সময়ে কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস শেষ করে কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল, কেউ কেউ ক্যান্টিনে বা সিঁড়ি ও বারান্দায় অবস্থান করছিল। বিস্ফোরণের তাপে ও ধোঁয়ায় অনেক শিক্ষার্থী হতাহত হয়, কেউ কেউ ভবনের ভেতরেই দগ্ধ অবস্থায় আটকে পড়ে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার, আতঙ্ক আর ছুটোছুটিতে এলাকা রূপ নেয় মৃত্যুপুরীতে। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের বের করে এনে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
আইএসপিআর জানায়, গতকাল দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেয় বিমানটিতে। বিমানটির ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো: তৌফিক ইসলাম বিমানের যান্ত্রিক ত্রæটির বিষয়টি বুঝতে পেরে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিমানটিকে ঘনবসতি এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাবার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল এবং কলেজ এর দোতলা একটি ভবনে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘটনাস্থলেই মারা যান। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলটির দোতলা ভবনের হায়দার আলী ভবনের সিড়িতে গিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে মুহূর্তেই আগুন ধরে তা আশপাশে ছড়িয়ে যাওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। ওই ভবনটিতে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয় বলে স্কুল সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার সময় সেখানে পরীক্ষা চলছিলো। দুপুর সোয়া একটায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিলো। এর আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে পরীক্ষা শেষ করে অনেক ছাত্র আগেই বেরিয়ে যায় বলে জানা গেছে। তারপরও সেখানে অনেক শিক্ষার্থী ছিলো। হতাহতের তালিকায় ওই শিক্ষার্থীরা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলেন, ঘটনার পর তারা স্কুল মাঠে একজনকে প্যারাসুট দিয়ে নামতে দেখেছেন। ভয়াল আগুনের জন্য তারা শুরুতে কাউকে উদ্ধার করতে পারেননি। উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়ে একটি ভবনের মুখে, যেখানে শিশু ও অভিভাবকদের দাঁড়ানোর জায়গা ছিল।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদমান বলেন, ‘আমরা যখন ক্লাসে ছিলাম, তখন বিস্ফোরণের মতো একটা শব্দ হইছে। আমরা কেউ বুঝতে পারিনি প্রথমে। তারপর হঠাৎ যখন সবাই দৌড়াদৌড়ি, ছোটাছুটি করলÑ তারপর স্যার আসলেন। বললেন ১ নম্বর বিল্ডিংয়ে বিমানের কিছু অংশ হয়তো বøাস্ট হইছে। বিল্ডিংয়ের সামনে পড়ছে, যার কারণে পুরো বিল্ডিংয়ে আগুন ধরে গেছে। তারপর আমরা বের হইছি। তারপর দেখি ফায়ার সার্ভিস। পাশেই ফায়ার সার্ভিস আর পাশেই আর্মি ক্যাম্পও ছিল। যার কারণে সবাই দ্রæত চলে আসছে। আগুন নিভাতে বেশি সময় লাগেনি, কিন্তু ভেতরে অনেক মানুষ ছিল। ছোট বাচ্চারা ছিল। ওদেরকে বের করতে অনেক সময় লাগে।’ স্কুলের পাশের বাসিন্দা লতিফা বেগম বলেন, তার ভাতিজি ক্লাস সিক্সে পড়ে। ক্লাস শেষে সবে সে বাসায় ফেরে। আর অন্য বাচ্চারা কোচিংয়ের জন্য ওই ভবনের সামনে অপেক্ষা করছিল। আর তখনই ঘটনা ঘটে।
মাইলস্টোনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজ জানায়, আমি তখন স্কুল ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনি। দেখলাম, বিমানটি পাঁচতলা ভবনে ধাক্কা খেয়ে দোতলা ভবনে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। সবাই চিৎকার করছে, দৌড়াচ্ছে। অনেক ছোট ভাই-বোনের শরীরে আগুন ধরে যায়। প্রতিষ্ঠানটির একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিরাজ বলেন, ‘চোখের সামনে অনেক ছোট ভাই-বোনকে পুড়তে দেখেছি। কারো শরীর ছিন্নভিন্ন। বুঝতেই পারছিলাম না আমি স্বপ্ন দেখছি, নাকি সত্যি!’ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নুরুজ্জামান মৃধা বলেন, ‘যে ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেখানে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলতো। দুপুর একটার দিকে ক্লাস শেষ হলেও অনেকে প্রাইভেট কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখনই বিমানটি ভবনের ওপর পড়ে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিটকে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ভবনের সিঁড়ির সামনে চলে যায়। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ‘নাক’ ঢুকে গেছে ভবনের সিঁড়ির অংশে, আর এর দুই পাখার আঘাতে পুড়ে ছাই হয়েছে শিশুদের দুটি ক্লাসরুম। দুর্ঘটনার পরপর উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। উত্তরাসহ আশপাশের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হতাহতদের উদ্ধার করা শুরু করে। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় বিজিবি ও সেনা, বিমানবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ অন্তত ১৭২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অন্তত ৬৬ জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। যারা সবাই গুরুতর দগ্ধ হয়েছে।
জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আমাদের এখানে তানভীর আহমদ (১৫) নামের এক জনের মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ৬৬ জনের ভর্তি করা হয়েছে। সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ দিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ও প্লাস্টিক ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. বিধান সরকার জানান, আমাদের এখানে চারজন এসেছে তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত হলেন, জুনায়েদ হাসান (১০) তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর ৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল বার্নের অবজারভেশনে ভর্তি করা হয়েছে, তারা হলেন, রাইয়ান (১৪) জারিফ (১২) ও সবুজা বেগম (৪০) তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো: ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত জাতীয় বার্নে ৬৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ও ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটে তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে। সবার অবস্থায় আশঙ্কাজনক। এয়ারফোর্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো: তৌফিক ইসলাম বিমানটি উড্ডয়ন করেন। বিমানটিতে তিনি একাই ছিলেন। মূলত এটি ছিলো বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমান মহড়া প্রশিক্ষণের অংশ। তারই অংশ হিসেবে এফ ৭ বিজিআই বিমানটি মহড়া প্রশিক্ষণের জন্য দুপুরের দিকে উড্ডয়ন হয়। বিমানটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা : এয়ার ফোর্স সূত্র জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এ ধরনের যুদ্ধ প্রশিক্ষণ বিমানের মহড়া নিয়মিত করা হয়। যুদ্ধ প্রশিক্ষণ বিমান শুধু এয়ারফোর্সের কাছেই রয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনীর কাছে পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার থাকে। আর প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান কেবল বিমানবাহিনীর কাছেই রয়েছে। যে বিমানটি (এফ ৭ বিজি) বিধ্বস্ত হয়েছে এটি যুদ্ধক্ষেত্রেও ব্যবহার করার উপযোগী। এয়ারফোর্স সূত্র জানায়, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার পর বিমানটি কোন্ পরিস্থিতিতে বিধ্বস্ত হয়েছে তা পরিষ্কার হবে। এখন পর্যন্ত আমরা দুঘটনায় আহত ও নিহতদের উদ্ধার, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এরপরই এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি বিস্তারিত তদন্ত করবে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যে স্কুলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেই স্কুলের প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। আশপাশে যারা বিমানটিকে ক্র্যাস (বিধ্বস্ত) হতে দেখেছেন তাদের অনেকের সঙ্গে পুলিশের দায়িত্বশীলরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার পর পরই বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ পরিষ্কার হবে।
