Wednesday, October 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবিশ্বনবী (সা.)-এর প্রতি রোম সম্রাটের অভিব্যক্তি

বিশ্বনবী (সা.)-এর প্রতি রোম সম্রাটের অভিব্যক্তি

বিশ্বনবী (সা.) একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্য বিষয়ের মতো কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। তিনি একাধিক শাসকের কাছে দূত প্রেরণ করে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছান। প্রিয় নবী (সা.) তৎকালীন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দেন, যা ছিল নিম্নরূপ—‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস বরাবর।

ন্যায়ের পথের অনুসারীদের প্রতি সালাম। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। ‘…আহলে কিতাবরা। বিতর্কিত সব বিষয় স্থগিত রেখে এসো আমরা এমন এক বিষয়ে (আল্লাহর একত্ববাদ) ঐক্যমতে পৌঁছি, যাতে তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই…। (প্রেরণে) আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ।’ (সহিহ বুখারি)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আবু সুফিয়ান তাঁকে বলেছেন, বাদশাহ হিরাক্লিয়াস একবার তাঁর কাছে লোক পাঠালেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে হিরাক্লিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জেরুজালেমে উপস্থিত হন। হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞাসা করলেন, এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ) যে নিজেকে নবী বলে দাবি করেন—তোমাদের মধ্যে বংশের দিক দিয়ে তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয় কে? আবু সুফিয়ান বললেন, বংশের দিক দিয়ে আমিই তাঁর নিকটাত্মীয়। তিনি বলেন, তাকে আমার খুব কাছে নিয়ে এসো এবং তার সঙ্গীদেরও কাছে এনে পেছনে বসিয়ে দাও। হিরাক্লিয়াস তাঁর দোভাষীকে বললেন, ‘তাদের বলে দাও, আমি তার কাছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করব, সে যদি আমার কাছে মিথ্যা বলে, তবে সঙ্গে সঙ্গে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রকাশ করবে। আবু সুফিয়ান বলেন, আল্লাহর কসম! তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে এই লজ্জা যদি আমার না থাকত, তবে অবশ্যই আমি তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম।

দীর্ঘ আলোচনার পর বাদশাহ বলেন, আমি তোমার কাছে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তুমি তার জবাবে উল্লেখ করেছ, তিনি তোমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশের। প্রকৃতপক্ষে রাসুলদের তাঁদের জাতির উচ্চবংশেই প্রেরণ করা হয়। তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, এ কথা তোমাদের মধ্যে আগেও আরো কেউ বলেছে কি না? তুমি বলেছ, না। তাই আমি বলছি যে আগে যদি কেউ এ কথা বলে থাকত, তাহলে অবশ্যই আমি বলতে পারতাম তিনি এমন ব্যক্তি, যিনি তাঁর পূর্বসূরির অনুসরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে কোনো বাদশাহ ছিলেন কি না? তুমি বলেছ, না। তাই আমি বলছি যে তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে যদি কোনো বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি বলতাম, তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর বাপ-দাদার বাদশাহি ফিরে পেতে চান। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, এর আগে কখনো তোমরা তাঁকে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছ কি না? তুমি বলেছ, না। এতে আমি বুঝলাম, এমনটি হতে পারে না যে কেউ মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা ত্যাগ করবে, অথচ আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলবে। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, শরিফ লোক তাঁর অনুসরণ করে, না সাধারণ লোক? তুমি বলেছ, সাধারণ লোকই তাঁর অনুসরণ করে। আর বাস্তবে এরাই হয় রাসুলগণের অনুসারী। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তারা সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ, বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত এ রকমই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁর দ্বিনে দাখিল হওয়ার পর নারাজ হয়ে কেউ কি তা ত্যাগ করে? তুমি বলেছ, না। ঈমানের স্নিগ্ধতা অন্তরে মিশে গেলে ঈমান এরূপই হয়। আমি জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি চুক্তি ভঙ্গ করেন কি না? তুমি বলেছ, না। প্রকৃতপক্ষে রাসুলরা এমনই, তাঁরা চুক্তি ভঙ্গ করেন না…।’ (বুখারি)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − fifteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য