Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরভারতের দালাল দুর্নীতিবাজ সামন্ত লাল সেনের জন্য ফ্যাসিস্টদের মায়াকান্না

ভারতের দালাল দুর্নীতিবাজ সামন্ত লাল সেনের জন্য ফ্যাসিস্টদের মায়াকান্না

ছিলেন একজন মেডিকেল অফিসার। কিন্তু যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই পরিচালক যারা ছিলেন তাদেরকে সুযোগ না দিয়ে ক্ষমতার অপব্যহার করে নিজেই গণমাধ্যমের সামনে হাজির হতেন। ক্ষমতার অপব্যবহার বলতে গত ১৬ বছর ভারতের দালাল হিসেবে আধিপত্য বজায় রাখতেন বার্ন ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্যখাতে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই পোড়া রোগীদের বিষয়ে গণমাধ্যম বার্নে হাজির হলেই তিনিই ডেকে কথা বলতেন।

অথচ বার্নের অন্যান্য সহকর্মীদের মতে, কখনো হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা করেছেন এ রকম নজির পাওয়া দুষ্কর। যাও ছিল তা ছিল লোক দেখানো। আর তাই বার্ন ইউনিট মানেই ছিলেন তিনি। অথচ গত ১৬ বছর বার্ন ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন দেশের খ্যাতনামা প্রফেসররা। তাদের কাউকেই দেশের মানুষ চিনেন না বললেই চলে। একই সঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশনের সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে সাক্ষাৎকার দিতেন। এই সাক্ষাৎকার স্বৈরাচার হাসিনার সঙ্গে পলায়নের সময়ও অব্যাহত ছিল। এতোক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি হলেন একজন মেডিকেল অফিসার থেকে স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞ বনে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ভারতের এজেন্ট হিসেবে হাসিনার সর্বশেষ মন্ত্রী সভায় স্থান পাওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হয়ে এরই মধ্যে ৩১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর। এই দুর্ঘটনার পর স্বজনদের আহাজারিতে ঢাকার আকাশ যখন ভারী হয়ে উঠেছে তখন আওয়ামী লীগের অনেক দালালের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ডা. সামন্ত লাল সেনের নাম। ছাত্র-জনতার খুনী হাসিনাকে সহায়তাকারী ডা. সেনকে স্মরণ করছেন। অনেকেই আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই খুনী ও দুর্নীতিবাজকে টেনে আনছেন চিকিৎসক হিসেবে।

সূত্র মতে, হাসিনার মন্ত্রীসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া পর একাধিকবার সামন্ত লাল সেন বলেছেন, তিনি মন্ত্রীত্ব চাননি। স্বৈরাচার হাসিনা খুশি হয়ে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অথচ তাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন হাসিনার দপ্তরের এবং আওয়ামী লীগের অনেকেই বিরোধীতা করেছিলেন। কিন্তু হাসিনা তখন জানিয়েছিলেন আমার কিছু করার নেই। উপরের চাপ আছে।

মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর তিনি যেন স্বাস্থ্যখাতের ‘ফাটাকেষ্ট’ বনে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যতোদিন দায়িত্বে ছিলেন হাসিনার তাবেদারি ছাড়া অন্য কিছুই করতে পারেননি। শুধু পেড়েছেন ৪টি বিভাগীয় শহড়ের বার্ন ইউনিটের পরিচালক নিয়োগ ও নিয়োগ বাণিজ্য। যদিও ডা. সামন্ত লাল সেনের মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে বিপাকে পড়েছিলেন সচিবালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা এবং স্টাফরা। কারণ গত ১৫ বছর ভারতের দাপট ও মিডিয়ার সাথে সম্পর্কের ব্যবহার করে বদলী বাণিজ্য ও পদায়নের নামে শত কোটি টাকা কামিয়েছেন তিনি।

অবশ্য স্বৈরাচার হাসিনার জন্যও তিনি কম করেননি। ভারতকে বাগে আনতে বা হাসিনার অনিয়মকে জাহির করতে সবসময় লিয়াজো হিসেবে কাজ করতেন এই সামন্ত লাল সেন। একই সঙ্গে হাসিনার শেষ দিন পর্যন্ত তিনি পাশে ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ২০২৪ সালের ২৩ জুলাইতেও তিনি বেসরকারী চিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল ২৪’ এর এক সাংবাদিককে ডেকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে অন্যদিকে মোড় ঘোড়াতে শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নে জ্বালাও-পোড়াও এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরে আওয়ামী সন্ত্রাসী দিয়ে আগুন দিয়ে তা ছাত্রদের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিলেন। শুধু চ্যানেল ২৪ নয়; গত বছরের জুলাইয়ে সকল টেলিভিশনেরই সারাদিনকার চিত্র ছিল হাসিনার উন্নয়ন জ্বালাও-পোড়াও করে শেষ করে দিচ্ছে। আর তার কারিগর এই সামন্ত লাল সেন। এদিকে গত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় ভারতের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বার্ন ইউনিটের একাধিক চিকিৎসক জানান, বিরোধীদলের হরতাল-অবরোধের সময় রাতে হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসতেন সামন্ত লাল সেন। তার সঙ্গে একাধিক দিন আওয়ামী লীগের কসাই হিসেবে পরিচিত শাহজাহান খানকে নিয়ে আসতেন। এ সময় আহতদের হাত-পায়ে যাদের সমস্যা থাকতো তাদের জন্য চিকিৎসককে নির্দেশ দিতেন হাত-পা কেটে ফেলতে। যাতে টেলিভিশনে দেখানো যায় বিরোধীদের হরতাল-অবরোধের নামে বিভৎসতা।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি দেশের অন্যতম বার্ন বিশেষজ্ঞ হলেও পতিত স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া। এবার তাকে ঘিরেই প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের পায়তারা করছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রোপাগান্ডা লীগ।

ডা. সামন্ত লাল সেন ২০০৩ সাল থেকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি অবসরে যাওয়ার পরও ভারতের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়েননি; তখনও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। আর ২০২৪ সালেতো প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রী বনে যান।

বার্ন ইউনিটের একাধিক চিকিৎসক ও নার্সের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ডা. সামন্ত লাল সেনের অপকর্মের নানা ফিরিস্তি। তারা জানান, দুর্ঘটনা আসলেই এক-দুই দিন যাওয়ার পরেই বলতেন হাসপাতালে ব্যান্ডেজ, ঔষধসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের কথা। অথচ দেখা যেত এর কয়েকদিন আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সিএসআর থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান এসেছে। পরে জানা যেত, ডা. সেন ১০০ ব্যান্ডেজকে এক হাজার, ১০০ টাকার পণ্যকে ২০০০ এভাবে বিল করে অর্থ আত্মসাত করেছেন। সর্বশেষ মন্ত্রীত্ব পাওয়ার সময়ও স্বেরাচার হাসিনাকে তার সম্পর্কে রিপোর্ট দেয় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটির রিপোর্টে উল্লেখ ছিল বার্ন ইউনিটে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জামাদির নামে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাত করেছেন সামন্ত লাল সেন। উদাহরণ হিসেবে রিপোর্টে বলা হয়- ৫০ লাখ টাকার সরঞ্জামকে কয়েক কোটি টাকা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছেন তিনি। এখনও বার্ন ইউনিটের আগের ক্রয় ও টেন্ডারের তথ্য মিলালে যা বেড়িয়ে আসবে।

বার্ন ইউনিটের পুরাতন এক কর্মকর্তা বলেন, বার্ন ইউনিট যখন ঢাকা মেডিকেলের আওতায় ছিল তখনকার ভবনের ছয় তলায় কেবিন করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু সেখানে সামন্ত লাল সেন নিজে থাকতেন। একই সঙ্গে ব্রাদার ফসালুজ্জামান সোহেলকে দিয়ে তিনটি রুম দখল করে রেখেছিলেন। ওই সময়ের ঢামেক প্রশাসন কোনভাবেই তাদেরকে নামাতে পারছিলেন না।

বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল ওই সময়ে ইনকিলাবকে বলেছিলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা মূলত ডা. সামন্ত লাল সেনের অব্যবস্থাপনার কারনেই হয়েছে। যেখানে রোগীদের জন্য ইউনিটে যায়গা হতো না সেখানে তিনি আবাসিকতার নামে ডাক্তার-নার্সদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন ইউনিটের ৬ তলায়। একাধিক সূত্র তখন জানিয়েছেল, আবাসিকতার নামে এই স্থানে দেহ ব্যবসাও চলত এবং বিভিন্ন সময় মেডিকেলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এখান থেকে ঝাড়– মিছিল বের করা হত বলেও অভিযোগ রয়েছে সামন্ত লাল সেনের বিরুদ্ধে।

এমনকি বার্ন ইউনিট প্রকল্পের সমন্বয়ক থাকা কালে সামন্ত লাল সেন প্রকল্পের আয়-ব্যায়ের হিসাব দাখিল করতেন না। শুধুমাত্র প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করতেই এই সময় ক্ষেপন করতেন। হিসাব দাখিল না করায় ওই সময়ে ডাক্তার, নার্স, কমৃকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা নয় মাস বকেয়া ছিল।

এদিকে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর মারাত্মক অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম গত সোমবার নিজের চোখের অপারেশনের তারিখ ছিল। কিন্তু নিজে অপারেশন না করিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা সেবার খোঁজ-খবর রাখছেন। চিকিৎসায় যাতে কোন ব্যাঘাত না হয় সে তদারকি করছেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, সকল রোগীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেশি-বিদেশি সব ধরনের সহযোগিতা নিচ্ছি যাতে আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা যায়। চিকিৎসকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কারো মধ্যে কোনো ক্লান্তি নেই। তারা দেশের ক্রান্তিলগ্নে কাজ করতে পেরে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছেন। তবে চিকিৎসার স্বার্থে হাসপাতালে স্বজনদের ভীড় না বাড়াতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

বিদেশি চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে আমরা সরাসরি কথা বলেছি। তারা প্রতিটি রোগীর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এটি একটি ডায়নামিক প্রসেস। রোগীর অবস্থা পরিবর্তন হলে ক্যাটাগরিও বদলাতে পারে। সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক দলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে আমরা বসেছি। কার অপারেশন লাগবে, কার ড্রেসিং বা ওষুধ পরিবর্তন হবে-সব আলোচনা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাইদুর রহমানও চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছেন। জরুরীভাবে আহতদের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে একটি মেডিকেল টিম নিয়ে এসেছেন। গতকাল বুধবার থেকে তাঁরা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর দুর্ঘটনার পর থেকে দগ্ধ শিশুদের চিকিৎসা সেবায় যাতে কোন ত্রুটি না থাকে এ জন্য সার্বক্ষনিক চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + 20 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য