ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকদিন ধরে জোর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত আপাতত সেই পথ থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক কৌশলগত উদ্বেগ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে আসার আশঙ্কা।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নে অন্যতম বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে পেন্টাগনের হাতে থাকা প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা ধরে রাখার সক্ষমতা।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতিও গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প এবং তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং নতুন শরণার্থী ঢলের আশঙ্কাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পরই ইরান ইস্যুতে তাঁর কৌশলে সর্বশেষ পরিবর্তন আসে এবং সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের আলোচনায় পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েকজন।
বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের প্রায় কেউই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের পরিকল্পনাকে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেননি। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই বাস্তবতাই বর্তমানে হোয়াইট হাউসের সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যতম বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
