Thursday, July 30, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকলীগ আমলে 'বন্ধুত্বের' দোহাই দিয়ে ভারত থেকে আসতো নিম্নমানের চাল, পচা চালের...

লীগ আমলে ‘বন্ধুত্বের’ দোহাই দিয়ে ভারত থেকে আসতো নিম্নমানের চাল, পচা চালের নতুন চালান খালাস আটকে দিলো খাদ্য বিভাগ

ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা নিম্নমানের ও পচা সিদ্ধ চালের একটি চালান ঘিরে খাদ্য বিভাগে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। খালাস হওয়া চালের মান নিয়ে আপত্তি ওঠার পর পুরো চালান নিয়ে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। ইতোমধ্যে খালাস হওয়া চালের একটি অংশ দেশের বিভিন্ন সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি) ও লোকাল স্টোরেজ ডিপোতে (এলএসডি) পাঠানো হলেও জাহাজে থাকা আরও প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন চাল গ্রহণে সাফ না করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগজুড়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক তোলপাড়।

অভিযোগ উঠেছে, শিপিং এজেন্টসহ দুর্নীতিবাজ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের ও পচা চাল আমদানি করে তা সরকারের কাছে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ অনিয়মের পেছনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ‘মাফিয়া চক্র’ সক্রিয় রয়েছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রো কর্পস’ এই সিদ্ধ চাল সরবরাহ করেছে এবং স্থানীয় শিপিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে সেভেন সী’স শিপিং লাইন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য বিভাগে দীর্ঘদিন একচেটিয়া ব্যবসা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা যখন চালের প্রকৃত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হন, তখন শিপিং লাইন কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে বিষয়টি ম্যানেজ করে চালগুলো গ্রহণ করানোর চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই চেষ্টায় সাড়া না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের চাল গ্রহণ করা হবে না।

এ ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে খাদ্য আমদানিকে কেন্দ্র করে অতীতের বিতর্ক। গম আমদানি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। একই ঘটনায় তৎকালীন খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে অভিযোগ রয়েছে, বেশি দামে নিম্নমানের গম আমদানির মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমলে রাশিয়া থেকে একের পর এক নিম্নমানের, এমনকি চোরাই গমও বেশি দামে আমদানি করেছিল যে চক্রটি, সেটিই এখনও বহাল তবিয়তে সক্রিয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে চালকে ‘খাবার উপযোগী’ উল্লেখ করা হলে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয় এবং শুরু হয় চাল নামানোর কাজ।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টানা দুই দিন চাল খালাস করা হয়। এসব চালের মধ্যে ২ হাজার মেট্রিক টন ঢাকার তেজগাঁও সিএসডিতে, কয়েকশ মেট্রিক টন চট্টগ্রামের হালিশহর সিএসডিতে, কয়েকশ মেট্রিক টন দেওয়ানহাট সিএসডিতে এবং আরও কয়েকশ টন জয়দেবপুর এলএসডিতে পাঠানো হয়।

কিন্তু গত শনিবার তেজগাঁও ও হালিশহর সিএসডির কর্মকর্তারা চাল গ্রহণ করতে গিয়ে বিস্মিত হন। তাদের দাবি, আমদানিকৃত চাল অত্যন্ত নিম্নমানের, পুরোনো এবং অনেকটাই খাবার অনুপযোগী। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিবহণ ঠিকাদাররাও চালের নিম্নমানের কারণে পরিবহণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

রোববার আবারও চাল খালাস শুরু হলেও নিম্নমানের চালের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় সোমবার থেকে পরিবহণ ঠিকাদাররা দ্বিতীয় দফায় খালাস কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল খালাস করা হয়েছে। এখনও জাহাজে পড়ে আছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন চাল।

খালাস কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজটিতে একাধিক হ্যাচ এবং বিভিন্ন ব্লকে চাল সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি স্তরের মাঝামাঝি অংশে নিম্নমানের চাল রাখা হয়, যাতে নমুনা সংগ্রহের সময় তা ধরা না পড়ে। তার ভাষ্য, বিভিন্ন ব্লকের ঠিক মাঝখানে এসব চাল রাখা হয়েছিল বলেই প্রাথমিক পরীক্ষায় অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বন্দর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আশরাফ জানান, জাহাজ থেকে সিদ্ধ চাল খালাসের চলমান কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। চালের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চলাচল ও সংরক্ষণ কর্মকর্তা (সিএমএস) সরেজমিনে জাহাজে উপস্থিত থেকে পণ্য পরিদর্শন করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে সেভেন সী’স শিপিং লাইনের কর্ণধার আলী আকবর যুগান্তরকে বলেন, আমদানি করা চাল খারাপ নয়, তবে কিছুটা লালচে। তিনি চাল পচা কিংবা নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন।

বিভাগীয় পরিবহণ ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, নিম্নমানের চাল আসার কারণে তেজগাঁও, হালিশহর, দেওয়ানহাট সিএসডি এবং জয়দেবপুর এলএসডিতে চাল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে জাহাজটি বর্তমানে অলসভাবে বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে। তার অভিযোগ, এ ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী শিপিং এজেন্ট।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী মঙ্গলবার সকালে যুগান্তরকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পরই চাল খালাস করা হয়। তবে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজে আনা চাল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে খাদ্য বিভাগের একটি বিশেষ টিম জাহাজে অবস্থান করে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার বিধিবহির্ভূত বা নিম্নমানের কোনো চাল গ্রহণ করা হবে না।’ 
সুত্রঃ যুগান্তর 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

6 + 17 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য