নববর্ষের আগমনের শিক্ষা ও আশুরার ফজিলত
প্রথম খুতবা:
الحمد لله مدبر الأكوان، مصرف الأزمان، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمدا عبده ورسوله، اللهم صل وسلم وبارك عليه، أما بعد:
হে মুসলিম ভাইয়েরা! সময়ের পরিবর্তন এবং তার দ্রুত অতিক্রম ও নিঃশেষ হওয়ার মধ্যে এই নশ্বর পৃথিবীর অবস্থা সম্পর্কে সুধারণা ও শিক্ষা রয়েছে। এটি অস্থায়ী ছায়া বা প্রস্থানকারী মরীচিকার ন্যায়; যার আধুনিকতা সেকেলে হয়, ক্ষমতা ও রাজত্ব নিঃশেষ হয় এবং যাবতীয় বিলাসিতা ও আনন্দ ফুরিয়ে যায়। ফেরাউনের বংশের জনৈক মুমিন ব্যক্তির উক্তি আল্লাহ এভাবে উল্লেখ করেছেন: [ হে আমার সম্প্রদায়! এ দুনিয়ার জীবন কেবল অস্থায়ী ভোগের বস্তু, আর নিশ্চয় পরকাল হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস। ] সূরা আল মু’মিন: ৩৯।
উমর বিন আব্দুল আজীজ রহঃ বলেন: ( হে মানুষ! প্রত্যেক সফরের প্রস্তুতি রয়েছে। কাজেই তোমরা দুনিয়া থেকে আখেরাত অভিমুখী সফরের জন্য তাকওয়া অবলম্বন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করো। ) আল্লাহ তায়ালা বলেন: [ আর তোমরা পাথেয় সঞ্চয় কর; নিশ্চয় শ্রেষ্ঠ পাথেয় হল ‘তাকওয়া’। ] সূরা আল বাকারা: ১৯৭।
নববর্ষের আগমনে রয়েছে উপদেশ; কাজেই আমাদের উচিত এ থেকে আত্মপর্যালোচনার উপযুক্ত উপলক্ষ্য গ্রহণ করা এবং আখেরাতে উপকৃত হওয়া যায় এমন আমলের মাধ্যমে এর প্রতিটি অবস্থাকে মুল্যায়ন করা। আল্লাহ বলেন: [আল্লাহ দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, নিশ্চয় এতে শিক্ষা রয়েছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য।] সূরা আল নূর: ৪৪।
মুমিন বান্দার উচিত স্বীয় আত্মার ও কর্মের তদারকি করা এবং দেখা যে, আগামী দিনের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে?; সে কি আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল অবস্থায় রয়েছে? তাহলে সে আরো ভাল কাজ করবে। নাকি সে উদাসীন বা সীমালংঘনকারী অবস্থায় রয়েছে? তাহলে সে সময় ফুরাবার আগেই তাওবা করে ফিরে আসবে। আল্লাহ বলেন: [ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। ] সূরা আল হাশর: ১৭। সুতরাং হে মুসলিম! আপনি আপনার নিজের আত্মার তদারকি করুন এবং যাবতীয় পাপ ও বেহায়াপনা হতে তাকে বারন করুন। আর আপনি কল্যাণ, ন্যায়পরায়ণতা ও ইবাদতে ধৈর্য্য ধারণ করুন। মহান আল্লাহ বলেন: [ আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর তোমাদের কাছে শাস্তি আসার আগে। ] সূরা আয যুমার: ৫৪।
ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন যে, উমর রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ( হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বেই তোমরা নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব নাও এবং পরিমাপের সম্মুখীন হওয়ার আগেই তোমরা নিজেদের আমল পরিমাপ করে নাও; সেদিন উপস্থিত করা হবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কোন গোপনই আর গোপন থাকবে না। )
কল্যাণ ও সৌভাগ্যের গুপ্তস্থান হল ব্যক্তির আত্মপর্যালোচনা; যদি সে বিচ্যুত হয় বা ভুল করে তাহলে সে যেন আল্লাহর এই আহবানে সাড়া দেয়: [ বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ- আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ] সূরা আয যুমার: ৫৩।
কাজেই আল্লাহর বান্দা, আপনি আপনার দ্বীনকে হেফাযত করুন। কেননা এটিই প্রত্যেক কল্যাণের ভিত্তি। আপনার ¯্রষ্টার বিধি-বিধান ও নির্দেশের ব্যাপারে সীমালংঘন করা থেকে সতর্ক হোন; কেননা এগুলো যাবতীয় ক্ষতি, মসিবত ও অকল্যাণের মূল। আল্লাহ তায়ালা বলেন: [ যারা ঈমান এনেছে তাদের হৃদয় কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে তার জন্য বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? আর তারা যেন তাদের মত না হয় যাদেরকে আগে কিতাব দেয়া হয়েছিল অতঃপর বহু কাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক। ] সূরা আল হাদীদ: ১৬।
হে মুসলিম! বিগত বছরের তুলনায় আপনি আপনার এই নতুন বছরকে অধিক কল্যাণময় ও সৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করুন এবং ভাল ও কল্যাণমূলক কাজে প্রতিযোগিতা করুন। রাসূল সাঃ বলেছেন: ( তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে দীর্ঘ জীবন পেয়েছে এবং আমলগুলোকে সুন্দর করেছে। ) সুনান তিরমিযি।
اللهم اجعل عامنا هذا عام خير وسعادة، اللهم اجعله عام رزق وبركة، واجعله عام صحة وعافية على المسلمين يا أرحم الراحمين.
দ্বিতীয় খুতবা:الحمد لله وكفى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمدا عبده ورسوله، اللهم صل وسلم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه، أما بعد:
হে মুসলমানগণ! মর্হরম মাস সম্মানিত মাসসমূহের মধ্যে অন্যতম। মর্হরমের সিয়াম অন্যান্য নফল সিয়ামের মধ্যে উত্তম ও ফযিলতপূর্ণ। রাসূল সাঃ বলেছেন: ( ফরয সালাতের পর রাতের সালাতই শ্রেষ্ঠ এবং ফরয সিয়ামের পর মর্হরমের সিয়াম উত্তম ) সহীহ মুসলিম।
তাছাড়া বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত যে, দশই মর্হরমের সিয়াম পূর্ববর্তী এক বছরের গোনাহকে মিটিয়ে দেয়। সুন্নত হল: মর্হরমের দশ তারিখের সাথে মিলিয়ে নয় তারিখেও সিয়াম পালন করা। এ বিষয়ে রাসূল সাঃ এর কাছ থেকে প্রমাণ রয়েছে। আশুরার ফযিলতের ব্যাপারে এমনি এসেছে। এর বাইরে বর্তমান যুগে যেসব ইবাদত ও কর্মকান্ড করা হয় তা প্রমাণিত নয়; কাজেই সেগুলো কুরআন সুন্নাহর প্রমাণবিহীন নিকৃষ্ট বিদআত!! দ্বীনের যে বিষয়গুলো সুস্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত তাতেই যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
শাইখ হোসাইন আলে শাইখ হাফেজুল্লাহ
সমাপ্ত
