Sunday, July 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ামানহাজ

মানহাজ

একটা বিষয় বা পোষ্ট দেখে আজ একটা বড় পোষ্ট লেখতে ইচ্ছে হলো। যাদের সময় আছে, পড়বেন। [বিঃদ্রঃ এটা প্রবন্ধটাইপ বা আলাপচারিতা, পরিপূর্ণ ইলমি ডিসকাশন না। সেভাবেই পড়বেন।]

কিছু ভাইরা মাঝেমধ্যে পোষ্টটোষ্ট দেন যে আক্বিদা / মানহাজের দাওয়াতে কিছুই হয়না উগ্রতা ছড়ানো ছাড়া। কথাটা আংশিক সত্য হতে পারে। হতে পারে যে অনলাইনে এই ফিল্ডে দাওয়াত দেয়া কিছু ছেলেপেলে রেষ্টলেস। কিন্তু তাদের জন্য কি এই ফিল্ডে বা এই টপিকটাই প্রবলেমেটিক?

আসেন একটু কথা বলি। দুই তিন বছর আগে জনৈক সেলিব্রিটি “হিকমত দাই” যিনি অনলাইনে “ইয়াংম্যান মর্ডান” সালাফিদের মাঝে খুব নামকরা তিনি বলেছিলেন “মানহাজ একটি নতুন আবিষ্কার”। তাঁর এই গর্দভমার্কা কথার বিরোধিতা করায় বহু মনোমালিন্য হয়েছিলো বহু ভাইদের সাথে। এখন একটু আলোকপাত করা যাক যে আক্বিদা মানহাজ ছাড়া দাওয়াতটা আসলে কি?

ইসলামে দাওয়াতটা আসলে কি? তাউহিদের দাওয়াত? তাউহিদটাকে আলাদা করা হলো কেন? বা আপনি আমি যখন সেলিব্রিটিদের থেকে যখন শুনি এই গর্দভমার্কা কথা যে অমুক তমুক টপিক তো কোরআন হাদীসে নাই, নতুন আবিষ্কার, তখন ভেবে দেখা দরকার যে এই টপিকটা আসলো কি করে?

শুরু করি তাহলে, আচ্ছা রাসুলুল্লাহ ﷺ এর যুগে কোরআন একত্র করে এক রুলিংয়ে ছাপানো হয়েছিলো? না হয়নি। কেন হয়নি? প্রয়োজন পড়েনি। পরবর্তীতে উসমান রাদিআল্লাহু আনহুর সময় প্রয়োজন বেড়ে যায় তখন জরুরতের খাতিরে একত্রকরণ করা হয়। ছাপা হয়।

এরপর আসা যাক হাদীস নিয়ে। হাদীসের ক্ষেত্রেও একই, আগে হাদীস সহীহ কোনটা জয়ীফ কোনটা এই কথাগুলো এই পড়াশুনাটা ছিলো না। যতক্ষণ না জরুরত পড়ে। যখন দেখেছে মানুষে জাল দূর্বল হাদীস বের করা শুরু করেছে তখন এসেছে।

ঠিক একইরকম সময়ের প্রয়োজনে যখন ইসলামে ফালসাফা ঢুকে গ্রিক মিথের বিশ্বাস ঢুকে পর্যন্ত যাচ্ছিলো, বা এমন প্যাগান মতাদর্শ ঢুকে গিয়েছিলো (বিশ্বাস না হয় পারস্য বিশ্বাস ও ইসলামি সুফিজম নিয়ে ঘাটাঘাটি করুন) তখন ইসলামের বেইসিক বিলিভ সিস্টেম বা তাউহিদের ব্যাপারে আলোচনা আসা শুরু হয়। তাউহিদের ব্যাপারটা খুব বেশি কাজ হচ্ছে এবং হবে কারন ইসলামের রুটই তাউহিদ। প্রয়োজনে তাউহিদের প্রকারভেদ আনা হয়। এইযে সিফাত নিয়ে আলোচনায় লোকজন কমপ্লেক্স কমপ্লেক্স বলে বেড়ায়, এই মাসআলায় জাহালতের কারনে আপনি যে কুফরে জড়িয়ে যেতে পারেন সেটা কিন্তু তথাকথিত ইসলামি সেলিব্রিটিরা বলবে না। ওরা পলিটিক্যালি বায়াসড দেখে আপনাকে বারংবার বলে বেড়ায় “শাসনকার্যে কুফর হচ্ছে” বলেই খই ফুটায়। বরং সত্যিকার অর্থে যে স্কেলে তারা সিফাতকে কমপ্লেক্স তাউহিদ বলে, সেই একই স্কেলে শাসনকার্যে যে তাউহিদের আলোচনা সেটাও কমপ্লেক্স হয়ে যায়। সেটা কিন্তু কোন মায়ের ব্যাটা আলোচনা করে না।

যাইহোক, আলোচনা ছিলো এভাবেই তাউহিদ, তাউহিদের প্রকারভেদ, শর্ট আলোচনা থেকে সেটা লং আলোচনা, বারংবার আলোচনা, এসব কিছু হয় যখন ভেজালটা গভীরে মিশতে শুরু করে। অনেকটা ক্যান্সার পেশেন্টের মতন। ফার্স্ট স্টেজ থাকলে শুধু সার্জারী, সেকেন্ড স্টেজে সার্জারী কেমো রেডিও, এভাবে থার্ড স্টেজে থাকলে সব চিকিৎসা বেশি হতে থাকবে বাড়তে থাকবে।

ইসলামে অনৈসলামিক মতাদর্শ, বিদআতের প্রসার এসব ভেজাল তীব্র হারেই বেড়েছে। আর জিনিসটা যত তীব্র সেটার ঔষধও ততটা রুক্ষ হবে। তাই দেখবেন ইমাম আহমাদ, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বা বারবাহারি বা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রুক্ষতা বেশি ছিলো। কারন তারা যেসব প্রবলেম নিয়ে ডিল করছিলো সেগুলোতে “তীব্রভাবে” আক্রমনাত্মক হয়ে সলিউশন না বের করতে পারলে কখনই আপনি সঠিকটা প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন না। এইযে তাদের রুক্ষতা, সেই রুক্ষতাকেই কিন্তু বড় একটা অংশ উগ্রতা বলেছিলো। সেই সময়কালে, এমনকি এখনও অনেকে কনভিন্স হয়।

মানহাজের দাওয়াতটাও সেইম। মানহাজটা আসলে কি? এটা এটা বৃহৎ শব্দ বটে। সোজা সংজ্ঞায় ইসলামকে বুঝবার ও মানবার নীতিমালা। এখন নব্বইয়ের দশকের পর এই নীতিমালা প্রসার ও প্রচারের একদল আলেম কেন রুক্ষভাবে এগিয়ে এসছিলো? কারন মানহাজ যে অর্থটা বহন করে সেটা একটা বড় অংশ ইচ্ছে করে করাপ্ট করে দিচ্ছিলো। যেমন “আক্বিদা ছাড়ো, সব ভাই ভাই” নীতি। আরও অনেককিছুই আছে, তবে এটা দিয়ে বুঝবেন যে কেন জরুরী হয়ে পড়েছিলো মানহাজের দাওয়াত। এইযে তাউহিদ বা আক্বিদা আমরা যদি দাওয়াত থেকে বাদ দিয়ে দেই, তখন আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে সুন্দর দাওয়াতী কাজ চলছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে কিন্তু এটাই একটা লকলকে দূর্বল মুসলিম জেনারেশন তৈরি করে ফেলবে। আপনার কি মনে হয়? আজ সেকুলার লিবারাল আগ্রাশনে মুসলিমরা পড়ছে কেন? কারন তারা বুঝেইনা যে তাউহিদের সাথে কেন এটা সাংঘর্ষিক। আপনি সিফাতের মাসআলা সরিয়ে ফেলেন, দেখবেন এজন্যই বড় একটা অংশ মুসলিমের যারা প্যাগানদের মতন আল্লাহ সবজায়গায় বিশ্বাস করে ফেলেছে। এমনকি এইযে নাস্তিকতার বীজ, এটাও বুনা হয়ে গিয়েছে তাউহিদের জ্ঞানের অভাবেই।

এখন আপনি যদি জানেনই না, তাউহিদের জ্ঞান কোথা হতে কিভাবে কার থেকে নেবো, আপনি তো সবার থেকেই নিবেন। কারন আপনি তো মানহাজকে তোয়াক্কা করলেন না। তো আপনি একজন থেকে নিলেন, যিনি বলবে, আল্লাহর যে হাতের বর্ণনা এসছে সেটা আসলে মেটাফোরিকাল, বা আরবীতে বলি “কুদরতি”। আরেকজন বললো, না কুদরতি কেন হবে? এটা অবশ্যই জাতি সিফাত। এখন দুজনকেই শুনলে কোনটা ছেড়ে কোনটা নিবেন? তখনই লাগবে গ্যাঞ্জাম। একজন বললো নবী জিন্দা নাকি মুর্দা এই আলাপই করবোনা। কিন্তু হিউম্যান ন্যাচার তো ডিসিশনে পৌঁছুতে চাইবে, আপনি তখন খুঁজবেন। মানহাজ কবর দিয়ে খুঁজবেন। পছন্দ হলে ভাববেন নবী কবরে জিন্দা, তাই তাঁর কাছে চাই। এইযে শির্কে জড়ায় যাচ্ছেন। এভাবে আমি ফেস টু ফেস বসে আপনাকে হাজারটা ফ্ল দেখাতে পারবো। নিতে পারবেন?

দেখেন, মানহাজ যদি গুরুত্বপূর্ণ না হতো, এত এত আলেম এর পিছনে সময় ব্যায় করতো না। সোজা হিসেব। ইমাম আহমাদের সময় মুতাজিলি ধারনা যদি পয়জনাস না হতো, উনি এটা নিয়ে সারাজীবন জেল খাটতেন না। এটা আল্লাহর রহমত যে একদল লোক প্রতি যুগে তিনি আমাদের দেন, যারা বুঝে ইসলামের জন্য এখন কোন ইলমটা প্রয়োজন। তারা সেটার জন্য লড়াই করে। তাই খোদা কা ওয়াস্তে শয়তানের সাহায্যকারী হবেন না। এটাই শয়তানের সবচাইতে বড় ট্রিক। যে আপনাকে একটা ফ্যান্টাসি জগতে রাখছে। অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে প্রয়োজনীয় করে, প্রয়োজনীয় ইলমকে উগ্রতা বলে, আর জরুরী আলেমদের থেকে আপনাকে মাহরুম করে। সাবধান হয়ে যান।

সবশেষে, আখলাক অবশ্যই জরুরী একটা অংশ দাওয়াতে। কিন্তু ঐযে শুরুতে বলেছি কখনও কখনও কঠোরতা জরুরী হয়ে পড়বে। তখন নম্রতা ইসলাম বহির্ভূত মানহাজই হবে। তাই কোনটা জরুরী কঠোরতা তা বুঝতে শিখতে হবে। হ্যাঁ এর মানে এইনা যে আমি “আদবহীনতা”কে প্রমোট করছি। তবে সেটা সবসময় চিন্তা করে দেখতে হবে। সবসময় সেলিব্রিটিদের পাল্লায় পড়ে সফট দাওয়াতের নামে একটা খিচুড়ি ইসলাম বা পলিটিকাল ইসলামের দিকে যাওয়া কোনভাবেই নরমাল প্র্যাকটিস হতে পারে না। ওতে একটা সুডোইসলামিক সোসাইটি ক্রিয়েট হয়। যেটা যে ইচ্ছা যখন ইচ্ছে এক ধাক্কায় ফেলে দিয়ে নিঃশেষ করে দিতে পারে।

প্রিয় ভাই মোহাইমিনুর রহমান স্নিগ্ধ (হাফিঃ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য