Monday, September 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকমানুষকে ‘উধাও করার’ মতো শক্তিশালী ৬০ হাজার বোমা ইসরায়েলকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার...

মানুষকে ‘উধাও করার’ মতো শক্তিশালী ৬০ হাজার বোমা ইসরায়েলকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার হত্যার পরে লাশও নিশ্চিহ্ন করার ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে ইসরায়েল

গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলের জন্য প্রায় ৬০ হাজার ভারী বোমা ও পেনিট্রেটর ওয়ারহেডের একটি বড় অস্ত্রপ্যাকেজ প্রস্তুত করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্ভাব্য চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি ডলার, যার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের Foreign Military Financing কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিশোধ হওয়ার কথা।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানোর আগে প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে ২০ হাজার MK-84, ২০ হাজার BLU-117 দুই ধরনেরই ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯০৭ কেজি ওজনের বোমা। এর সঙ্গে রয়েছে ২০ হাজার I-2000 Penetrator ওয়ারহেড।

MK-84 হলো Mark 80 সিরিজের সবচেয়ে বড় বোমা। এটি বড় ভবন ও মাঝারি মাত্রার সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও ধ্বংস ঘটানোর জন্য তৈরি। BLU-117 দেখতে MK-84-এর মতো হলেও এতে ভিন্ন বিস্ফোরক ব্যবস্থার ব্যবহার রয়েছে এবং এতে নির্দেশনাব্যবস্থা যুক্ত করা যেতে পারে।
I-2000 Penetrator মূলত শক্ত কংক্রিট বা মাটির নিচের কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণের জন্য তৈরি হওয়া ওয়ারহেড।

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ২ হাজার পাউন্ডের এসব বোমা ব্যবহার করে আসছে। ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের পর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ভারী বোমার ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনও গাজায় বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় ২ হাজার পাউন্ডের বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিল।

নতুন প্রস্তাবটি সেই বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিক্স ঘনবসতিপূর্ণ গাজা ও লেবাননে এসব অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৫ সালের একটি মার্কিন অস্ত্র বিক্রির নোটিশে ৩৫ হাজার ৫২৯টি MK-84 বা BLU-117 বোমা এবং ৪ হাজার I-2000 Penetrator অন্তর্ভুক্ত ছিল; চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য ছিল ২০৪ কোটি ডলার।

নতুন ২৮০ কোটি ডলারের প্যাকেজটি তাই সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় ভারী বোমা সরবরাহ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। সম্ভাব্য চুক্তির বড় অংশ Foreign Military Financing ব্যবস্থায় অর্থায়িত হওয়ার কথা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দিয়ে ইসরায়েল মার্কিন অস্ত্র কেনে।

এদিকে ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের জন্য বিপুল পরিমাণ ভারী বোমার সম্ভাব্য সরবরাহ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, দেশটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত ও উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে।

অন্যদিকে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে এ অস্ত্রপ্যাকেজ নিয়ে বিরোধিতাও দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এর বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছেন। ফলে চুক্তিটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির নয়, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের প্রশ্নেও নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সূত্রঃ আল-জাজিরা 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 − two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য