আল্লাহ্ তা’আলা এ বিশ্ব পরিমণ্ডলে মানুষ ও জীন জাতীকে বসবাসের জন্য অধিকারী করেছেন। কালের পরিক্রমায় আদম (আঃ) থেকে মনুষ্য জাতির সৃষ্টি এবং আবহমান কাল ধরে এই নিয়মেই মানুষ জন্ম নিচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে মারা যাচ্ছে। আল্লাহ্ তা’আলা প্রত্যেকের জন্য তার সময়কাল নির্ধারণ করে দিয়েছেন বিশেষ করে এই পৃথিবীতে অবস্থানের জন্য। জীন জাতির কে আদী পিতা তাহা আমাদের যেহেতু জানা নাই, (সম্ভবত শয়তান ইবলিস) তাই তাদের বংশ পরিক্রমা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথাও কম। আমাদের আলোচ্য বিষয় থেকে তাদেরকে বাদ দেওয়া হোল।
এখন প্রশ্ন হোল আসলে কি আমরা অমর? প্রকৃতপক্ষে মানুষ অমর। অমরত্বকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, একটা স্মৃতি নির্ভর অমরত্ব আরেকটা আত্মিক ও দৈহিক।
আল্লাহ্ তা’আলাতে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সবাই অমরত্ব চায়, তবে অবিশ্বাসীরা চায় এই দুনিয়ায়, পরকালে নয়, স্মৃতি নির্ভর অমরত্ব প্রত্যাশীরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আশা করে যে তাদের চলনে, বলনে, কাজে, কর্মে তারা বেঁচে থাকবে। পরবর্তী প্রজন্ম হউক আত্মীয়, প্রতিবেশী বা দেশ কাল পাত্র ভেদে যে কেউই। তবে এ কথা ঠিক তা যেন হয় তাদের ভাল দিকের অংশ, মন্দ বা খারাপ কিছু নিয়ে যেন না ভাবে। রবিন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “মনে রবে কি না রবে আমারে” এ বক্তব্য প্রান চাঞ্চল্য স্মৃতি নির্ভর দুনিয়াবী আবেগ। কবির ভাষায় “জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা তবে” এই শূন্য সংসার মাঝ? তাহা হলে দেখা যায় এই পর্যায়ে অর্থাৎ এই নশ্বর পৃথিবীতে আজীবন বসবাসের কোন সুযোগ্ নাই। এটা আল্লাহ্ তা’আলার অমোঘ নিয়ম যার কোন ব্যাতিক্রম হওয়ার কথাই উঠে না। তবে কি মৃত্যুই কি শেষ কথা? না!
কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় পরবর্তী প্রজন্ম তাকে নিয়ে কি ভাববে তা কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও জানেন না। এবং তার এতে কিছু করারও নাই। তবুও সে আশা রেখেই মৃত্যু মুখে পতিত হয়। আবার কেউ কেউ স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতেও চায় তার কৃত কর্মের কারনে, কিন্তু মানুষ গালাগাল দেওয়ার জন্যই তাকে মনে রাখে। তাই স্মৃতি সব সময়ই ভাল কিছু বহন করে না। দেখুন না, মীর জাফর নামটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত নাম। এই অমরত্বের কি মূল্য আছে, এটা কি ভাববার বিষয় না? ধরে না হয় নিলাম মৃত্যুর পরে অপছন্দনীয় অমরত্বে তার কি বা আসে যায়? সে তো এখন মৃত। কিন্তু তাহলে তার কৃত দোষনীয় অপরাধের শাস্তি কোথায় প্রয়োগ হোল? আল্লাহ্ তা’আলাতে অবিশ্বাসী ও মুসলিম অপরাধীকে তবে আল্লাহ্ তা’লার এই আয়াত শুনতে হবে, সুরা দুখান আয়াত ৩৪-৩৫ এ তিনি বলেন, নিঃসন্দেহ এরা তো বলেই থাকে, প্রথম মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের সবকিছুর অবসান হবে এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না। তা কিন্তু সঠিক নয়! তারা কিন্তু বিরাট ভুলের মধ্যে আছে, আল্লাহ্ তা’আলা এই মর্মে বলেন, আপনি বলুন, (হে মুহাম্মদ) আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত (উত্থিত) করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। (সুরা জাথিয়া, আয়াত ২৬) এবং তার পরেই বিচার কার্য শুরু হবে। এতে কোন ভুল নাই। আবার মুহাম্মদ (সঃ) নাম পৃথিবীর লয় পর্যন্ত মানুষের মুখে, কাজে ও অন্তরে গেঁথে থাকবে তাঁর নৈতিক পরিশুদ্ধ চরিত্রের জন্য। এই অমরত্ব প্রকৃতপক্ষে আমাদেরকে, বিশেষ করে মৃতদেরকে কি দিল, তাহা ভাববার বিষয়, আমরাও কি দুনিয়াবী অমরত্ব চাইবো? হ্যাঁ, আমরা দুই জায়গায়ে অমরত্ব চাই তবে তা যেন হয় আমাদের নাজাতের উসিলা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩টি আমল বন্ধ হয় না- ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন জ্ঞান (ইলম)- যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় ও ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দোয়া করে। – সহিহ মুসলিম : ৪৩১০। তা হলে দেখা যায় মৃত ব্যক্তিরও মৃত্যুর পরে প্রাপ্যতা আছে ফলে সে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়েও আছে। গ্রহণযোগ্য শরিয়ত গ্রাহ্য যে কোন দান, উপকারী জ্ঞান ও সুশৃঙ্খল প্রজন্ম তাঁর কথা স্মরণ করে আর সে এক স্মৃতি নির্ভর মহানায়কে রূপান্তরিত হয়। এই দুনিয়াবী অমরত্ব প্রাপ্তি সে মরেও উপভোগ করছে বা করবে। কারন তার জন্য আরও একটা অনন্ত কাল অপেক্ষা করছে। খারাপ কর্মের অধিকারী বরং দুনিয়াবী দুর্নামের (অমরত্ব) ফলে আখিরাতেও আরও সাজা ভোগ করবে, রাসুল (সঃ) এক হাদিস তারই বর্ণনা দিচ্ছে, হজরত মুনজির ইবনে জারির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তার পিতা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের
প্রচলন ঘটাবে এবং অন্যরা সেটার অনুসরণ করবে তবে তার জন্য এর প্রতিদান লেখা হবে এবং এর অনুসরণকারীরও অনুরূপ নেকি লেখা হবে। অথচ তাদের প্রতিদান থেকে এতটুকু কমানো হবে না।
অনুরূপ যে ব্যক্তি কোনো পাপ কাজের প্রচলন ঘটাবে এবং অন্যরাও সে পাপ কাজের অনুসরণ করবে, তবে সে পাপ কাজের অন্য প্রচলনকারীর আমলনামায় পাপ যুক্ত হতে থাকবে। অথচ যে পাপ করবে তার পাপের সামান্য অংশও কমানো হবে না।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)
পৃথিবীর সব কিছুই পরিবর্তনশীল, মানব জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায় আজ যা দ্রুব সত্য কাল কালের ঘূর্ণায়মান পরিক্রমায় তা মিথ্যা হয়ে যায়। স্মৃতি মাঝে মাঝে নস্টালজিকও হয়। কেউ কেউ একই মৃত ব্যক্তিকে ভাল আবার কেউ কেউ মন্দ হিসাবে চিহ্নিত করে থাকেন। মৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। স্মৃতিতে এক সময় অমলিন কোপারনিকাস ১৫৪৩ সালে মৃত্যুর মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে যে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন, তার নাম ‘ DE REVALUTIONIBUS ORBIUM CELESTIM ’ । কোপারনিকাস বলেন, সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে বলেই ঋতু পরিবর্তন সম্ভব। আর পৃথিবী তাঁর নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হয় বলেই দিন—রাত্রি হয়। অথচ তারও বহুবছর আগে গ্রিক যুগের একজন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লডিয়াস টলেমি বলেছিলেন: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্যসহ অন্যান্য গ্রহ—নক্ষত্রগুলো আবর্তিত হয়। এবার দেখুন আল কোরআন কি বলে, “আল্লাহ তা‘আলা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৮) সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলীল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর উপর পরিভ্রমণ করে। এখন আমরা কি কারনে আর কোপারনিকাসকে মনে রাখবো? ভুল ব্যাখ্যার দেওয়ার উকিল হিসাবে। এখন বুঝা যায় তা ছিল তার জ্ঞানের অপরিপক্কতা আর ক্ষমতার বৈভব, তাকে মিথ্যা বলার মাধ্যমে তখন খ্যাতি এনে দিয়েছিল। আজ সে মিথ্যুকে পরিণত হয়েছে। এই অমরত্বের কি মূল্য আছে?
আজ কাল স্মৃতিতে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য মানুষ কি না করে বেড়াচ্ছে?, মৃত ব্যক্তির মূর্তি, ভাস্কর্য, এপিটাফ, কবরকে চিহ্নিত করন, পোস্টার, ফেস্টুন, ছবি অঙ্কন ও প্রদর্শন, জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস, উল্লেখযোগ্য কর্মের ও সময়ের স্মৃতিচারণ। ফলে মৃত ব্যক্তি কি পেল? ধীর স্থির চিত্তে একবার ভাবুন। আমাদের বাঁচা মরার কয়েকটা পর্যায় আছে, কিন্তু ইংরেজিতে যাকে বলে In the long run আমরা আসলে অমর। তবে তাহা ব্যাখ্যার দাবী রাখে।
তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’বার জীবন দিয়েছেন। অতঃপর আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব (জাহান্নাম থেকে) বের হবার কোন পথ আছে কি’? (আল কোরআন, সুরা গাফির, আয়াত ১১) এই আয়াতের তাফসীরে বলা হচ্ছে, দু’বার মৃত্যু এবং দু’বার জীবন বলতে বুঝানো হয়েছে তোমরা প্রাণহীন ছিলে, তিনি তোমাদের প্রাণ দান করেছেন। এরপর তিনি পুনরায় তোমাদের মৃত্যু দিবেন এবং পরে আবার জীবন দান করবেন। কাফেররা এসব ঘটনার প্রথম তিনটি অস্বীকার করে না। কারণ, ঐগুলো বাস্তবে প্রত্যক্ষ করা যায় এবং সে জন্য অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু তারা শেষোক্ত ঘটনাটি সংঘটিত হওয়া অস্বীকার করে। কারণ, এখনো পর্যন্ত তারা তা প্রত্যক্ষ করেনি এবং শুধু নবী-রসূলগণই এটির খবর দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন এ চতুর্থ অবস্থাটিও তারা কার্যত দেখতে পাবে এবং তখন স্বীকার করবে যে, আমাদেরকে যে বিষয়ের খবর দেয়া হয়েছিলো তা প্রকৃতই সত্যে পরিণত হলো। [দেখুন: তাবারী] তাফসীরে জাকারিয়া এবার প্রশ্ন থেকে যায় মাতৃগর্ভের জন্মের মত কি আমরা আবার জন্ম নিব? আগে এর উত্তর দিয়ে নেই। হ্যাঁ, হয়ত মায়ের পেট অথবা আদম (আঃ) মত কাদা মাটি দিয়ে জন্ম নিব না সত্য, তবে আল্লাহ্ তা’আলা যে ভাবে চান সেভাবেই আমরা আবার হাশরের ময়দানে উত্থিত হবো। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়। (সুরা মূলক, আয়াত ২) এই কর্মের শ্রেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি গুরু অথবা লঘু শাস্তি দিবেন পরাক্রমশালীর ক্ষমতায় এবং ঐ রুপ কৃপাও করবেন ক্ষমাময়ের ক্ষমতায়। কারন তিনি বলেন, তিনি হলেন সর্বময় ক্ষমতার একছত্র মালিক। এই শাস্তি বা দয়া উভয় জগতেই বিদ্যমান থাকবে। তার অর্থ হোল দুনিয়াবী মৃত্যু কোন শেষ নিরাময় নয়! আবারও উত্থিত হতে হবে, যারা বলে প্রথম মৃতুই তাদের শেষ যবনিকা, কুরআন মাজীদে আল্লাহ্ তালা সুরা দুখান আয়াত ৩৪-৩৫ এ বলেন, নিঃসন্দেহ এরা তো বলেই থাকে, প্রথম মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের সবকিছুর অবসান হবে এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না। তারা কিন্তু বিরাট ভুলের মধ্যে আছে, আল্লাহ্ তা’আলা এই মর্মে বলেন, আপনি বলুন, (হে মুহাম্মদ) আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন
দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত (উত্থিত) করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। (সুরা জাথিয়া, আয়াত ২৬) সবার কর্মফল ঠিক ঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়ার পর আল্লাহ্ তা’আলা মৃত্যুকে অবসর দিয়ে দিবেন, অর্থ মৃত্যুরও মৃত্যু হবে। হাদিসটি এইরুপ, আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাতিদের জান্নাতে এবং জাহান্নামিদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন ‘মৃত্যু’কে গলায় কাপড় বেঁধে টেনে আনা হবে এবং জান্নাতি ও জাহান্নামিদের মধ্যখানের প্রাচীরে রাখা হবে। তারপর বলা হবে, হে জান্নাতবাসী! তারা ভয়ে ভয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর বলা হবে, হে জাহান্নামবাসী! তারাও সুসংবাদ মনে করে শাফাআত লাভের আশায় আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর জান্নাতি ও জাহান্নামিদের প্রশ্ন করা হবে, তোমরা কি একে চেনো? জান্নাতি ও জাহান্নামিরা বলবে, হ্যাঁ আমরা একে চিনে ফেলেছি। এটা ‘মৃত্যু’, যা আমাদের ওপর নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তারপর মৃত্যুকে চিৎ করে শোয়ানো হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যকার প্রাচীরের ওপর জবাই করা হবে। তারপর বলা হবে, হে জান্নাতিরা! তোমরা চিরকাল জান্নাতে থাকবে, এরপর আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামিরা! তোমরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, এরপর আর মৃত্যু নেই। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫৫৭) তা হলে প্রমাণিত হোল যে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ও জিন জাতির কালের পরিক্রমায় কোন মৃত্যু নাই, অতএব মানুষ ও জিন অমর।
এখন প্রশ্ন থেকে গেল মানুষ কোথায় অমরত্ব চায়? মানুষ দুনিয়াতে অমরত্ব চায় অথচ আল্লাহ্ তা’আলা মানুষকে অমরত্ব দিবেন পরকালে। মানুষ চিরাচরিত নিয়মে দুনিয়াতেই অমরত্ব চায় এবং তাহাও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, সে চায় পরবর্তী প্রজন্ম তাকে মনে রাখুক, তার কথা স্মরণ করুক, তার ক্রিয়াকর্মাদি নিয়ে আলোচনা করুক, সময়ের ব্যবধানে তাকে নিয়ে সাহিত্য রচনা করুক, তার ভাল দিক গুলি নিয়ে সভা, সিম্পজিয়াম হউক। আর খারাপদিক গুলি উপেক্ষা করা হউক। কিন্তু আসলে কি ঘটে! পক্ষে বিপক্ষে আলোচক থাকার কারনে কোন দিনও প্রশ্নাতীত ভাবে সে মানুষের নিরঙ্কুশ ভালবাসা পায় না, তবে তাতে তখন মৃত ব্যক্তির কিছু যায় আসে না। তবুও কেন যেন মানুষ মৃত্যুর পরেও দুনিয়ালোভী থেকে যায়। অথচ সবই মরীচিকা। মুসলমানদের তা চাওয়া একেবারেই উচিত না। সে জন্য দেখবেন মুসলিমদের কবরগুলো পর্যন্ত চিহ্নিত করার ব্যাপারে বারণ আছে। দুনিয়া তার জন্য কারাগার ছিল বটে, ক্ষণিকের অবস্থান তার জন্য গড়পড়তা আরাম আয়েশ বা দুঃখ কষ্টই ছিল, দুনিয়া কারও জন্য নিরবিছিন্ন সুখ বয়ে আনে নাই, কিন্তু সেও অমরত্ব লাভ করবে আখেরাতে এখানে হবে নিরবিছিন্ন আয়েশ অথবা কষ্ট।
আমাদেরকে ঐ চেষ্টা করা উচিত যেহেতু আমরা সবাই অমর হবই, যেন জান্নাতে যেতে পারি। জাহান্নামের অমরত্ব কেওই চাবে না, এমনকি কাফের সম্প্রদায়ও। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ হায়, আফসোস-আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম। (সুরা নাবা, আয়াত ৪০) এই অমরত্ব সে চায় না। আর ভেবে দেখুন দুনিয়ারও একদিন লয় আছে, ফলে দুনিয়াবি অমরত্ব স্বল্প সময়ের জন্য, আর আখিরাতের অমরত্ব সীমাহীন। সে জন্যই আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘হে নবী! তোমার পূর্বেও আমি কোন মানুষকে (দুনিয়াতে) অমরত্ব দান করিনি। তোমার মৃত্যু হলে ওরা কি চিরকাল বেঁচে থাকবে?’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৩৪) অমরত্বের ফল ভোগ করতে হবে আখিরাতে।
যে কথা বলে উপসংহার টানছি, স্মৃতি নির্ভর অমরত্ব দুনিয়াতে মৃত ব্যক্তির প্রাপ্তি বলে কিছুই নাই, বরং ভাল মন্দে মিশানো অথচ যে অমরত্ব আমাদেরকে পরকালে আমৃত্যু ভোগ করতে হবে তার জন্য চেষ্টা সাধনা করা উচিত এই জগতেই। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, (সুরা নাযিয়াত, আয়াত ৩৫)
মা’আসসালামাহ
মিজানুর রহমান ছিদ্দিকী
