Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমানুষ মন্দ লোকের সংস্পর্শ ত্যাগ করে

মানুষ মন্দ লোকের সংস্পর্শ ত্যাগ করে

কোমল আচরণ, সৌজন্যবোধ চারিত্রিক গুণাবলির অন্যতম। ইসলাম মানুষকে এই গুণগুলো অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেয়। যুগে যুগে আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলরা এই গুণের অধিকারী ছিলেন, তাঁরা কোমল আচরণের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দ্বিনের প্রতি আহ্বান করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর স্মরণ করো এই কিতাবে ইবরাহিমকে।

নিশ্চয় সে ছিল পরম সত্যবাদী, নবী। যখন সে তার বাবাকে বলল, ‘হে আমার বাবা, তুমি কেন তার ইবাদত করো যে না শুনতে পায়, না দেখতে পায় এবং না তোমার কোনো উপকারে আসতে পারে?’ হে আমার বাবা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। সুতরাং আমার অনুসরণ করো, তাহলে আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব। ’ ‘হে আমার পিতা, তুমি শয়তানের ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই শয়তান পরম করুণাময়ের অবাধ্য। ’ হে আমার বাবা, আমি আশঙ্কা করছি যে পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে) তোমাকে আজাব স্পর্শ করবে, ফলে তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে। সে বলল, ‘হে ইবরাহিম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ছেড়ে যাও। ’ ইবরাহিম বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল। ’ (সুরা : মরিয়ম, আয়াত : ৪১-৪৭)


উল্লিখিত আয়াতে ইবরাহিম (আ.)-এর কোমল আচরণ ও সৌজন্যবোধের অনন্য নজির ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর বাবাকে অত্যন্ত বিনয়ের সহিত দ্বিনের প্রতি আহ্বান করেছেন, প্রতি- উত্তরে তাঁর বাবা তাঁর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করলেও তিনি বিনয়ের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এটাই ইসলামের শিক্ষা। শুধু বাবা কেন, নবী-রাসুলরা নিকৃষ্টতম মানুষটির সঙ্গে সৌজন্য বজায় রেখে কথা বলতেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে আসার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তাকে অনুমতি দাও। সে বংশের নিকৃষ্ট ভাই অথবা বলেন, সে গোত্রের নিকৃষ্ট সন্তান। লোকটি ভেতরে এলে তিনি তার সঙ্গে নম্রতার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এ লোকের ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন। পরে আপনি আবার তার সঙ্গে নম্রভাবে কথাবার্তা বললেন। তখন তিনি বলেন, হে আয়েশা, নিশ্চয়ই সবচেয়ে খারাপ লোক সে-ই, যার অশালীনতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ তার সংসর্গ পরিত্যাগ করে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৫৪)

সমাজ ও পরিবারের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মহানবী (সা.) প্রতিবেশী ও নারীদের সঙ্গেও কোমল ও সৌজন্যমূলক আচরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত, আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদের অসিয়ত করা হলো নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য। (বুখারি, হাদিস : ৫১৮৫-৫১৮৬)

মহান আল্লাহ আমাদের এই মহৎ গুণ অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য