Monday, April 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমায়ের কোলেই ইসলামের দীক্ষা

মায়ের কোলেই ইসলামের দীক্ষা

আব্বাস (রা.)-এর মা উম্মুল ফজল বিনতে হারেস (রা.) ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমান হন। খাদিজা (রা.)-এর পরপরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কা বিজয়ের কিছুদিন আগে অষ্টম হিজরি সনেই তাঁরা সপরিবারে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। তখন তাঁর বয়স প্রায় ১১ বছর। ইবনে আব্বাস (রা.) সুরা নিসার ৭৫ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলতেন, এ আয়াতে যে দুর্বল নারী ও শিশুদের পক্ষে যুদ্ধ করতে বলা আছে, আমার মা ও আমিই হলাম সেই নারী ও শিশু। হিজরতের আগ পর্যন্ত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) মক্কার ভূমিতে মায়ের পরশে থেকে ইসলামের দীক্ষা গ্রহণ করেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই রাসুল (সা.)-এর পবিত্র মুখের থুতু তাহনিকস্বরূপ তাঁর মুখে প্রবিষ্ট হয়েছিল। সেই থুতুর সঙ্গে প্রবেশ করেছে তাকওয়া ও হিকমতও। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৩৮১)

হিজরতের পর তিনি প্রায় পৌনে তিন বছর রাসুল (সা.)-এর সাহচর্যে কাটান। এই বয়সের বাচ্চাদের স্বভাবগত আকর্ষণ থাকে খেলাধুলার প্রতি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাপারটা ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি খেলাধুলার পরিবর্তে সদা ছায়ার মতো প্রিয় নবীর সান্নিধ্যে থাকতেন। তাঁর জন্য অজুর পানির ব্যবস্থা করতেন। নবীজি নামাজে দাঁড়ালে তিনিও তাঁর সঙ্গে নামাজে দাঁড়াতেন। উম্মুল মুমিনিন মাইমুনা (রা.) তাঁর খালা হওয়ার কারণে অনেক সময় তাঁর ঘরেই তিনি রাত কাটাতেন। এই সুযোগে রাসুল (সা.)-এর অজুর পানি এগিয়ে দেওয়ার এবং তাঁর সঙ্গে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার সুযোগ গ্রহণ করতেন। সঙ্গে সঙ্গে গেঁথে নিতেন স্মৃতিপটে প্রিয় নবীর আমলি নকশা।

ঘুম থেকে উঠে তিনি কী করেছেন, কী দোয়া পড়েছেন, কিভাবে অজু করেছেন, কিভাবে কয় রাকাত নামাজ পড়েছেন ইত্যাদি। এভাবে তিনি রাসুল (সা.)-এর খিদমতের অসিলায় অর্জন করেছেন অনেক কিছু। ইলম ও হিকমতের দোয়া পেয়েছেন। একদা রাসুল (সা.) বাথরুমে গিয়েছেন। এদিকে তিনি রাসুল (সা.)-এর জন্য অজুর পানি প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রিয় নবী বাথরুম থেকে এসে অজুর পানি দেখতে পেলেন আর জানতে পারলেন, এ কাজ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস করেছেন। তখন প্রিয় নবী তাঁকে বুকে জড়িয়ে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! একে হিকমত দান করুন।’ অপর বর্ণনা মতে, ‘কিতাব তথা কোরআনের জ্ঞান দান করুন।’ অপর বর্ণনা মতে, ‘দ্বিনের বুঝ দান করুন।’ (বুখারি ১/২৬)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − 9 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য