যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়ায় এখন রক্ত জমাটবাঁধা শীত। ঘরবাড়ি হারিয়ে যারা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ঠাণ্ডার কষ্টে তাদের দিশেহারা অবস্থা। তাই ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে নানা ঝুঁকিপূর্ণ উপায় বেছে নিচ্ছেন তারা।
ইদলিবের একটি ক্যাম্পে থাকেন সিছরু শুকুর। তিনি যে ক্যাম্পটিতে থাকেন তার পাশেই একটি মিসাইল পড়া পেয়েছেন। সেটিকেই স্থানীয় এক কামারের মাধ্যমে হিটার বানিয়ে নিয়েছেন তিনি। কেননা, তার হিটার কেনার সামর্থ্য নেই।
ধারাবাহিক যুদ্ধ, দারিদ্র ও উপার্জনহীনতার কারণে সাধারণ সিরিয়ানদের পক্ষে ১০০ ডলার খরচ করে হিটার কেনা সম্ভব না। এজন্য মাত্র ১৫ ডলার খরচ করেই ২৮ থেকে ৩২ সিন্টিমিটারের মিসাইল ও রকেট দিয়েই তারা হিটার তৈরি করছেন। যেসব কামাররা এটি তৈরি করেন তারা অবশ্য খুব সতর্কতা অবলম্বন করে কাজটি করেন কিন্তু ঝুঁকি তো থেকেই যায়।
যেভাবে বানানো হয় হিটার-
কুড়িয়ে পাওয়া রকেট কিংবা মিসাইল থেকে সর্বপ্রথম খুব সতর্কতার সাথে ক্ষতিকর বারুদ ও জ্বালানি বের করা হয়। আর এই বারুদ সস্তা দরে বিক্রি করে দেয়া হয় খনিতে যারা কাজ করে তাদের কাছে। এতে হিটার বানাতে যে টাকা কামারকে দিতে হয় তার বেশকিছু অংশ বারুদ বিক্রি থেকেই চলে আসে। এরপরই কামার মিসাইলকে হিটার বানিয়ে ফেলেন। এভাবে খুব সহজেই রকেট ও মিসাইল হিটারে রূপান্তরিত হয়।
হিটারের জ্বালানি-
এরপর লাকড়ি, কাগজ, নাইলন ইত্যাদি দিয়ে হিটার জ্বালানো হয়। সাথে সিরিয়ান পাইরিন তেলও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা পাওয়া যায় খুব সহজেই। এক্ষেত্রে তারা কয়লাও ব্যবহার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ-
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিটার জ্বালানোর পুরো প্রক্রিটাই সীমাহীন ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, মিসাইলের কণাগুলো যে কোনো অনর্থ ঘটাতে পারে।
-সাইন্স ফর ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় ইদলিব থেকে পাকিস্তানি সাংবাদিক সোনিয়া আলির রিপোর্ট
