Friday, November 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ামু‘আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র মর্যাদা ও বিরুদ্ধবাদীদের অপনোদন।

মু‘আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র মর্যাদা ও বিরুদ্ধবাদীদের অপনোদন।

মু‘আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র মর্যাদা ও বিরুদ্ধবাদীদের অপনোদন।
.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা-র জন্য,
যিনি বলেছেন, , “যে ব্যক্তি আমার কোন অলীর (খাঁটি বান্দা) সাথে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করব।” — [সহীহ বুখারী, হা/৬৫০২]
সালাত ও সালাম বর্ষিত হউক প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি, যিনি বলেছেন, “যখন তোমরা এ ধরনের লোক দেখবে, যারা আমার সাহাবীকে মন্দ বলে, তখন তাদের উদ্দেশে বলে দাও, তোমাদের অনিষ্টের উপর আল্লাহর অভিশাপ হোক”। — [তিরমিযী : ২/২২৫]।
.
❒ প্রারাম্ভিকা,
.
অসংখ্য শান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন কুরাইশ বংশের অভিজাত পরিবারের সন্তান, অহীর লিখক, মুমিনগণের মামা,সম্মানিত সাহাবী আমীরুল মু’মিনীন ‘মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)। তিনি ৬০৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবিবাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’র) সহোদর ভাই ছিলেন। যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর স্ত্রীগণকে মুমিনদের মা বলে আল্লাহ্ তাআ’লা ঘোষণা করেছেন, সে হিসেবে উনাকে মুমিনগণের মামা বলে ডাকা হয়। তিনি মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে ইসলাম প্রকাশ করলেও মূলত হিজরতের আগেই তিনি গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ জন্যই তিনি বদর, ওহুদ, খন্দকসহ কোনো যুদ্ধেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসেননি। আল্লাহর ওলী মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) আল্লাহপ্রদত্ত অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে তিনি এতই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন যে তিনি তাঁকে ওহী লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ফক্বিহ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পর সমাচার এই যে, দ্বীন কায়েম, খিলাফত প্রতিষ্ঠা, ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কথিত ‘ইসলামী আন্দোলন’ এর মতাদর্শ প্রচারকারী গোমরাহ ও উনবিংশ শতাব্দীর কতিপয় চিন্তাবিদদের কলমের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে এই মহান সাহাবীর মান ও শানকে। গনতন্ত্র পুজারী ও রাজতন্ত্র বিরোধীরা ইয়াজিদকে কেন্দ্র করে এই মহান সাহাবীর শানে অপবাদ, মিথ্যাচার, গালিগালাজসহ এমন কোনো জঘন্য কুটুক্তি নেই যা করেনি। তাদের চিন্তাবিদের কিতাবাদিই এর সাক্ষ্য প্রদান করে। খুব সম্ববত এইজন্যই রাফেযীরা বলত “আমাদের এক খোমেনী তেহরানে আর আরেক খোমেনী মুলতানে”।
.
❒ রাসূলের চোখে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু):
.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র জন্য এভাবে দো’আ করে বলেন, “”হে আল্লাহ্ তাঁকে পথ প্রদর্শক ও পথপ্রাপ্ত করে দাও এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষকে হিদা’আত দান করো। — [জাওয়ামিউস সাহীহ, ২ / ২৪৭]। অন্যত্র বলেন, “হে আল্লাহ ! আমার মু’আবিয়াহকে হিসাব ও কিতাবের জ্ঞান দান করো এবং (জাহান্নামের) আযাব থেকে তাঁকে রক্ষা করো।” — [উসদুল গাবাহ : ৪ / ৩৮৬]।
.
মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর ওজুর পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘হে মু’আবিয়াহ ! যদি তোমাকে আমীর নিযুক্ত করা হয়, তাহলে আল্লাহকে ভয় করবে এবং ইনসাফ করবে।’ আমীরে মু’আবিয়াহহ বলেন, ‘সেদিন থেকেই আমার বিশ্বাস জন্মেছিল যে, এ কঠিন দায়িত্ব আমার ওপর এসে পড়বে’। — [মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯৩৩]।
.
নোট : “রাজতন্ত্র হারাম ” ফাতাওয়া বিলিকারীদের
বিরুদ্ধে এটাও একটা শক্ত দলিল। কারণ, মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) যে মুসলিমদের আমীর হবেন তার ভবিষ্যতবাণী খোদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করে গেছেন। তাছাড়া মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) নিজেই বলেছেন, “আমিই (উম্মতে মুহাম্মাদীর) রাজাদের মধ্যে প্রথম রাজা। — [রিসালাহ : ১/৯৬]।
.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত, একদিন জিবরাঈল (আ.) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! মু’আবিয়াহ-কে সদুপদেশ দিন, কেননা সে আল্লাহর কিতাবের আমানতদার ও উত্তম আমানতদার’। — [আল মুজামুল আওসাত: ৩৯০২]। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লেখকদের মধ্যে যায়েদ বিন সাবেত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সর্বাধিক হাজির থাকতেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিল মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)। দিনরাত দু’জন ছায়ার মত রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে লেগে থাকতেন। এছাড়া আর কোন দায়িত্ব তাঁদের ছিল না। — [জাওয়ামিউস সাহীহ : ২৭]।
.
❒ সাহাবায়ে-কেরামের চোখে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) :
.
একদা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-র উপস্থিতিতে
মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) -এর সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা শুরু হলে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “যে কুরায়েশী যুবক চরম ক্রোধের মুহূর্তেও হাসতে পারে, যার হাত থেকে স্বেচ্ছায় না দিলে কিছু ছিনিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং যার শিরস্থান পেতে হলে পায়ে লুটিয়ে পড়া ছাড়া উপায় নেই (অর্থাৎ সহনশীলতা, সাহসিকতা ও আত্মসম্মানবোধে যে যুবক অতুলনীয়) তোমরা কিনা তারই সমালোচনা করছ!”? —- [আল ইসত’আব : ৩/ ৩৭৭]।
.
ইমাম ইবন কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, সিফফীন যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে আপন অনুগামীদের লক্ষ্য করে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “হে লোক-সকল! মু’আবিয়াহ-র শাসনকে তোমরা অপছন্দ করো না। কেননা তাঁকে যেদিন হারাবে সেদিন দেখবে, গাড় থেকে মুন্ডগুলো হানযাল ফলের মত কেটে কেটে পড়ে যাচ্ছে। — [আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ : ৮/ ১৩১]।
মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) -র সমালোচকদের মুখে চপেটাঘাত করে রইসুল মুফাসসিরীন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন ,”তিনি (মুআবিয়াহ) একজন ফক্বীহ (সুতরাং, তার সমালোচনার অধিকার তোমার নেই)”— [আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: :৮/ ৩১]। তিনি আরও বলেছিলেন, মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন। ( তিনি একজন সাহাবী, অর্থাৎ কোন অধিকারে তুমি তাঁর সমালোচনা করছো) ? —- [আল ইসাবাহ : ৩/ ৪১২, বুখারী : ১/ ৫৩১ দ্রঃ ]।
.
❒ তাবেয়ীনদের চোখে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) :
.
ইমাম ইবন কাসির (রাহিমাহুল্লাহ্) বর্ননা করেন, উমর বিন আব্দুল আজীজ (রাহিমাহুল্লাহ) -কে আমি কখনও কাউকে দোররা লাগাতে দেখিনি। তবে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র সমালোচনা করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে দোররা লাগাতে দেখেছি”। — [আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ : ৮/ ১৩৯]।
.
ইমাম ইবন কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন, সুপ্রসিদ্ধ তাবেঈ আবদুল্লাহ ইবন মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে তিনি বলেন,”বাহ, এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কি মন্তব্য করতে পারি, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর পিছনে নামায পড়েছেন এবং তাঁর সামিয়াল্লাহু-লিমান হামিদার জবাবে রাব্বানা লাকাল হামদ বলেছেন”? — [আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ দ্রঃ]।
.
উনাকে আরো জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) সম্পর্কে কী বলেন? অর্থাৎ আপনার কাছে কে উত্তম? মু’আবিয়াহ নাকি উমার ইবন আবদুল আজিজ?” উত্তরে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী। মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর নাকের ছিদ্রের ধুলাও উমার ইবন আবদুল আজিজের পুরো জীবনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।” —- [তারিখে দামেস্ক : ৫৯/২১১]।
.
প্রায় একই প্রশ্ন করা হয়েছিল মুয়াফাহ ইবন ইমরান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে)। তিনিও রাগত স্বরে প্রশ্নকারীকে জবাবে বলেন, “আশ্চর্য ! একজন তাবেঈ কোন সাহাবীর চেয়ে উত্তম হতে পারেন কি করে? তদুপরি মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) হলেন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশিষ্ট সাহাবীদের একজন। তাঁর বোন হলেন নবীর স্ত্রী এবং মুমিনদের মা। আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব তিনি আঞ্জাম দিয়েছেন। সুতরাং মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের যে স্বর্ণশিখরে তিনি সমাসীন, কোন তাবেয়ীর পক্ষে তা কল্পনা করাই বা সম্ভব কিভাবে ? — [তারিখে দামেস্ক দ্রঃ ]।
.
❒ মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে যারা গালি দিবে তাদের শাস্তি :
.
ইমাম ইবন আসাকির ‘(রাহিমাহুল্লাহ) বর্ননা করেন,
قيل للحسن: يا أبا سعيد إن ههنا قو ما يشتمون يلعنون معاوية فقال: على اولتك الذين يلعنون لعنة الله
হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আবু সাঈদ! একদল লোক রয়েছে হযরত আমীরে মু’আবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে গালিগালাজ করে ও অভিশাপ দেয়, তখন হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, যারা এরূপ আচরণ করে তাদের উপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ)। — [তারিখে দামাস্ক, ৫৯ / ২১১, কিতাবুশ শরীয়াহ, ৫/২৪৬৭ ]।
.
কাদ্বী আইয়্যাদ্ব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম মালেক ইবন আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
قال مالك رحمه الله من شتم أحدا من اصحاب النبى أبا بكر أو عمر او عثمان او على او معاوية او عمر بن العص فبان قال: كانوا على ضلال و كفر
যে কেউ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের আবু বকর, উমার, উসমান, ,মু’আবিয়াহ, অথবা আমর ইবন আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-সহ যেকোন একজনকেও গালি দেয় তবে তাকে হত্যা করো, যদি সে বলে যে তারা পথভ্রষ্ট অথবা কুফরে পতিত হয়েছিল। আর যদি সে অন্যভাবে গালি দেয় লোকেরা যেমন একে অপরকে অভিশাপ দেয়, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তি প্রদান করো। — [আশ-শেফা ২/ ৪৯৩]।
তারপর প্রশ্নকারীকে তিনি নিম্নোক্ত হাদীস শুনিয়ে দিলেন, “আমার সাহাবা ও আহলে বায়াতকে যারা গালমন্দ করে তাদের প্রতি আল্লাহর আভিশাপ”— {আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৮/ ১৩৯ ]।
.
ইমামু আহলিস সুন্নাহ আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) স্বীয় সনদে আবু হামালাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, ‘আমি দামেস্ক শহরে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে দেখেছি তালিযুক্ত কাপড় পরে মিম্বরে দাঁড়িয়ে জনসম্মুখে ভাষণ দিচ্ছেন।’ — [আয-যুহুদ : ১৭২ ]।
.
❒ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী :
.
উম্মে হারাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে যে সৈন্য দলটি সর্বপ্রথম নৌ অভিযানে অংশ নেবে তারা নিজেদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে নিয়েছে।’ — [বুখারী : ২৯২৪, ফতহুল বারী : ৬/১২১৭]।
উপরিউক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাল্লাব (রাহিমাহুল্লাহ ) বলেন, ‘হাদিসটিতে মু’আববিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) এর সুমহান মর্যাদা স্বীকৃতি স্বরুপ বর্ণিত হয়েছে। কেননা মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-ই ছিলেন ঐ বাহিনীর সিপাহসালার’। —- [ফাতহুল বারী : ৬/১০২]।
.
❒ মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র বিদ্বেষীদের অপনোদন :
.
ইমাম ইবন কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
وقول المعتزلة: الصحابة عدول إلا من قاتل علياً -: قول باطل مرذول ومردود.
“আর মু’তাজিলাদের কথা যে, সাহাবায়ে কেরামগণ ন্যায়নিষ্ঠ তবে যারা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)- এর সাথে যুদ্ধ করেছেন তারা ন্যায়নিষ্ঠ নন: তাদের এ দাবীটি বাতিল, ঘৃণিত এবং অগ্রহণীয়। – [আল-বায়িছুল হাছীছ ইলা-ইখতিছারি উলুমিল হাদীস, ইবন কাছীর, ১৮২, ১৮১]।
.
ইমাম ইবনুল আছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
وكل هذا جُرأة على السلف تخالف السنة، فإن ما جرى بينهم كان مبنيًا على الاجتهاد، وكل مجتهد مصيب، والمصيب واحد مثاب، والمخطئ معذور، لا تردُّ شهادته.
‘এসব পুরোটাই সালাফের বিপরীত স্পর্ধা প্রদর্শন এবং সুন্নাহ বিরোধী কাজ। কেননা, তাদের মাঝে যা কিছু সংঘটিত হয়েছে তা ছিল ইজতিহাদ নির্ভর। আর প্রতিটি মুজতাহিদই সওয়াব পায়। যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারেন, তিনি সওয়াব পান, আর যিনি ভুল করেন, তারাও এতে মাজূর। তাদের সাক্ষ্য অগ্রহণীয় নয়। — [জামেউল উসূল ফী আহাদিসির রাসূল, ইবনুল আছীর জাযার, ১/১৩৩, ১/৭৪ ]।
.
❒ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র মধ্যকার বিরোধ ও ভালবাসা :
.
আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) যেমন মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-র অনেক প্রশংসা করেছেন, ঠিক তেমনি মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)-ও আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আমার চেয়ে অধিকতর ভাল এবং উত্তম গুণসম্পন্ন। আমি কেবল উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর কিসাসের ব্যাপারে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করি। যদি সে উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর রক্তের কিসাস আদায় করে, তবে সিরিয়া বাসীদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তার কাছে বাইয়াত নিব।” — [আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়াঃ ৭/১২৯, ২৫৯]।
.
জীবনের শেষ খুতবাতে মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন, “হে লোকেরা! আমার পুর্ববর্তীগন যেমন আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন তেমনি আমার পরে কেউ আমার চেয়ে উত্তম হবে না।“— [ইবনুল আছির, আল কামিল : ২/ ৪]।
ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বিশুদ্ধ সুত্রে বর্ননা করেন, “আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর শাহাদাতের খবরে মু’আবিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, ”আপনি কাঁদছেন!? অথচ তাঁর সাথে তো আপনার কতক বিষয়ে দ্বন্দ্ব ছিল! জবাবে মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “পোড়ামুখী! তুমি জানো না, মহত্ত্ব, ফিক্বাহ আর ইলমের কি অমুল্য সম্পদ মানুষ হারালো।”– [ আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ : ৮/ ১৩০]
.
এরকম অসংখ্য হাদিস সাহাবা, তাবেয়ীন ও ইমামগনের প্রশংসামুখর অভিমত রয়েছে আল্লাহর অলী, মুমিনগণের মামা মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-র শানে। সর্বশেষ, এই মহান সাহাবীর শানে কটুবাক্য প্রয়োগকারীদের ব্যাপারে উনার নিজেরই একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি : একদা জৈনক ব্যক্তি মজলিসে বসে মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-র তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেন। সমালোচনাকারীর কিছু কটু কথা তিনিও শুনতে পান। কিন্তু তিনি লোকটিকে কিছুই বলেননি। লোকজন মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করল, আপনি তো লোকটিকে পরাভূত করতে পারতেন ? জবাব মুআবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ”আমি কোনো অধীনস্থ লোকের অন্যায়ের কাছে আমার সহনশীলতা সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আল্লাহর কাছে লজ্জাবোধ করি।” —- [আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ : ৮/১৪৫ ]।
.
আল্লাহ্ তাআ’লা আমাকেসহ আমাদের সকলের জিহবাকে সাহাবায়ে কেরামের শানে কটুকথা, তোহমত, মিথ্যাচার, তীর্যক মন্তব্য করার মত জঘন্য কাজ থেকে হিফাযত করুক — আমীন ইয়া রা’ব্বাল আ’লামীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − fourteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য