Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজযুগে যুগে ভাষার জন্য আন্দোলন

যুগে যুগে ভাষার জন্য আন্দোলন

আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অধিকাংশ সময় আজগুবি কথা, মিথ্যা তথ্য বা আবেগী গল্পের সমাহার থাকে ৷ একুশে ফেব্রুয়ারিও এ থেকে মুক্তি পায়নি ৷ একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে কোটি কোটি কন্ঠে উচ্চারিত হয়, “…… ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি ৷” কথাটির সারমর্ম দাঁড়ায় একুশে ফেব্রুয়ারিতে শত মায়ের সন্তান নিহত হয়েছে ৷ কিন্তু সালাম, বরকত, রফিক, জাব্বার, শফিউর এই পাঁচজন ব্যতিত আর কারো নামই ভাষা আন্দোলনে নিহতদের (আল্লাহ তাদের শহিদ হিসেবে কবুল করুক) তালিকায় পাওয়া যায় না ৷

ভাষা আন্দোলনে নিহতদের নিয়ে লেখক ও রাজনৈতিক ইতিহাসবেত্তা মহিউদ্দিন আহমেদ “আমাদের ভাষা শহীদ আসলে কত জন?” নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, অনলাইনের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখাটি পাওয়া যায় ৷ তিনি সেখানে সর্বোচ্চ চল্লিশ জন নিহত হওয়ার কথা বলেছেন, তবে এই চল্লিশজনের বিষয়টি নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ৷ যদি আমরা চল্লিশ জন নিহত হওয়ার তথ্যকেও সত্য ধরে নেই, তাহলে চল্লিশ জন আর শত জন কি সমান?

যদি একজন মানুষকেও পুলিশের গুলিতে হত্যা করা হয় সেটি অবশ্যই জঘন্য, নিন্দনীয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ; হোক সেটা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পুলিশ বা বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ ৷ পানির সাথে মদ মিশালে পানির যেমন মর্যাদা থাকে না, সত্যের সাথে মিথ্যা যুক্ত করলে সত্যটাই বিলুপ্ত হয় ৷ ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া আমরাই প্রথম এবং একমাত্র জাতি, এটিও আমাদের মিথ্যা দাবি ৷ ভারতবর্ষে প্রথম ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয় ১৯৩৭ খ্রীস্টাব্দে তামিল নাড়ুতে ৷

ব্রিটিশ ভারতের তামিল নাড়ু রাজ্য ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সীতে কংগ্রেস সরকার গঠনের পরেই স্কুলে হিন্দি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করলে শুরু হয় তীব্র আন্দোলন । চলমান আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে ৷ আন্দোলন দমনের জন্য ১৯৩৯ সালে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৷ এসময় নিহত হয় ২ জন , নারী ও শিশুসহ ১১৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং এদের মধ্যে ১১৭৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় ৷ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৩ জন মায়ের সাথে ৩২ শিশুকেও জেল জীবন বরণ করতে হয় । ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫০-৫১ শিক্ষাবর্ষে হিন্দিকে ঐচ্ছিক করা হয় ৷

ভারতের তেলেগু, কান্নাড়া, কঙ্কাই, কোলশি, পাঞ্জাবী, ওড়িয়া, বিষ্ণুপ্রিয়া সহ বিভিন্ন ভাষাভাষির লোকদেরও ভাষার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে ৷ ১৯৬১ সালে তৎকালীন প্রাদেশিক সরকার অহমীয় ভাষাকে আসামের একমাত্র সরকারি ভাষা ঘোষণা করার ফলে সেখানকার জনগণ আন্দোলন শুরু করে ৷ এই আন্দোলনে প্রাণ হারান ১১ জন । ভারতে ভাষার জন্য সবচেয়ে বড় আন্দোলন হয় ১৯৬৫ সালে ৷ হিন্দিকে একমাত্র সরকারি ভাষা ঘোষণা দেওয়া হলে ১৯৬৫ সালের ২৬ জানুয়ারি তীব্র আন্দোলন শুরু হয় । দলে দলে মানুষ রাজপথে নেমে আসে । প্রায় দুই মাস ধরে সহিংসতা চলে দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে মাদ্রাজে ১০০-৫০০ লোক প্রাণ হারায় ।

দক্ষিণ আফ্রিকাতেও ভাষার জন্য ছাত্ররা আন্দোলন করেছে ।  ১৯৭৬ সালে ১৬ জুন গাউটাংয়ের জোহানেসবার্গ শহরের সোয়েটোতে এ আন্দোলন সংঘটিত হয় ৷ আফ্রিকান ভাষায় (দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত শ্বেতাঙ্গ ডাচদের জার্মান-ডাচ ভাষার মিশ্রণ) শিক্ষাদান স্কুলে বাধ্যতামূলক করলে স্কুলের শিশু–কিশোরেরা এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে—কারণ তারা মাতৃভাষা জুলু এবং ব্যবহারিক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ইংরেজিতে শিক্ষা নিতে বেশি আগ্রহী ছিল । এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ সভা ডাকা হয় । এতে যোগ দেন সাধারণ নাগরিক ও অভিভাবকেরাস। প্রতিবাদ সভায় যাওয়ার মুহূর্তে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে ২০০ জনের বেশি নিহত হয় । নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ স্কুলছাত্র ।

১৯৮০ সালের ২০ মে এবং ১৯৯৫ সালের ৩০ অক্টোবর ভাষার জন্য আন্দোলন সংঘটিত হয় কানাডায় । ভাষার প্রশ্নে কুইবেক রাজ্যের ফরাসিভাষীরা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র চেয়েছিলো । তবে সেই আন্দোলন খুব একটা জোরদার হয়নি । এ ছাড়া, বেলজিয়াম, স্পেন, তাইওয়ান, ইউরোপের বলকান অঞ্চলসহ আরও বেশ কিছু জায়গায় ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছে এবং হচ্ছে । কোথাও সহিংস আবার কোথাও হয়েছে অহিংস আন্দোলন । ভাষা আন্দোলনে আমরাই প্রথম বা শেষ নয় ৷ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র জিন্নাহকে দায়ী করা আমাদের আরেক অজ্ঞতা ৷

দিল্লী ও এর আশপাশের ভাষাকে মধ্যযুগে “হিন্দুস্তানি” বলা হতো ৷ খড়ি বোলি বা খাড়ি বুলি থেকে উদ্ভুত একটি ইন্দো আর্য ভাষা । সুলতানি ও মুঘল আমলে প্রায় ৬০০ বছর ধরে ফার্সি ছিল দিল্লীর রাজদরবারের দাপ্তরিক ভাষা । ফলে মুঘল আমলের শেষদিকে এসে দেখা গেল কথ্য হিন্দুস্তানিতে প্রচুর ফার্সি শব্দ ঢুকে গেছে । এই কথ্য ভাষাটাকে মুঘলরা ফার্সি বর্ণমালায় লিখে একটা প্রামাণ্য রুপ দিল যার নাম হলো উর্দু ৷ ইংরেজ ক্ষমতায় এসে দাফতরিক ভাষা হিসেবে ইংরেজী চালু করলো ৷ কিন্তু অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তারা বোঝতে পারলো বহু ভাষাভাষি মানুষের দেশ ভারতকে শাসন করার জন্য একটি মাত্র ভাষা ইংরেজির প্রচলন কঠিন, অসম্ভব ও অবাস্তব ৷

ইংরেজ শাসিত ভারতে জনসাধারণের ভাষা বা মূল ভাষা কি হবে এটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে ৷ দিল্লীর (বা আশপাশের) সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা মূলত উর্দু ৷ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর পিতা মতিলাল নেহেরুর মাতৃভাষা ছিল উর্দু এবং তিনি ছিলেন উর্দু ভাষার একজন সাহিত্যিক ৷ উত্তর ভারতের অনেক এলাকায় হিন্দু মুসলিম নির্বেশেষে সবাই উর্দুতে কথা বলে এবং উত্তর প্রদেশের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হচ্ছে উর্দু । ১৮৩৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুকে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় তাদের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করে ।

ডিভাইড এ্যান্ড রুল নীতিতে ধর্মীয় বিদ্বেষের বীজ যখন চারা হয়ে বেড়ে উঠছিল ঠিক সেই সময়েই তারা ভাষা বিদ্বেষের বীজ বপন করে ৷ হিন্দুস্তানের ভাষা ফার্সি প্রভাবিত আরবি হরফে লিখলে তা উর্দু । আর হিন্দুস্তানি ভাষা দেবনাগরি (সংস্কৃত) লিপিতে লিখলে তা হিন্দি । আরবি এবং ফারসির মতো উর্দু ডান দিক থেকে লিখতে হয়, হিন্দি বাম দিক থেকে ৷ উর্দুকে দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করায় হিন্দুত্ববাদীরা প্রবল আপত্তি জানায় । তারা প্রস্তাব দেয় হিন্দুস্তানিকে অবশ্যই একটি “দেশী” বর্ণমালায় লিখতে হবে, বিদেশী (আরবি-ফারসি) শব্দের পরিবর্তে তুল্য দেশী শব্দ ব্যবহার করতে হবে ।

উনিশ ও বিশ শতকে বেশ কিছু হিন্দি আন্দোলন সংঘটিত হয় । যেমন ১৮৯৩ সালের বেনারসের নাগরি প্রচারণী সভা, ১৯১০ সালে এলাহাবাদের হিন্দি সাহিত্য সম্মোলন ও ১৯১৮ সালের দক্ষিণা ভারত হিন্দি প্রচার সভা । ১৮৮০ সালকে হিন্দি ভাষার জন্মসাল হিসেবে ধরা হয় । ১৮৮১ সালে ফারসি হরফে উর্দুর পরিবর্তে দেবনাগরি লিপিতে হিন্দিকে বিহারের সরকারি ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয় ৷ ১৯০০ সালে উর্দুর পাশাপাশি হিন্দিও হয় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার দাপ্তরিক ভাষা ।

ব্রিটিশরা যাওয়ার আগে থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের সরকারি ভাষা কী হবে তা নিয়ে দুই দেশেরই রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকে । দুটিই বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ ৷ হিন্দি ও উর্দু কোনো দেশেরই সর্বজনীন ভাষা নয় ৷ ভাষা যেহেতু জাতি গঠনের মাধ্যম হিসেবে অন্যন্য অবদান রাখতে সক্ষম, তাই এক ভাষার মাধ্যমে এক জাতিতে পরিণত করা সহজ ৷ সে ধারণা থেকে মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর অনুসারীদের প্রস্তাব হিন্দি হবে ভারতের সরকারি ভাষা ৷ জিন্নাহর ইচ্ছা উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ৷ পাঞ্জাবি, সিন্ধি, বেলুচ, পাখতুন ও বাংলা এই পাঁচ ভাষার মানুষকে নিয়ে এক জাতি গঠনের লক্ষ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৷

পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের দাবী ছিল বাংলাকেও রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিতে হবে ৷ জিন্নাহ ছিলেন বাস্তববাদী মানুষ ৷ তিনি ভাবলেন, বাংলা যেহেতু অন্যান্য প্রদেশের মানুষের বোধগম্য ভাষা নয়; বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করলে অন্যান্য প্রদেশের ভাষাকেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে হবে ৷ উর্দু যেহেতু কোন একটি নির্দিষ্ট প্রদেশের ভাষা নয়, তাই উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিলে কোন বিরোধীতা হবে না ৷ জিন্নাহর ধারণা একেবারে অমূলক ছিল না ৷ এখন যেমন বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতারা ভারতে গিয়ে হিন্দিতে কথা বলে, সে সময়ের বাঙালিরা বাংলার বাইরে কথা বলতো উর্দুতে ৷

জিন্নাহ’র মাতৃভাষা ছিল গুজরাটি ৷ বাঙালি নেতারা তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন উর্দুতে ৷ এতে তাঁর ধারণা হয়েছিল, পূর্ব বাংলার লোকজন বাংলায় কথা বললেও উর্দু বোঝে ও বলতে পারে ৷ গান্ধী ছাড়া সবার সঙ্গেই তিনি ইংরেজিতে কথা বলতেন ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র ভাষার ঘোষণাটিও তিনি ইংরেজীতেই দিয়েছিলেন ৷ খুবই বুদ্ধিমান মানুষ, কিন্তু এখানেই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিলেন । বাংলার মানুষের কাছে যে বাস্তবতার চেয়ে আবেগের মূল্য বেশি, সেটি সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না ৷ পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় রাষ্ট্র ভাষা মীমাংসার হওয়ার আগেই ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করেন । ভাষা আন্দোলনে নিহতদের সাথে জিন্নাহর কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলো না ৷

গবেষকদের মকে বিশ্বের মোট ভাষার সংখ্যা ৭০৯৭ টি ৷ গত ৬০ বছরে বিলুপ্ত হয়েছে প্রায় ২৫০টি ভাষা ৷ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাকেন্দ্রীক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২১১৫ সালে পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে মাত্র ৬০০টি ভাষা এবং প্রতি ১৪ দিনে পৃথিবী থেকে একটি করে ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে । ইংরেজি আংকেল/ আন্টির প্রভাবে আমাদের মামা, চাচা, খালু, ফুফা, মামী, চাচী, খালা, ফুফা শব্দগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ৷

হিন্দি চ্যানেলের প্রভাবে আবদুল আলিম, আব্বাস উদ্দিনের পল্লী গীতি এখন বিস্মৃত ৷ প্রতিটি ঘরে ঘরে হিন্দি সিরিয়ালের ছড়াছড়ি ৷ হিন্দি পারে না, বা বোঝে না এমন শিক্ষিত লোক বাংলাদেশে খুব কম আছে ৷ ফার্সী বাদ দিয়ে কামাল আতাতুর্ক যেভাবে ইউরোপের বর্ণমালায় তুর্কিদের লিখতে ও পড়তে অভ্যস্ত করেছিলো, অদূর ভবিষ্যতে এ দেশের জনগণ হিন্দি শব্দ বা বর্ণে অভ্যস্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই ৷ যে কাজ পাকিস্তানীরা জোর করে পারেনি তা এখন আমরা আপোষোই গ্রহণ করেছি ৷ জোসেফ স্ট্যালিন এবং মাও সেতুং কে নিয়ে একটা কৌতুক আছে—

স্ট্যালিন এবং মাও সেতুং এর মাঝে আলাপের এক পর্যায়ে স্ট্যালিন মাও -কে বললেন, “কমরেড , বিড়ালকে আপনি কিভাবে মরিচ খাওয়াবেন?”

উত্তরে মাও বললেন, “প্রথমত: বিড়ালকে শক্ত করে ধরে খাওয়াতে পারি এবং দুই, মাছের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে খাওয়াতে পারি ৷”

মাও-এর কথা শুনে স্ট্যালিন বললেন, “কমরেড মাও, আপনি বিড়ালকে মরিচ খাওয়ানোর জন্য যে দুটো পদ্ধতির কথা বললেন আমাদের নীতিতে সে দুটো পদ্ধতিই ভুল । প্রথমটা হচ্ছে দমন মূলক এবং দ্বিতীয়তা হচ্ছে প্রতারনামূলক ।”

স্ট্যালিনের কথা শুনে তখন মাও বললেন, “কমরেড, তাহলে আপনি কিভাবে বিড়ালকে মরিচ খাওয়াবেন?”

উত্তরে স্ট্যালিন বললেন, “আমি মরিচটা আগে বেটে নেবো । তারপর বিড়ালের লেজে মেখে দেবো । যখন জ্বালা-পোড়া করবে তখন ঠান্ডা করার জন্য বিড়াল আস্তে আস্তে জিহ্বা দিয়ে চাটতে থাকবে । এইভাবে বিড়াল ধীরে ধীরে মরিচটা খেয়ে নেবে ।”

উর্দু জোর করে খাওয়াতে চেয়েছিলো বলে আমরা খাইনি, হিন্দি আমাদের লেজে বেটে দেওয়া হয়েছে ৷ চাটতে চাটতেই আমরা তাই খাব ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য