যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে রমজান সিরিয়ান মুসলিমদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসত। তারা পরস্পরকে অভিনন্দন জানাত। রমজানের আগেই প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে রাখত। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দমুখর রমজান উদযাপন করত তারা।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি চিত্র সিরিয়ার রমজান-সংস্কৃতি বদলে দিয়েছে। রমজান এখন তাদের অতীতের স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তা থেকে পৃথক কিছু না। কেননা বেশির ভাগ সিরিয়ান নাগরিকই বিপর্যয় ও ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে। যুদ্ধ তাদের পরিবার ও ঘর-বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, তাদের জীবন ও জীবিকা ধ্বংসের মুখে ফেলে দিয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দামেস্কের বহু দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানদার জর্দান ও লেবাননের মতো জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে সিরিয়ায় অস্বাভাবিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফল ও সবজির জন্য অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও বহু পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে গেছে। ফলে পরিবারপ্রধানরা রমজানের আগমনে আনন্দের পরিবর্তে উদ্বেগ অনুভব করেন। সিরিয়ায় রমজান উদযাপনে ধর্মীয় উদারতা ছিল গৌরবময় ঐতিহ্য। বহু অমুসলিম রমজানের ইফতার-সাহরির আয়োজনে যুক্ত হতো। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মানুষ সমবেত হতে ভয় পায়।
সিরিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্য ঈদের তোপধ্বনি এখন আর শোনা যায় না। বিগত পাঁচ বছর তোপধ্বনির পরিবর্তে সিরিয়ানরা ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে থাকে। পরিবারের সবাই মিলে ইফতার করা বা ইফতার শেষে মসজিদে তারাবি নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতেও ভয় পায় তারা। তবে সাধারণ এই চিত্রের বিপরীত কিছু চিত্রও দেখা যায় সিরিয়ায়। রমজান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমরা সমবেত হয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। তারা পরস্পরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর বসবাস করেও তারা সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বার্তা পৌঁছে দিতে ভোলে না। এ ছাড়া রমজানে প্রতিবেশী আরব ও অনারব দেশগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের ত্রাণতৎপরতা বৃদ্ধি করে। এতে সীমান্তবর্তী মুসলিমরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়।
তথ্যসূত্র : এইউএস রিলিফ
