Monday, September 7, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকযুদ্ধবিরতির প্রতীক্ষায় গাজার ফিলিস্তিনিরা, নিহত ৪৭ হাজার ছুঁই ছুঁই

যুদ্ধবিরতির প্রতীক্ষায় গাজার ফিলিস্তিনিরা, নিহত ৪৭ হাজার ছুঁই ছুঁই

গাজার ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধবিরতির অপেক্ষায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮:৩০ (০৬:৩০ জিএমটি) থেকে কার্যকর হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিরা তাদের যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে তা নিয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরতে চাইছেন।তবে এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ চলছে।

অবরুদ্ধ গাজায় গত ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের সংখ্যা ৪৭ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।দীর্ঘ ১৫ মাসের এই হামলায় আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ২৩ জন নিহত এবং আরও ৮৩ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক হতে পারে। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী না হয়, তবে গাজায় পুনরায় লড়াই শুরু করার জন্য তার কাছে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রশাসনের সমর্থন রয়েছে।

এই যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই বন্দিমুক্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এতে তিনজন ইসরায়েলি বন্দি এবং প্রায় ৯৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাবে। এরপর আরও বন্দি বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইসরায়েলের গাজা অভিযান এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬,৮৯৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং আহত করেছে ১,১০,৭২৫ জনকে। অন্যদিকে, হামাস পরিচালিত আক্রমণে ইসরায়েলে নিহত হয় ১,১৩৯ জন এবং ২০০ জনেরও বেশি বন্দি হয়।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার এক নতুন আশার আলো। তবে এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা ও সহযোগিতার উপর। তথ্যসূত্র :আল-জাজিরা,আনাদোলু এজেন্সি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 − five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য