রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের আহ্বানে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদে একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সোমবার জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের ৪৭-তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
এই প্রথমবারের মতো জাতিসঙ্ঘ ফোরামে বিনা ভোটে রোহিঙ্গাবিষয়ক কোনো রেজুলেশন সবার সম্মতিতে গৃহীত হলো। এমনকি ২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নির্যাতন চলছিল তখনো রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনো রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়নি।
জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সব পক্ষকে একমত করানোর জন্য প্রথম থেকেই সব স্থরে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। অবশেষে কোনো রাষ্ট্রই এই রেজুলেশনের বিরোধিতা করেনি, যেটি বাংলাদেশের কূটনীতির একটি বড় অর্জন।’
এর আগে গত ১৬ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কাউন্সিলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি সবসময় আলোচনায় রাখতে অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ ইস্যুতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে, যা হতাশাজনক।
তিনি বলেন, আমি আশা করি নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা অনুযায়ী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে ও জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীটি তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংস্থা ও দেশ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
