Thursday, April 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরশতভাগ রোগীই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত

শতভাগ রোগীই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত

করোনা নিয়ে আইসিডিডিআরবি’র পর্যবেক্ষণঃ আরো দ্রুত সংক্রমণকারী ভ্যারিয়েন্ট আসছে :বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি

দেশে করোনা ভাইরাসের ডেলটা (ভারতীয়) ভ্যারিয়েন্ট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই অদৃশ্য ভাইরাস। দেশে করোনা রোগীদের শতভাগই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন আইসিডিডিআরবি’র ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির প্রধান জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মোস্তাফিজুর রহমান। আইসিডিডিআরবি প্রতি সপ্তাহে করোনার ভ্যারিয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করে। গত দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করে আইসিডিডিআরবি উল্লিখিত রিপোর্ট পেয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। সারা দেশে এখন ঘরে ঘরে করোনা রোগী।

এদিকে মাস দুয়েক আগে আশার আলো দেখিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। বলেছিলেন, করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্টেই বিপদের শেষ। এর পরে ক্ষমতা কমতে শুরু করবে ভাইরাসের। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তাদের দাবি, ডেলটা আসলে বিশ্বের উদ্দেশ্যে এক ‘সতর্কবার্তা’। এর পরে মিউটেশন ঘটিয়ে আরো ভয়ানক স্ট্রেইন তৈরি করতে সক্ষম করোনা ভাইরাস। ইতিমধ্যে ১৩২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট। আমেরিকায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চতুর্থ ঢেউ আছড়ে পড়ার অন্যতম কারণ ডেলটা। চীনে নতুন করে সংক্রমণ বেড়েছে। আরো দুটি প্রদেশ থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধির খবর মিলেছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর ব্রিসবেন ও কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের একাংশে লকডাউন জারি করা হয়েছে।

আরো ভয়ানক ভ্যারিয়েন্ট আসছে: হু

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিকেন পক্সের মতো ছোঁয়াচে ডেলটা স্ট্রেইনটি। একজন থেকে ৮-৯ জনের শরীরে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। অতিসংক্রামক এই স্ট্রেইনটি সম্পর্কে হু-র জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেন, ‘ডেলটা হচ্ছে আসলে একটা সতর্কবার্তা। সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া যে, ভাইরাস তার ভোল বদলাচ্ছে এবং এটাও মনে করিয়ে দেওয়া যে, আরো ভয়ানক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হতে পারে।’ হু প্রধান টেট্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত চারটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভাইরাসটি যত ছড়াবে, এরকম উদ্বেগ করার মতো ভ্যারিয়েন্ট আরো তৈরি হবে।’

গোটা বিশ্বকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করে পর্যালোচনা চালায় হু। এর মধ্যে পাঁচটিতেই গত এক মাসে সংক্রমণ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। রায়ানের বক্তব্য, ডেলটার প্রকোপে বেশ নড়বড়ে অবস্থা হয়েছে কিছু দেশের। কিন্তু তাতেও তারা যথেষ্ট সতর্ক করতে পারেনি বাসিন্দাদের। সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এখনো ব্যর্থ বেশ কিছু দেশ। পারস্পরিক দূরত্ব-বিধি মানা হচ্ছে না। লোকজন মাস্ক পরছেন না। স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে না। রায়ানের কথায়, ‘টিকাকরণে কাজ দিচ্ছে। টিকা নেওয়া থাকলে বাড়াবাড়ি কম হচ্ছে। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে, ভাইরাস একটা ফিল্টার পেয়ে গেছে। সংক্রমণের গতি আরো বাড়িয়েছে ভাইরাস। তাই আগের থেকে আরো গতি বাড়াতে হবে টিকাকরণের।’

এদিকে বিশ্বে টিকার সমবণ্টনের ওপরে বারবার জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ। কিন্তু তা হচ্ছে না, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। বিশ্বে এ পর্যন্ত কোভিড টিকার ৪০০ কোটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এর বেশিটাই গিয়েছে ধনীদের ঘরে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব বলছে, উচ্চ-আয়সম্পন্ন দেশগুলোতে ১০০ জনের মধ্যে ৯৮টি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে ২৯টি দরিদ্র (কম-আয়) দেশে এই হার-প্রতি ১০০ জনে ১.৬ ডোজ। এই পরিস্থিতিতে হু-র আবেদন, সেপ্টেম্বর মাস শেষ হওয়ার মধ্যে সব দেশকে অন্তত ১০ শতাংশ বাসিন্দার টিকাকরণ শেষ করতে হবে। ২০২২ সালের মাঝামাঝির মধ্যে ৭০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

করোনায় প্রাণ গেলো আরও ২১৮ জনের

দেশে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার যেভাবে

দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, দেশে করোনার ডেলটা (ভারতীয়) ভ্যারিয়েন্টের দ্রুত বিস্তারের আশঙ্কা অনেক দিন ধরেই ছিল। সে আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিয়েছে এখন। শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথমে রোগী চিহ্নিত এবং এই ভ্যারিয়েন্টে এক জন মারা গেলে দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ভারতের সঙ্গে সীমান্তসহ সব যোগাযোগ বন্ধ করার দাবি উঠেছিল। সময় উপযোগী এই দাবি মেনে সরকার বিমানবন্দর, পরে নৌ ও স্থলবন্দর বন্ধ রাখে। কিন্তু এই বন্ধ রাখাটা ছিল ঢিলেঢালা। ভারতের সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা একেবারেই কম এবং রোগী ব্যবস্থাপনাও কম থাকার কারণে এসব জেলায় করোনার ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়ায়। সেখান থেকে সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়েছে। শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শতভাগ লকডাউন বাস্তবায়ন হলে দেশের বর্তমান এই পরিস্থিতি হতো না। ভারত থেকে যারা এসেছিল তাদের আইসোলেশনেও রাখা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ভারতীয় সীমান্ত অনেকটা অরক্ষিত। দিনে-রাতে অনেকে অবৈধ পথে ভারতে আসা-যাওয়া করে। এ কারণে দ্রুত ছড়িয়েছে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট।

এই গাফিলতির কারণে করোনার রোগী এত বেশি হয়েছে যে সরকারি হাসপাতালে বেড খালি নেই। ঢাকার বাইরের জেলা-উপজেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকট প্রকট। গ্রামে চিকিত্সা ব্যবস্থা নেই। সেখানে চিকিত্সা সেবা না পেয়ে রোগীরা ছুটছেন রাজধানীতে। ঢাকার সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে রোগীরা যাচ্ছেন বেসরকারি হাপসাতালে। এক্ষেত্রে চিকিত্সাসেবা চালাতে গিয়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

এদিকে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই রবিবার থেকে গার্মেন্টসসহ সব কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শনিবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাকায় আসতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে শ্রমিকরা এসেছেন। এতে সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য