সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমে অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ১১ দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এদিন তাঁরা বলেন, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনই শিক্ষকদের চলমান বৈষম্য থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে এক পা-ও পিছু হটবেন না বলেও জানিয়ে দেন তাঁরা।
দেশের প্রায় ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রত্যয়’ স্কিমের প্রতিবাদে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হয়।
এ সময় শিক্ষক নেতারা অবস্থান কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান।
সর্বাত্মক কর্মসূচি নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির নেতারা। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
শিক্ষক নেতারা বলেন, তাঁদের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই আন্দোলন সরকার বা প্রধানমন্ত্রীকে পরাজিত করতে নয়৷ তাঁরা মন্তব্য করেন, শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন, তাই তারা (সরকার) পার পেয়ে যাচ্ছে। এ কারণে কেউ আলোচনায় বসতে চাচ্ছে না।
ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘এই স্কিম চালু করার আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আপনাদের আলোচনা করা উচিত ছিল।
তা না করে নিজেরাই প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়েছেন কী করলে কী হবে। এখন এ বিষয়ে আমাদের অনেকের সঙ্গে টক শোতে গিয়ে আর যুক্তি দেখাতে পারছেন না।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা বলেন, “সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এসব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে কার কত লাভ—এ বিষয়ে যাঁরা কূটচাল করছেন, তাঁদের সন্তানরা দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না। আমি পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলতে পারি কার সন্তান কোন কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।
নামের আগে ‘ড.’ আর ব্যারিস্টার লাগিয়ে বড় বড় কথা বলছেন৷ এ আন্দোলন সামগ্রিকভাবে সব শিক্ষকের। শিক্ষকদের মাথা কখনো কোনোভাবে অবনত হবে না কোনো অপশক্তির কাছে।”
জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মমিন উদ্দীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা কোনো কনজিউমার প্রডাক্ট তৈরি করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করেন। প্রত্যয় স্কিমে শিক্ষকদের পেনশন সুবিধা যেভাবে কর্তন করা হয়েছে, এতে ভবিষ্যতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী এই পেশায় আসবে না। ফলে জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে যাব।’
