পাকিস্তানে সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে ভারত যদি তার সীমানায় এই নদের ওপর বাঁধ বা এ জাতীয় কোনো স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, সে ক্ষেত্রে সামরিক হামলা চালাবে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ টেলিভিশন প্রোগ্রামে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শুধু বন্দুকের গুলি বা কামানের গোলা ছুড়লেই আগ্রাসন হয় না। বহুভাবে আগ্রাসন চালানো যায়। যেমন সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়া বা পানিপ্রবাহকে ভিন্নপথে চালিত করাও একপ্রকার আগ্রাসন। কারণ এর ফলে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কারণে মৃত্যু হবে লাখ লাখ মানুষের।”
“তাই সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ আটকাতে যদি তারা (নয়াদিল্লি) বাঁধ বা এই জাতীয় স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে, সে ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই আমরা আঘাত করব এবং সেই স্থাপনা ধ্বংস করব।” “তবে আপাতত আমরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি (সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি) নিয়ে আলোচনা করছি এবং নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
এ দিকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে শিগগিরই বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে গ্রিস। অন্য দিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সবশেষ পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে’ এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে ভারত সরকার।
গত ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালের পুলোয়ামা হামলার পর জম্মু-কাশ্মিরে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা ছিল এটি। ভয়াবহ এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত, দূতাবাস থেকে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনা, ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি।
এ দিকে পহেলগামের হামলার সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ। তবে নয়াদিল্লির শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ভারতের জন্য নিজেদের স্থল ও আকাশসীমা বন্ধ, পাকিস্তানে অবস্থানরত ভারতীয়দের ভিসা বাতিল, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্থগিতসহ একাধিক পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।
এ হামলাকে ঘরে গত ১১ দিন ধরে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরবৈরী প্রতিবেশী দেশের মধ্যে। গত মঙ্গলবার ভারতের শীর্ষ সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাতের সাথে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পাকিস্তান হামলার জন্য সবুজ সঙ্কেত তিনি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এখনো কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে খাজা আসিফ মনে করেন, এখনো দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। “যুদ্ধের হুমকি আমরা এড়িয়ে যেতে পেরেছি, এখনো এমনটা ভাবার সময় আসেনি”, জিও নিউজকে বলেন খাজা আসিফ।
জাতিসঙ্ঘে বৈঠক শিগগিরই : পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক খবরে বলেছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে শিগগিরই বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে গ্রিস। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে দেশটি। জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ বলেন, ‘সমস্ত বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে।
এর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তোলা অন্যতম। আমরা উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ গ্রিসের রাষ্ট্রদূত ইভাঞ্জেলোস সেকেরিস বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘আমরা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি এবং এটি সম্ভবত শিগগিরই ঘটতে পারে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জমা পড়েনি। তবে এমন একটি আলোচনা মূল্যবান হতে পারে।
‘যদি বৈঠকের জন্য অনুরোধ আসে, তাহলে আমি মনে করি অবশ্যই এটি হওয়া উচিত। কারণ এটি একটি সুযোগ হতে পারে মতামত প্রকাশের এবং এটি কিছুটা উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করতে পারে।’ রাষ্ট্রদূত আসিম সতর্ক করে বলেন, চলমান সঙ্কট দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অস্থিতিশীল আচরণের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিবেশে আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি জানান, ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিত করেছে যে, ‘আমরা জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিদের, নিউ ইয়র্কে ওআইসি গ্রুপ এবং নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের এ বিষয়ে অবহিত করেছি। আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথেও আমাদের অবস্থান ও উদ্বেগ শেয়ার করেছি।’ তিনি বলেন, ভারত যদি আগ্রাসন শুরু করে, তবে পাকিস্তান জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী তার অন্তর্নিহিত এবং বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
একই সময়ে রাষ্ট্রদূত আসিম সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশকে ঘৃণাভরে নিন্দা জানায়। নিরীহ বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলার কোনো ন্যায্যতা নেই। পহেলগামে প্রাণহানির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং শোক প্রকাশ করেছি। তিনি ভারতের পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকেও অবৈধ ও একতরফা বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ‘চুক্তি স্থগিত করার কোনো বিধান নেই। ভারতের একতরফা ও অবৈধ পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।’
রাষ্ট্রদূত সেকেরিস বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করে বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও অন্যদের সাথে একমত যে, উত্তেজনা প্রশমন ও সংলাপ জরুরি যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়।’ পহেলগাম হামলার বিষয়ে সেকেরিস বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আমরা নীতিগতভাবে সন্ত্রাসবাদের যেকোনো কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই এবং এটিই আমরা করেছি। নিরীহ বেসামরিকদের ওপর এই জঘন্য হামলা অবশ্যই নিন্দনীয়।’
পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ : এ দিকে পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। এনডিটিভি লিখেছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে’ এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের এক আদেশে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে উৎপাদিত বা সেখান থেকে রফতানির সব ধরনের পণ্যের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
“জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।” এনডিটিভি লিখেছে, পাকিস্তান থেকে মূলত ওষুধজাত পণ্য, ফল ও তেলবীজ আমদানি করে থাকে ভারত। দেশটি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানি পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসায়। তাতে ভারতের আমদানির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে। সবশেষ ২০২৪-২৫ সালে এই পরিমাণ ছিল ভারতের মোট আমদানির মাত্র ০.০০০১ শতাংশ।
ভুয়া এনকাউন্টারের ছক : এ দিকে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময়ে আটক পাকিস্তানি নাগরিকদের ব্যবহার করে ভুয়া ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাজানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র। তাদের দাবি, বেআইনিভাবে আটক অন্তত ৫৬ জন পাকিস্তানিকে এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। গতকাল শনিবার সূত্রের বরাতে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, আটক এসব পাকিস্তানি নাগরিক ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী। তাদের হত্যা করে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মিরে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার ছক কষা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সীমান্তে আগ্রাসনকে যৌক্তিক প্রমাণ করতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র আরো জানিয়েছে, এই মিথ্যা অভিযানকে ‘বৈধ’ প্রমাণ করতে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হতে পারে, যেখানে নিহতদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দেখানো হবে। এ ছাড়া নিহতদের আগে জোর করে পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্য কিংবা মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ভারতের হাতে আটক পাকিস্তানিদের বন্দী রাখার বিষয়টি আগেই তুলে ধরেছিল পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর। নতুন এই তথ্য সেই পূর্ব দাবিরই প্রমাণ দেয় বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইইউর তৎপরতা : সংবাদমাধ্যম পিটিআই-এর খবর অনুসারে, কাশ্মিরের পহেলগামে হামলা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে ফোন দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। গত শুক্রবার আলাদাভাবে দু’জনকে ফোন করেন তিনি। এ সময় দিল্লি ও ইসলামাবাদকে তিনি ‘সংযত’ থাকার এবং উত্তেজনা কমাতে সংলাপে বসার আহ্বান জানান।
ভারত ও পাকিস্তানের দুই মন্ত্রীকে কাজা কালাস বলেন, দুই দেশের মধ্যে ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়া এই উত্তেজনা ‘উদ্বেগজনক’। পরিস্থিতি সঙ্ঘাতের দিকে এগোলে কোনো দেশের জন্য তা সুফল বয়ে আনবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশকে সংযম দেখানোর জন্য এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সংলাপে বসার অনুরোধ করছি।’
এরপর শুক্রবারেই এক্সে এক পোস্টে এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘আজ সন্ধ্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাথে কথা বলে ভালো লাগল। পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে আলোচনা করেছি। সব ধরনের সন্ত্রাস এবং এর প্রাদুর্ভাবের নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তীব্র নিন্দাকে স্বাগত জানাচ্ছি।’
আতঙ্কে সাধারণ মানুষ : বিবিসি উর্দুর খবরে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার দুই পাশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। দুই পাশেই মানুষ আতঙ্ক থেকে বাঙ্কার সংস্কার করছে। পহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তান একে-অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নানা বিধিনিষেধ ঘোষণার পরও কাশ্মিরের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন।
তারা ভেবেছিলেন, পরিস্থিতি হয়ত এর চেয়ে খারাপ হবে না। কিন্তু গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি বিনিময়ের কারণে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন এর কাছে বসবাসকারী মানুষ। ভারত শাসিত কাশ্মিরের উরি সেক্টরের তুতমার গলি পোস্ট এবং আজাদ কাশ্মিরের লিপা সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গত সপ্তাহে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে এখনো পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
‘শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যবর্তী রাতে সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় চলে। এরপর শনিবার রাতে ফের গুলি বিনিময় শুরু হয়। ওই দিন রাত ১০টায় গুলি বিনিময় শুরু হয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে। প্রসঙ্গত, ভারত শাসিত কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা উত্তর কাশ্মিরের কুপওয়ারা ও বারামুল্লা জেলায় অবস্থিত।
শুক্রবার কুপওয়ারার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটা নির্দেশ জারি করে জানিয়েছিলেন, কুপওয়ারার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন অঞ্চলে যেতে হলে আগাম অনুমতি নিতে হবে। কুপওয়ারায় এখনো পর্যন্ত সীমান্তে গুলি বিনিময়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছাকাছি যারা বাস করেন, তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কুপওয়ারার কারনাহ সেক্টরের বাসিন্দারা ব্যক্তিগত ব্যয়ে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার সৃষ্টির কাজ শুরু করেছেন বা সেগুলো পুনর্নির্মাণ করছেন।
অন্য দিকে উরি সেক্টরেও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছেন মানুষ। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই সেক্টরের ভাটগ্রান ও চরন্দা এলাকায় ১৬টা বাঙ্কার নির্মাণ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির ব্যবস্থা নেই।
