হালাল সুগন্ধি সব নবীর সুন্নত। পবিত্রতার অংশ। এটি মানুষের মনকে সতেজ করে, যা ইবাদতে একাগ্রতা আনতে সহায়তা করে। পবিত্র সুগন্ধির সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানের অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক।
ধর্মীয় দিক থেকে বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। জুমার দিন সুগন্ধি ব্যবহারের ব্যাপারে নবীজি (সা.)-এর একটি হাদিস রয়েছে। আবদুর রহমান ইবনু আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণিত, বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জুমার দিন গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সাধ্যানুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা কর্তব্য। কিন্তু বুকাইর সানাদে আবদুর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি এবং বর্ণনাকারী সুগন্ধি সম্পর্কে বলেছেন, যদিও তা মহিলাদের সুগন্ধি হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৪)
এমনকি পবিত্র হাদিস শরিফে মসজিদকে পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় করে রাখার নির্দেশ পাওয়া যায়। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ করার এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৫৫)
পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। তাই এতত্সংশ্লিষ্ট জিনিসগুলোর প্রতি মুসলিমদের আগ্রহ আছে। ফলে সাবান ও আতরশিল্পে মুসলিমদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় শহরে সাবান ও আতরের কারখানা ছিল। মুসলিম জনগণের দৈনন্দিন জীবনে সাবান ও আতরের ব্যাপক চাহিদা থাকায় নগরে নগরে এই শিল্প গড়ে ওঠে। তবে সব শহরের আতর ও সাবানের মান এক ছিল না। কোনো কোনো শহরে অনেক উন্নতমানের আতর উৎপাদিত হতো, যা অভিজাত ব্যক্তিরা উচ্চমূল্যে কিনতেন। আরব উপদ্বীপের রাক্কা, ফিলিস্তিন, মধ্য এশিয়ার বলখ ও তিরমিজ শহরে উন্নতমানের সাবান উৎপাদিত হতো। তবে আরজান নগরীর সাবানের বিশেষ চাহিদা ছিল আরব ও অনারবে। ইরাকের বসরায় তৈরি হতো উচ্চমূল্যের সুগন্ধি আর কুফাবাসী উৎপাদন করত উত্কৃষ্ট মানের ধূপ। বসরার আতর আর কুফার ধূপ রাজত্ব করত আরবের বাজারগুলোতে। এ ছাড়া দামেস্ক, ফরমা, বুখারা ও মিসরের কোনো কোনো শহরে উন্নতমানের আতর ও ধূপ তৈরি হতো। (ইবনে হাওকাল, সুরাতুল আরদ, পৃষ্ঠা ২৬২; জাহেজ, আত তাবাসসুর বিত-তিজারা, পৃষ্ঠা ৩২)
