Friday, November 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াসূরা আন-নাবা : মানবজাতির জন্য হাদিয়া (শেষ পর্ব)

সূরা আন-নাবা : মানবজাতির জন্য হাদিয়া (শেষ পর্ব)

(৭) শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে : মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا – وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبْوَابًا -وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا – إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا – لِلطَّاغِينَ مَآبًا – لَابِثِينَ فِيهَا أَحْقَابًا – لَا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًا وَلَا شَرَابًا – إِلَّا حَمِيمًا وَغَسَّاقًا – جَزَاءً وِفَاقًا – إِنَّهُمْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ حِسَابًا – وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا كِذَّابًا﴾ ‘যেদিন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে তখন তোমরা দলে দলে আসবে। আকাশ খুলে দেওয়া হবে ফলে তা বহু দরজাবিশিষ্ট হয়ে যাবে এবং পাহাড়সমূহকে চলমান করা হবে, ফলে সেগুলো মরীচিকায় পরিণত হবে। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে আছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে থাকবে, ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া সেখানে তারা না কোনো ঠান্ডা (বস্তুর) স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে আর না কোনো পানীয়ও পানের সুযোগ পাবে। এটাই (তাদের) উপযুক্ত প্রতিফল। নিশ্চয় তারা কখনোই হিসাব-নিকাশের আশা করত না এবং দৃঢ়তার সাথে আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো’ (আন-নাবা, ৭৮/১৮-২৮)। মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ – تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ – قُلُوبٌ يَوْمَئِذٍ وَاجِفَةٌ﴾ ‘সেদিন প্রকম্পকারী প্রকম্পিত করবে, তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী প্রকম্পন। অনেক হৃদয় সেদিন ভীত-সন্ত্রস্ত হবে’ (আন-নাযিয়াত, ৭৯/৬-৮)।

আল্লাহ তাআলার আদেশে ইসরাফীল (ফেরেশতা) শিঙায় দুই বার ফুৎকার দিবেন, যা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ﴾ ‘আর শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ফলে যারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অবস্থান করতে তারা সবাই অজ্ঞান হয়ে যাবে; তবে তারা ব্যতীত যাদের অজ্ঞান হওয়া আল্লাহ চাইবেন না। অতঃপর আবার শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, সাথে সাথে তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে’ (আয-যুমার, ৬২/৬৮)। দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার জন্য এক ফুৎকার আর কবর থেকে উঠার জন্য আরেকটি ফুৎকার দেওয়া হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে তখনই তারা কবর হতে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে আসবে। তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল হতে উঠালো? এ হলো তা-ই দয়াময় আল্লাহ যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন। এটা এক বিকট আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই নয়; তখনই তাদের সকলকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে। আজ কারো প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করতে শুধু তারই প্রতিফল দেওয়া হবে (ইয়াসিন, ৩৬/৫১-৫৪)।

আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী মদীনার বাজারে উচ্চৈঃস্বরে বলল, না (এমনটা হবে না), সেই সৃষ্টিকর্তার শপথ! যিনি মূসা e-কে মানবজাতির উপর মর্যাদা দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘এক আনছারী লোক একথা শুনার সাথে সাথে হাত তুলে ইয়াহূদীর মুখে চড় মেরে দিলেন। তিনি বললেন, তুমি এই কথা বলছ, অথচ আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ a আমাদের মধ্যে বর্তমান রয়েছেন? (উভয়ে মহানবীর নিকট উপস্থিত হলে) রাসূল a বললেন, ‘আর যখন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ তাআলা যাকে জীবিত রাখতে চান সে ব্যতীত আসমান-যমীনের সকলে মূর্ছায় যাবে। তারপর আবার শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে। সহসা তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে’ (আয-যুমার, ৪৩/৬৮)। ‘আমিই সবার আগে মাথা তুলে দেখব যে, মূসা e আরশের পায়াসমূহের একটি ধরে আছেন। আমি জানি না, তিনি আমার আগে মাথা তুলেছেন নাকি। তিনি ঐসব লোকের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ তাআলা (জ্ঞানশূন্য হওয়া থেকে) মুক্ত রেখেছেন। আর যে লোক বলে যে, আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা e-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সে মিথ্যা বলে’।[1]

নবী রাসূলগণ সবাই আল্লাহর বান্দা। আমরা তাদের সবাইকে সম্মান করি। তাদের কারো মাঝে কোনো পার্থক্য করি না এবং কোনো নবী-রাসূলকে খাটো করি না। আর আল্লাহর রাসূল a শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল যা সকলেরই জানা। কিন্তু এ নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করি না।[2] আব্দুল্লাহ ইবনু আমর c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বেদুইন বলল, ‘হে আল্লাহ রাসূল! শিঙা কী? তিনি বললেন, ‘তা হলো একটি শিং বা বাঁশি, যাতে ফুৎকার দেওয়া হবে’।[3] আবূ সাঈদ খুদরী c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘যিনি শিঙায় ফুৎকার দিবেন, তিনি শিঙা মুখে নিয়ে মাথা নুইয়ে কান খাড়া করে অপেক্ষমান আছেন, শিঙায় ফুৎকার দেওয়ার আদেশ পাওয়া মাত্রই তিনি ফুৎকার দিবেন। এ অবস্থায় আমি কীভাবে নিশ্চিন্তে আরামে বসে থাকতে পারি?’ ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কীভাবে দু‘আ করব? তিনি বললেন, ‘তোমরা বলো, “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল, তাওয়াক্কালনা আলাল্লাহি রাব্বিনা” অর্থাৎ আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি আমাদের অতি উত্তম অভিভাবক, আমরা আমাদের রব আল্লাহ তাআলার উপর নির্ভর করি’।[4] আল্লাহর নিকট আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমাদেরকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের ঈমানকে মযবূত করেন।

(৮) তাক্বদীর : তাক্বদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের ৬টি রুকনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন; তাক্বদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস না করলে ঈমান থাকবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর সবকিছুই আমরা সংরক্ষণ করেছি লিখিতভাবে’ (আন-নাবা, ৭৮/২৯)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমরা সবকিছু নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি করেছি’ (আল-ক্বামার, ৫৪/৪৯)। আর তাক্বদীরের ৪টি স্তর রয়েছে যেগুলোর উপর ঈমান আনা আবশ্যক। সেগুলো হলো—

(ক) আল্লাহর জ্ঞান : সকল কিছুই মহান আল্লাহ জানেন। ভালো-মন্দ, আগের-পরের, গোপন-প্রকাশ্য সবই তার জানা। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ﴾ ‘গায়েব বা অদৃশ্যের চাবিকাঠি তারই নিকট রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না’ (আল-আনআম, ৬/৫৯)।

(খ) আল্লাহর লিখে রাখা : মহান আল্লাহ সকল কিছু লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। মানবজীবনে যা কিছু হচ্ছে সবকিছুই লিপিবদ্ধ আছে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾ ‘তুমি কি জানো না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবই আল্লাহর অবগতিতে রয়েছে? এ সবই লিপিবদ্ধ আছে এক কিতাবে; অবশ্যই এটা আল্লাহর নিকট অতি সহজ’ (আল-হজ্জ, ২২/৭০)।

(গ) আল্লাহর ইচ্ছা : আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালো-মন্দ বুঝার জ্ঞান দান করেছেন। তাই তারা বুঝে শুনে কাজকর্ম করবে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ﴾ ‘আর তোমরা যা ইচ্ছা তা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা পোষণ করেন’ (আত-তাকভীর, ৮১/২৯)। এটার অর্থ এই নয় যে, মানুষের কোনো স্বাধীন ইচ্ছা নেই। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা আছে তবে আল্লাহ ইচ্ছা না করলে সে তার নিজের ইচ্ছায় কোনো কিছুই করতে পারবে না। আল্লাহ মানুষকে ভালো-মন্দ বুঝার তাওফীক্ব দান করেছেন। সে ভালো কাজ করার চেষ্টা করবে আর অন্যায়-অপকর্ম থেকে নিজেকে সর্বদা বিরত রাখার চেষ্টা করবে।

(ঘ) আল্লাহর সৃষ্টি : মহান আল্লাহ সকলের স্রষ্টা। তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,﴿اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ﴾ ‘আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক’ (আয-যুমার, ৩৯/৬২)। আসমান-যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু একমাত্র তিনিই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং মানবজাতির উচিত হবে যে, আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর নবী-রাসূলগণের প্রতি, তাঁর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি, আখেরাত বা পরকালের প্রতি, তাক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস করা।[5] মানুষের উচিত যেটা তার জন্য কল্যাণকর সেই কাজটা করা, আর যেটা তার জন্য ক্ষতিকর তা থেকে বিরত থাকা।

(৯) জাহান্নাম : আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য এবং তাঁর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা ও শিরক থেকে দূরে থাকার জন্য। এছাড়াও তার আরো দায়িত্ব হলো, বিদআত পরিত্যাগ করা, সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা, হালাল গ্রহণ, হারাম বর্জন করা, সূদ-ঘুষ পরিত্যাগ করা, হালাল ব্যবসা করা, যেনা-ব্যভিচার ত্যাগ করা, যেনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য বিবাহ করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া, অসৎকাজ থেকে বিরত রাখা, আমানতের খেয়ানত না করা, একে অপরের কল্যাণ কামনা করা, মানুষের প্রতি যুলুম না করা, হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা, মুসলিমগণ পরস্পরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করা, কারো মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ না করা, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা না করা, সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি না করা, জান্নাত লাভের কাজ করা, জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয় এমন কাজ থেকে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওত পেতে রয়েছে, যা সীমালঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়স্থল। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে থাকবে। ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ব্যতীত সেখানে তারা কোনো শীতল বস্তুর স্বাদ বা কোনো পানীয়ও পান করতে পাবেনা। এটাই উপযুক্ত প্রতিফল’ (আন-নাবা, ৭৮/২১-২৬)। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ﴾ ‘নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং যারা শিরক করেছে, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট’ (আল-বাইয়্যিনাহ, ৯৮/৬)।

মুসলিম ব্যতীত অন্য যত ধর্মের অনুসারী আছে যেমন— ইয়াহূদী, নাছারা, বৌদ্ধ, অগ্নিপূজক, হিন্দু ইত্যাদি তাদের জন্য জান্নাত হারাম এবং যারা মুশরেক এদেরকেও মহান আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর কিছু সম্প্রদায় আছে যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করে, যেমন ক্বাদিয়ানী, কিন্তু তারা রাসূল a-কে শেষ নবী হিসাবে মানে না। এরা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আবার যারা কুরআনে ত্রুটি আছে বলে মনে করে অথবা যারা নিজেদেরকে নিষ্পাপ মনে করে অথবা যারা হালালকে হারাম মনে করে এবং হারামকে হালাল মনে করে অথবা আল্লাহকে অস্বীকার করে এরাও মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এসকল মানুষরাই নিকৃষ্ট। আর এরাই হলো পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ﴾ ‘আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় রয়েছে কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু রয়েছে কিন্তু তারা তা দ্বারা দেখে না, তাদের কর্ণ রয়েছে কিন্তু তা দ্বারা তারা শোনে না, তারাই হলো পশুর ন্যায় বরং তার অপেক্ষাও অধিক নিকৃষ্ট; তারাই হলো গাফেল বা অমনোযোগী’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৭৯)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কাফেরদের জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হবে তখন তার দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের দারোয়ানরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্যে হতে রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করতেন এবং তোমাদেরকে এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সতর্ক করতেন? তারা বলবে, অবশ্যই এসেছিল, প্রকৃতপক্ষে কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুম বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদেরকে বলা হবে জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ করো, তাতে স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য। অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট’ (আয-যুমার, ৩৯/৭১-৭২)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অথবা শাস্তি দেখতে পেলে যেন কাউকেও বলতে না হয়, হায়! যদি একবার আমি ফিরে যেতে পারতাম তবে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। হ্যাঁ, অবশ্যই আমার নিদর্শন তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি এগুলোতে মিথ্যারোপ করেছিলে এবং অহংকার করেছিলে; আর তুমি ছিলে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত। আর যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে, আপনি কিয়ামতের দিন তাদের চেহারাসমূহ কালো দেখবেন। অহংকারীদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়? (আয-যুমার, ৩৯/৫৮-৬০)।

হে কবরপূজারী! হে ধর্মত্যাগী মুরতাদ! হে ইয়াহূদী! হে নাছারা! হে হিন্দু! হে কাফের! হে মুশরেক! ইসলামের ছায়াতলে চলে এসো, নইলে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। সেদিন আফসোস করে কোনো লাভ হবে না। সময় থাকতেই ইসলামের পথে ফিরে এসো।

আমরা জানি জান্নাত-জাহান্নাম সত্য। জান্নাত পরম সুখের স্থান এবং জাহান্নাম কঠিন শাস্তির। তবে কারা স্থায়ীভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে? আর কারা কিছুদিন শাস্তি ভোগের পর মুক্তি পাবে? যারা বড় কুফরী বা বড় শিরক বা এর সমপর্যায়ের কোনো পাপ করে তওবা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করবে, তারা কবরে শাস্তি পাবে এবং স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে। ফেরাউন ও তার অনুসারীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘সকাল ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সম্মুখে উপস্থিত করা হয় এবং যে দিন কিয়ামত ঘটবে সে দিন (বলা হবে) ফেরাউন সম্প্রদায়কে কঠিনতর শাস্তিতে নিক্ষেপ করো’ (আল-মুমিন, ৪০/৪৬)। পক্ষান্তরে যারা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও কিছু কিছু পাপ করে মহান আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের পাপ পরিমাণ শাস্তি দিয়ে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবেন আর ইচ্ছা করলে শাস্তি না দিয়ে এমনিতেই ক্ষমা করে দিবেন।[6]

মোটকথা, মুসলিম ব্যক্তি যদি পাপীও হয় আর ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করে তাহলে তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। বরং বড় পাপীরাও আল্লাহর রাসূল a-এর সুপারিশ পেয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে। আনাস ইবনু মালেক c থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেন,شَفَاعَتِي لِأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي ‘আমার উম্মতের কবীরা গুনাহগারদের জন্যও আমার শাফাআত রয়েছে’।[7] তবে উল্লেখ্য যে, কেউ যদি তওবা ছাড়াই বড় শিরক করে মৃত্যুবরণ করে তাহলে তার জন্য জান্নাত হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ﴾ ‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন, তার আবাসস্থল হবে জাহান্নাম আর এরূপ অত্যাচারীদের জন্য কোনো সাহায্যকারী হবে না’ (আল-মায়েদা, ৫/৭২)। ঐ সমস্ত পীরদের জন্য ধ্বংস! যারা কবরকেন্দ্রিক ব্যবসা করছে, যাদের নিকট মানুষ সন্তান প্রার্থনা করছে, যাদের নিকট শাফাআত ও নাজাতের প্রার্থনা করছে, যাদের কারণে মানুষ কবরকে সিজদা করছে, নযর মানছে, দু‘আ প্রার্থনা করছে, গরু-খাসি যবেহ করছে তাদের উচিৎ আল্লাহ ও পরকালের শাস্তিকে করা। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا﴾ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করাকে ক্ষমা করবেন না এবং এতদ্ব্যতীত এর নিম্নপর্যায়ের গুনাহসমূহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে থাকেন এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে নিশ্চয় চরমভাবে গোমরাহ হয়ে গেল’ (আন-নিসা, ৪/১১৬)। আল্লাহ যেন আমাদের জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করেন।

(চলবে)

  • পি.এইচ.ডি গবেষক, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া।

[1]. তিরমিযী, হা/৩২৪৫, হাসান ছহীহ।

[2]. শারহে আক্বীদা আত্ব-ত্বহাবিয়া, পৃ. ৭৬-৭৯।

[3]. সিলসিসা ছহীহা, হা/১০৮০; তিরমিযী, হা/৩২৪৪।

[4]. সিলসিলা ছহীহা, হা/১০৭৮, ১০৭৯; তিরমিযী, হা/৩২৪৩।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮।

[6]. শারহে আক্বীদা আত্ব-ত্বহাবিয়্যা, পৃ. ২৬৪।

[7]. আবূ দাঊদ, হা/৪৭৩৯, সনদ ছহীহ।


আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘যেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে সেদিন এর ৭০ হাজার লাগাম থাকবে। প্রতিটি লাগামের জন্য নিয়োজিত থাকবে ৭০ হাজার ফেরেশতা। তারা এগুলো ধরে এটাকে টানতে থাকবে’।[1] আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘কিয়ামত দিন জাহান্নাম হতে একটি গর্দান (মাথা) বের হবে। এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে, দুটি কান থাকবে যা দিয়ে সে শুনবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। সে বলবে, তিন ধরনের লোকের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে— (১) প্রতিটি অবাধ্য অহংকারী যালেমের জন্য (২) আল্লাহ তাআলার সাথে অন্য কোনো কিছুকে যে ব্যক্তি ইলাহ বলে ডাকে তার জন্য এবং (৩) ছবি নির্মাতাদের জন্য’।[2]

হাদীছ থেকে বুঝা যায়, যালেমদের জন্য জাহান্নাম রয়েছে এবং যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ বলে ডাকে। কবরপূজারীরা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কারণ, তারা কবরবাসীকে ইলাহ মনে করে সিজদা করে। হাদীছ থেকে আরও বুঝা যায় যে, ছবি নির্মাতারাও জাহান্নামী। যারা বিনা কারণে ছবি তুলে তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আমরা যারা বিনা কারণে ছবি তুলে রাখি তাদের সাবধান হওয়া উচিত, কারণ এটিও জাহান্নামে যাওয়ার একটি কারণ হবে। হে অমুসলিম! ইসলামের ছায়াতলে ফিরে এসো, তোমার কল্যাণ হবে। যে ফিরে আসবে না তার পরিণাম কেমন হবে তা হাদীছ থেকে অনুমেয়। আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, ‘জাহান্নামে কাফের ব্যক্তির শরীরের চামড়া হবে ৪২ গজ মোটা, তার মাড়ির দাঁত হবে উহূদ পাহাড়ের সমান বড় এবং মক্কা-মদীনার দূরত্বের সমান বিস্তৃত হবে তার বসার জায়গা (নিতম্বদেশ)’।[3]

আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, ‘তোমাদের এই আগুন যা তোমরা প্রজ্জ্বলিত করো তা জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের ৭০ ভাগের এক ভাগ’। ছাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল a! আল্লাহর কসম! এ আগুনই তো জাহান্নামীদের আযাবের জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি বললেন, ‘এটাকে আরও ৬৯ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রতিটি অংশের উত্তাপ এর সমান হবে’।[4] আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘আমি জাহান্নামের মতো এমন কিছু দেখিনি যা হতে আত্মরক্ষাকারীগণ ঘুমে অচেতন এবং জান্নাতের মতো এমন কিছুও দেখিনি যার অন্বেষণকারীগণও ঘুমে অচেতন’।[5] ইবনু আব্বাস c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, ‘(মি‘রাজের রাতে) আমি জান্নাতের মধ্যে উঁকি দিয়ে দেখতে পেলাম যে, এর বেশির ভাগ অধিবাসীই মহিলা’।[6]

জাহান্নামের নিঃশ্বাসের কথা শুনুন! আবূ হুরায়রা c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘কোনো একদিন জাহান্নাম তার প্রভুর নিকট অভিযোগ করে বলল যে, আমার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করছে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুটি নিঃশ্বাসের ব্যবস্থা করেন। এর একটি নিঃশ্বাস শীতকালে এবং অন্যটি গ্রীষ্মকালে। শীতকালের নিঃশ্বাস যামহারীর (শৈত্যপ্রবাহ) এবং গ্রীষ্মে নিঃশ্বাস সামূম (লু হাওয়া)’।[7] তাই জাহান্নামের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট তিন বার করে পানাহ চাই। কারণ আনাস ইবনু মালেক c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘কোনো লোক জান্নাতের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট তিন বার প্রার্থনা করলে জান্নাত তখন বলেন, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর কোনো লোক তিন বার জাহান্নাম হতে পানাহ (আশ্রয়) চাইলে, জাহান্নাম তখন আল্লাহ তাআলার নিকট বলে, হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন’।[8] আনাস c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন, ‘জান্নাত দুঃখ-কষ্ট ও শ্রমসাধ্য বিষয় দ্বারা ঘেরা এবং জাহান্নাম কু-প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসা দ্বারা ঘেরা’।[9]

জরুরী কথা, খাওয়ারিজদের আক্বীদা হলো বড় পাপীরা কখনোই জাহান্নাম থেকে বের হবে না। তাদের এ বিশ্বাস সঠিক নয়। যেসব যুবক মুসলিম জাতিকে কাফের ফৎওয়া দিচ্ছে, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে, মানুষের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে, অন্যায়ভাবে যেখানে-সেখানে বোমা মারছে, মানুষকে হত্যা করছে; ইসলাম সম্পর্কে তাদের সঠিক জ্ঞান না থাকায় তারা এমনটা করছে। তাই যারা এ অন্যায় পথে চলছেন, মানুষকে পথভ্রষ্ট করছেন, তাদের আল্লাহকে ভয় করা উচিত। সাথে সাথে জেনে রাখা দরকার যে, কোনো মুসলিম ব্যক্তি কবীরা গুনাহ করলে তার ঈমান কমে যায়, সে একজন ফাসেক্ব কিন্তু সে দ্বীন থেকে বের হয় না আর পাপ করে আল্লাহর নিকট তওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যদি তওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে। অর্থাৎ আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন আর ইচ্ছা করলে তাকে তার পাপ পরিমাণ শাস্তি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। ইমরান ইবনু হুসাইন c হতে বর্ণিত, নবী করীম a বলেন,﴿لَيَخْرُجَنَّ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَتِي يُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيُّونَ﴾ ‘আমার শাফাআতে আমার উম্মতের একদল জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তাদের নাম হবে জাহান্নামী’।[10]

আবূ সাঈদ খুদরী c হতে বর্ণিত, নবী a বলেন,يُخْرَجُ مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنَ الإِيمَانِ ‘যে ব্যক্তির অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে, সে ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে’। আবূ সাঈদ c বলেন, কারো এ ব্যাপারে সন্দেহ হলে সে এ আয়াত তেলাওয়াত করুক, ﴿إِنَّ اللَّهَ لاَ يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ﴾ ‘আল্লাহ তাআলা অণু পরিমাণও যুলুম করবেন না’ (আন-নিসা, ৪/৪০)।[11] জাবের c হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘কিছু তাওহীদপন্থী মানুষকেও জাহান্নামে শাস্তি প্রদান করা হবে। এমনকি তারা তাতে পুড়তে পুড়তে কয়লার মতো হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তাআলার রহমতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং জান্নাতের দরজার সামনে নিক্ষেপ করা হবে’। রাসূল a বলেন, ‘জান্নাতে বসবাসকারীরা তাদের উপর পানি ছিটিয়ে দিবে। যার ফলে তারা সজীব হয়ে যাবে যেমনটি বন্যার স্রোত চলে যাওয়ার পর মাটিতে উদ্ভিদ গজায়। তারপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে’।[12] তবে বড় শিরককারী ব্যক্তি তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য জান্নাত হারাম (আল-মায়েদা, ৫/৭২)।

(১০) জান্নাত : জান্নাত একটি বাগিচা ও বাগান। জান্নাত মানেই সুখময় স্থান। জান্নাতে যাওয়া এত সহজ নয়। এর জন্য খুব কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করতে হবে। জান্নাত দুঃখ-কষ্ট দ্বারা ঘেরা রয়েছে। এটি পেতে হলে সর্বপ্রথম জীবনে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সকল প্রকার শিরকী কাজকর্ম পরিত্যাগ করতে হবে, বিদআতী কাজগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো ত্যাগ করতে হবে, কুরআন-সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে হবে, সালাফে ছালেহীনের দেখানো পথের অনুসারী হতে হবে। কবরপূজা, পীরপূজা, মূর্তিপূজা, মৃত্যুবার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী, মীলাদ দিবস ইত্যাদি ছাড়তে হবে। সাথে সাথে আমলে ছালেহ করতে হবে, ভালো কাজের আদেশ, অন্যায় কর্ম থেকে নিজে বিরত থেকে অন্যকেও নিষেধ করতে হবে। তাহলেই এমন মুমিন-মুক্তাক্বীদের জন্য সফলতা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا – حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا – وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا – وَكَأْسًا دِهَاقًا – لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّابًا – جَزَاءً مِنْ رَبِّكَ عَطَاءً حِسَابًا﴾ ‘নিশ্চয়ই মুত্তাক্বীদের জন্য আছে সফলতা, (আরো আছে) বাগানসমূহ ও নানাবিধ আঙ্গুর এবং সমবয়স্কা নব্য কুমারীবৃন্দ আর পরিপূর্ণ পানপাত্র। সেখানে তারা অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পুরস্কার ও যথোচিত প্রতিদান’ (আন-নাবা, ৭৮/৩১-৩৬)।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘ডান হাতের দল (যারা ডান হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত), কত ভাগ্যবান ডান হাতের দল! এবং বাম হাতের দল (যারা বাম হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত), কত হতভাগা বাম হাতের দল! আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহে। বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে এবং অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। স্বর্ণখচিত আসনসমূহে, তারা তার উপর হেলান দিয়ে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে বসবে। তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা। পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে (এরা হাযির হবে)। সেই সুরা পানে তাদের শিরপীড়া হবে না, তারা জ্ঞানহারাও হবে না। তাদের পছন্দমতো ফলমূল আর তাদের পছন্দমতো পাখির গোশত নিয়ে। আর (তাদের জন্য থাকবে) সুন্দর চক্ষুধারী হূর, সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ। তাদের আমলের পুরস্কারস্বরূপ। তারা শুনবে না কোনো অসার অথবা পাপবাক্য। সালাম আর সালাম বাণী ব্যতীত। আর ডান হাতের দল, কত ভাগ্যবান ডান হাতের দল! (তারা থাকবে এক উদ্যানে) সেখানে আছে কাঁটাবিহীন বরই গাছ। কাঁদি ভরা কলাগাছ, সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবহমান পানি ও প্রচুর ফলমূল, যা শেষ হবে না ও যা নিষিদ্ধও হবে না। আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ, তাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি নতুনরূপে, তাদেরকে করেছি কুমারী সোহাগিনী ও সমবয়স্কা’ (আল-ওয়াক্বিয়াহ, ৫৬/৮-৩৭)।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু’টি বাগান, সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? উভয়টি বহু শাখাপল্লববিশিষ্ট বৃক্ষে ভরপুর। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? উভয়টিতে রয়েছে দু’টি ঝর্ণাধারা সদা প্রবহমান, সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? উভয় বাগানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই প্রকার, সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে পুরো রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায়, দুই বাগানের ফল হবে তাদের নিকটবর্তী। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? সেসবের মাঝে রয়েছে বহু আনত নয়না, যাদেরকে তাদের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? তারা যেন হীরা ও মতি, সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্‌ কোন্‌ নেয়ামত অস্বীকার করবে? উত্তম কাজের পুরস্কার উত্তম (জান্নাত) ব্যতীত আর কী হতে পারে? (আর-রহমান, ৫৫/৪৬-৬০)।

স্বামী-স্ত্রী সৎ হলে তারা উভয়ে জান্নাতে থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾ ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরকেও। আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান’ (আল-মুমিন, ৪০/৮)।

আপনজন কেউ শত্রু হয় না কিন্তু কিয়ামতের দিন তা হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বন্ধুরা সেই দিন হয়ে পড়বে একে অপরের শত্রু, তবে মুত্তাক্বীরা ব্যতীত। হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং চিন্তিতও হবে না তোমরা যারা আমার আয়াতসমূহ বিশ্বাস করেছিল এবং আত্মসমর্পণ করেছিল। তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিনীগণ জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করা হবে। স্বর্ণের বালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে, মন যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয় সব সেখানে রয়েছে এবং সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে। এটাই জান্নাত তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে, তোমাদের কর্মের প্রতিদানস্বরূপ। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর ফলমূল, তোমরা আহার করবে তা হতে’ (আয-যুখরুপ, ৪৩/৬৭-৭৩)।

জান্নাতে বড় বড় চক্ষুবিশিষ্ট পরমা সুন্দরী হূর রয়েছে। যারা কষ্ট-ক্লান্তি সহ্য করে সৎকর্ম করেছে, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে, তারাই এদের অধিকারী হবে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ – فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ – يَلْبَسُونَ مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ – كَذَلِكَ وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِينٍ – يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ – لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ – فَضْلًا مِنْ رَبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾ ‘মুত্তাক্বীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে। উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে, তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং তারা মুখোমুখি (হয়ে বসবে)। এরূপই ঘটবে, তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দেব ডাগর নয়না হূরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্ত চিত্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। সেখানে তারা প্রথম মৃত্যুর পর আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন, তোমার প্রতিপালকের নিজ অনুগ্রহে। এটাই তো মহাসাফল্য’ (আদ-দুখান, ৪৪/৫১-৫৭)।

এ সুখময় স্থান জান্নাত পাওয়ার জন্য আমরা সৎকর্ম করার চেষ্টা করি, ঠিক সময় ছালাত আদায় করার চেষ্টা করি, যাকাত ফরয হলে যাকাত আদায় করি, ছিয়াম ফরয হলে ছিয়াম পালন করার চেষ্টা করি, হজ্জ ফরয হলে তাড়াতাড়ি হজ্জ আদায় করার চেষ্টা করি, শিরকী কাজ পরিত্যাগ করি, বিদআতী কাজ পরিত্যাগ করি, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি, সূদ-ঘুষ থেকে নিজেকে রক্ষা করি, মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকি, গীবত করা থেকে বিরত থাকি, মানুষের প্রতি অন্যায়-অত্যাচার করা থেকে দূরে থাকি, মানুষকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকি, আমানতের খেয়ানত করা থেকে দূরে থাকি, নিজ পরিবারের প্রতি যত্নবান হয়ে তাদেরকে দ্বীনের আদর্শে গড়ে তোলার চেষ্টা করি, যে কাজ করলে আল্লাহর ভয়-ভীতি তৈরি হবে সে কাজগুলো করার চেষ্টা করি, বিপদ-আপদে কোনো কবর বা মাযারের নিকট নয় বরং একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য চাই, আমার জীবনে ইসলামী আদর্শ মানতে গিয়ে কোনো কিছু ভুল ধরা পড়লে সেটাকে সংশোধন করে নিই, তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসি, তাহলে আশা করা যায় আমরা জান্নাতের অধিবাসী হতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

আনাস c হতে বর্ণিত, রাসূল a বলেন,حُفَّتِ ‌الْجَنَّةُ ‌بِالْمَكَارِهِ ‌وَحُفَّتِ ‌النَّارُ ‌بِالشَّهَوَاتِ ‘জান্নাত ‍দুঃখ-কষ্ট ও শ্রমসাধ্য বিষয় দ্বারা ঘেরা এবং জাহান্নাম কু-প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসা দ্বারা ঘেরা’।[13] জান্নাতের বর্ণনা সম্পর্কে আবূ হুরায়রা c বলেন, রাসূল a বলেছেন, ‘জান্নাতে এক বিশাল গাছ আছে, যার ছায়াতলে যে কোনো যাত্রী একশত বছর ধরে চলতে থাকবে (কিন্তু তা অতিক্রম করে যেতে পারবে না)’।[14]

হে দুনিয়ার ভালোবাসায় পাগল মানুষ! জান্নাত পাওয়ার জন্য, চিরস্থায়ীভাবে সুখী হওয়ার জন্য, হূরদের পাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করো, পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখো। আবূ সাঈদ খুদরী c হতে বর্ণিত, নবী a বলেন, ‘যে দলটি কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশে মুক্তার ন্যায় ঝলমলে তারকার মতো উজ্জ্বল। তাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষের জন্য দু’জন করে স্ত্রী (হূর) থাকবে এবং প্রত্যেক স্ত্রীর ৭০ জোড়া জামা থাকবে। এসব জামার ভিতর দিয়েও তার পায়ের গোছার অস্থিমজ্জা দেখা যাবে’।[15]

হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ সুখময় স্থান জান্নাত দান করুন, আমাদের কষ্ট দূর করুন- আমীন!

(চলবে)

  • পি.এইচ.ডি গবেষক, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া।

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৪২; তিরমিযী, হা/২৫৭৩।

[2]. সিলসিলা ছহীহা, হা/৫১২; তিরমিযী, হা/২৫৭৪।

[3]. সিলসিলা ছহীহা, হা/১১০৫; তিরমিযী, হা/২৫৭৭।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৪৩; তিরমিযী, হা/২৫৮৯।

[5]. সিলসিলা ছহীহা, হা/৯৫১; তিরমিযী, হা/২৬০১।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৯৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৩৭; তিরমিযী, হা/২৬০২।

[7]. ইবনু মাজাহ, হা/৪৩১৯; তিরমিযী, হা/২৫৯২।

[8]. তিরমিযী, হা/২৫৭২; মিশকাত, হা/২৪৭৮, সনদ ছহীহ।

[9]. তিরমিযী, হা/২৫৫৯।

[10]. ইবনু মাজাহ, হা/৪৩১৫; তিরযিমী, হা/২৬০০, সনদ ছহীহ।

[11]. তিরমিযী, হা/২৫৯৮, হাদীছ ছহীহ।

[12]. সিলসিলা ছহীহা, হা/২৪৫১; তিরমিযী, হা/২৫৯৭।

[13]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭২২; তিরমিযী, হা/২৫৫৯।

[14]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২৫২; তিরমিযী, হা/২৫২৩।

[15]. সিলসিলা ছহীহা, হা/১৭৩৬; তিরমিযী, হা/২৫৩৫।


(১১) তাওহীদ : সূরা আন-নাবাতে তিন প্রকার তাওহীদই রয়েছে। যথা-

(ক) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ : আল্লাহ তাআলা মানুষের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা, হায়াতদাতা, মৃত্যুদাতা, কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক, লালন-পালনকর্তা, সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান, তিনিই আসমান-যমীনের মালিক, সকল বিষয় তারই হাতে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الرَّحْمَنِ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًا﴾ ‘যিনি প্রতিপালক আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও ওগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুর, যিনি দয়াময়, তাঁর নিকট কারো কথা বলার শক্তি থাকবে না’ (আন-নাবা, ৭৮/৩৭)। আয়াতটি তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ-এর প্রমাণ বহন করে। কারণ মহান আল্লাহই হলেন সকলের লালন-পালনকর্তা, যেটি ‘রব’ শব্দ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়। তিনিই আসমান-যমীন এবং এর মাঝে যা কিছু আছে, সবকিছুর প্রতিপালক।

(খ) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ বা তাওহীদুল ইবাদাহ : সকল প্রকার ইবাদত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা। যেমন ছালাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্জ, যবেহ, কুরবানী, নযর-মানত, দু‘আ-প্রার্থনা, ভয়-ভীতি, আশা-ভরসা, চাওয়া-পাওয়াসহ সকল ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই করা। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّا أَنْذَرْنَاكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنْظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَالَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا﴾ ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে নিকটতম শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, সেদিন মানুষ তার হাতের অর্জিত কৃতকর্মকে দেখবে আর কাফের বলতে থাকবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম! (আন-নাবা, ৭৮/৪০)। এই আয়াতটিতে প্রমাণিত হয়, প্রত্যেক ব্যক্তি যেসব কর্ম আগে প্রেরণ করেছে, সৎকর্ম নাকি পাপ কর্ম, সে অনুযায়ী সেই ব্যক্তি প্রতিদান পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ﴾ ‘আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার নিকটই সাহায্য চাই, (আল-ফাতেহা, ১/৪)। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿إِلَهِ النَّاسِ﴾ ‘যিনি মানবমণ্ডলীর প্রকৃত মা‘বূদ’ (আন-নাস, ১১৪/৩)।

(গ) তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত : পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহতে আল্লাহ তাআলার যেসব উত্তম নাম ও গুণ রয়েছে, সেগুলোর কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়া, পরিবর্ধন ছাড়া, কারো সাথে সাদৃশ্যতা স্থাপন করা ছাড়া এবং কেমন বা কীভাবে- এরূপ ধরন নির্ধারণ ছাড়া, সেগুলো অস্বীকার না করে হুবহু যেভাবে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا لَا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَقَالَ صَوَابًا﴾ ‘সেদিন রূহ (জিবরীল) ও দিবেন ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবেন, দয়াময় যাকে অনুমতি তিনি ব্যতীত অন্যেরা কথা বলতে পারবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে’ (আন-নাবা, ৭৮/৩৮)। আয়াতে ‘আর-রহমান’ আল্লাহর একটি অন্যতম গুণবাচক নাম। তিনি করুণাময় ও দয়ালু। বিধায় তিনি আমাদের উপর করুণা ও দয়া করেন।

মহান আল্লাহ বলেন, ﴿الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ﴾ ‘যিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু’ (আল-ফাতেহা, ১/২)। তিনি আরো বলেন,﴿وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾ ‘আর আল্লাহর অসংখ্য উত্তম ও সুন্দর নাম রয়েছে। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নাম দ্বারা ডাকবে, আর তাদেরকে বর্জন করবে, যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, সত্বর তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৮০)। আল্লাহর উত্তম নাম ও গুণাবলিকে কোনো ধরনের বিকৃত করা যাবে না। যেমন তাঁর হাত রয়েছে। এটা প্রকৃত অর্থেই হাত বলতে হবে, কুদরতী ও নেয়ামতী হাত নয়। তিনি প্রকৃতভাবেই দেখেন, শুনেন ইত্যাদি। সাথে সাথে আল্লাহর গুণাবলিকে সাব্যস্ত করতে গিয়ে কোনো সৃষ্টির সাথে সেগুলো তুলনা করা যাবে না। এমন বলা যাবে না যে, আমার হাতের মতোই আল্লাহর হাত, আমার পায়ের মতোই আল্লাহর পা (নাঊযুবিল্লাহ)। বরং বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহর হাত, পা, দেখা-শুনা, কথা বলা, হাসা- এগুলো আল্লাহর জন্য যেভাবে প্রযোজ্য তেমনই রয়েছে। আর মানুষ মরণশীল, আজ সে জীবিত আছে কিন্তু এক সেকেন্ডের মধ্যে তার অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে। বিধায় মানুষের গুণাবলি মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। তেমনই আল্লাহর গুণাবলি একমাত্র আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। কোনো সৃষ্টির সাথে আল্লাহর কোনো গুণের তুলনা করা চলবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾ ‘কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (আশ-শূরা, ৪২/১১)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো! তিনিই আল্লাহ একক (ও অদ্বিতীয়)। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। কেউ তাঁর সমকক্ষ নয়’ (আল-ইখলাছ, ১১২/১-৪)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবারই প্রতিপালক। সুতরাং তুমি একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই ইবাদতে প্রতিষ্ঠিত থাকো, তুমি কি তাঁর সমনামসম্পন্ন (তাঁর সাদৃশ্য বা সমতুল্য) কাউকেও জানো? (মারইয়াম, ১৯/৬৫)। আয়াতটিতে তিন প্রকার তাওহীদের কথাই বলা হয়েছে। সমস্ত ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্যই করতে হবে। প্রতিপালক, সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা, হায়াতদাতা, মৃত্যুদাতা, কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক একমাত্র আল্লাহই। সুতরাং স্রষ্টা ও প্রতিপালক হিসেবে তিনি একক। ‘সামিয়্যা’ শব্দটি থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলার সদৃশ কোনো কিছুই নেই। সুতরাং তাঁর সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করা যাবে না। যেমন আল্লাহকে ডাকেন এভাবে, يَا رَحْمَنُ হে করুণাময়! আমার উপর করুণা করো, দয়া করো, يَا غَفُوْرُ হে গফূর! বা মহা ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করো। এভাবে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অর্থ বুঝে তাঁকে ডাকতে হবে। আল্লাহ তাআলার করুণা এবং ক্ষমার সাথে অন্য কারো করুণা ও ক্ষমাকে তুলনা করা যাবে না। এভাবে মানব জীবনে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং শিরক ও বিদআতসহ অন্যান্য পাপকর্ম থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণ হবে ইনশাআল্লাহ। অতএব কেউ যদি বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে চায়, সে যেন তার জীবনে পরিপূর্ণভাবে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করে এবং সকল প্রকার শিরক-বিদআতসহ অন্যান্য পাপকাজ পরিত্যাগ করে।

মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ﴾ ‘নিশ্চয়ই ইবরাহীম এক জাতি ছিলেন, যিনি আল্লাহর অনুগত ও একমুখী আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না’ (আন-নাহল, ১৬/১২০)। ইবরাহীম e ছিলেন, মানব জাতির উত্তম আদর্শের প্রতীক এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, তাঁকে আগুনে ফেলা হয়েছে কিন্তু তিনি আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাসী থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আবার সন্তানকে কুরবানী করার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং শিরকী কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করেছেন। তিনি বিপদ-মুছীবতে সর্বদায় আল্লাহর উপর অবিচল থেকে আল্লাহর আনুগত্য করতেন এবং শিরকী কাজ থেকে নিজেও দূরে থাকতেন, পাশাপাশি সন্তানদেরকেও দূরে রাখতেন। আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ﴾ ‘আর যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে অন্য কাউকে শরীক করে না’ (আল-মুমিনূন, ২৩/৫৯)।

(১২) মাটির মানুষ মাটিতেই যেতে হবে : আল্লাহ তাআলা মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন আবার তাকে মাটিতেই ফিরে যেতে হবে। মৃত্যুর হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না। আবার কবরে যেতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ﴾ ‘আমি তো মানুষকে মৃত্তিকার মূল উপাদান হতে সৃষ্টি করেছি’ (আল-মুমিনূন, ২৩/১২)। মহান আল্লাহ বলেন,﴿ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ – ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ – ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ – ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ﴾ ‘অতঃপর আমি ওকে শুক্ররূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আঁধারে। পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে এবং রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি গোশতপিণ্ডে, গোশতপিণ্ডকে পরিণত করি হাড়সমূহে, অতঃপর হাড়সমূহকে ঢেকে দেই গোশত দ্বারা, অবশেষে ওকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান! এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে’ (আল-মুমিনূন, ২৩/১৩-১৬)। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّا أَنْذَرْنَاكُمْ عَذَابًا قَرِيبًا يَوْمَ يَنْظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ الْكَافِرُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا﴾ ‘সেদিন নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে নিকটতম শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম; সেদিন মানুষ তার হাতের অর্জিত কৃতকর্মকে দেখবে আর কাফের বলতে থাকবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম! (আন-নাবা, ৭৮/৪০)। সুতরাং মুসলিমদের উচিত, ইসলামের উপর, ঈমানের উপর অটল থাকা, যাতে করে পরকালীন জীবন সুখময় হয়। কারণ ইসলাম ব্যতীত সকল দ্বীন বাতিল। মহান আল্লাহ বলেন,﴿وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ﴾ ‘আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবনব্যবস্থা অন্বেষণ করে তা কখনই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে-ইমরান, ৩/৮৫)। অতএব হে কাফের! ইসলামের ছায়াতলে এসো, নইলে নাজাত পাবে না।

হে মানুষ! কবরে তোমাকে যেতেই হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ﴾ ‘অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান এবং তাকে কবরস্থ করেন’ (আবাসা, ৮০/২১)। হে মানবজাতি! একবার চোখ বন্ধ করে দেখো। হে মানব জাতি! রাতের অন্ধকারে, গভীর রাতে কবরস্থানে যাও, কেমন মনে হবে? তুমি দুনিয়াতে একাই এসেছ আবার তোমাকে একাই যেতে হবে। অন্ধকার কবরে তোমার কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। শুধু তোমার আমলগুলো থাকবে। হাদীছে আছে, ‘মৃত ব্যক্তির সাথে তিনটি জিনিস যায়। দুটি জিনিস ফিরে আসে আর একটি জিনিস তার সাথে থেকে যায়। তার সাথে যায় তার পরিবারের সদস্য, সম্পদ ও তার আমল। তার পরিবারের সদস্য ও তার সম্পদ ফিরে আসে আর তার আমল তার সাথে থেকে যায়’।[1]

উছমান c হতে বর্ণিত, তিনি যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন তখন এমন কাঁদতেন যে, তার দাড়ি ভিজে যেত। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি জাহান্নামের এবং জান্নাতের কথা স্মরণ করেন, অথচ কাঁদেন না, আর কবর দেখলেই কাঁদেন, ব্যাপার কী? তিনি বললেন, রাসূল a বলেন, ‘পরকালে (বিপজ্জনক) স্থানসমূহের মধ্যে কবর হচ্ছে প্রথম। যদি কেউ সেখানে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে তার পরের সব স্থানগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যদি কবরে মুক্তি লাভ করতে না পারে তাহলে পরের সব স্থানগুলো আরও কঠিন ও জটিল হয়ে যাবে’। অতঃপর তিনি বলেন, নবী করীম a-এটাও বলেছেন যে, ‘আমি এমন কোনো ভয়াবহ স্থান দেখিনি যা কবরের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে’।[2] আব্দুল্লাহ ইবনু উমার h বলেন, সা‘দ c মৃত্যুবরণ করলে রাসূল a বললেন, ‘সা‘দ এমন ব্যক্তি যার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপেছিল। তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং তার জানাযাতে ৭০ হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু এমন ব্যক্তির কবরও সংকীর্ণ করা হয়েছিল। অবশ্য পরে তা প্রশস্ত করা হয়েছিল’।[3]

হে আল্লাহ! আমাদেরকে কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আপনার নিকট সর্বোচ্চ জান্নাত তথা জান্নাতুল ফেরদাউস পাওয়ার আশা করছি এবং বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়ার আশা করছি। আমীন!

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৫১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৬০।

[2]. তিরমিযী, হা/২৩০৮, হাদীছ হাসান; মিশকাত, হা/১৩২।

[3]. নাসাঈ, হা/২০৫৫, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/১৩৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − seven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য