Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসৌদি আরবের পারমাণবিক কার্যক্রম

সৌদি আরবের পারমাণবিক কার্যক্রম

DF-3A ও DF-21 ব্যালাস্টিক মিসাইলগুলে পারমানবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম, আসলে এই ধরনের মিসাইলগুলো তৈরি করা হয় মূলত পারমাণবিক হামলার জন্যই, যেসব দেশ নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটির সদস্য তারা সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে বা রাখতে পারে না তাই ব্যালাস্টিক মিসাইলের নামে এই ধরনের মিসাইল দিয়ে মধ্যম বা লং রেঞ্জ শত্রুদের থ্রেটের উপর রাখার সুযোগ পায়।


১৯৮৮ সালে সৌদি আরব সর্বপ্রথম ডংফং 3A মিড রেঞ্জের মিসাইলগুলি চীনের কাছ থেকে কিনে, সে সময় আমেরিকা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সৌদি আরবের এই মিসাইল প্রাপ্তি বন্ধ করতে চেয়েছিলো, তৎকালীন সৌদিস্থ আমেরিকান এম্বাসাডর এই ইস্যুতে বেফাস মন্তব্য করে ২৪ ঘন্টার নোটিশে সৌদি আরব থেকে বিতাড়িত হয়েছিলো।


তারপর ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান পারমাণবিক কার্যক্রমের সফল পরীক্ষা করে, আমেরিকা সহ পৃথিবীর তাবৎ শক্তির অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে সেসময় সৌদি আরব শুধু পাকিস্তানকে রক্ষাই করেনি, পুরো পারমাণবিক কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছিলো। পাকিস্তানের যেসব ভক্ত সৌদি আরবের হেটার্স তারা জেনে রাখুক সৌদি আরব সাহায্য না করলে আজকে পাকিস্তানের অবস্থা আফ্রিকার কোনো দুর্ভিক্ষের কবলে পরা দেশের চেয়ে ভালো হতো না। আগেই বলেছি সৌদি আরব নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটির সদস্য, যেখানে সৌদি আরব নিজেই নিউক্লিয়ার বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য দেশ, সেখানে আরেকটি দেশের পারমাণবিক কার্যক্রমে কুটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য করতে কতোটা বুকের পাটা থাকতে হয় তা আম জনতার বোধ শক্তির বাহিরে!


পাকিস্তানের আগেই ভারত পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছিলো, তাই পাকিস্তান যদি পারমানবিক সক্ষমতা না পায় তাহলে পাকিস্তানের অস্তিত্ব যে মহা সংকটে তা সৌদি আরব ভালো করেই জানতো, মূলত এটাই ছিলো পাকিস্তানকে সাহায্য করার মূল কারন। তৎকালীন সৌদিস্থ পাকিস্তানি এম্বাসাডরকে সৌদি আরবের তদানিন্তন বাদশাহ ফাহাদ এই কথাই বলেছিলো; ‘আপনি জানেন আমার নিজেরাই নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটির সদস্য, কিন্তু আপনারা কেনো এই কাজ(নিউক্লিয়ার কার্যক্রম) করছেন তা আমরা জানি, সুতরাং আপনারা আমাদের কাছে যতটুকু আশা করেন তারচে বেশি আমরা করবো আপনাদের জন্য..’ ( https://youtu.be/0Q4HkzQjyag)


যারা পাকিস্তানকে ভালোবাসে ও সৌদি আরবকে ভারতের দালাল বলে আনন্দ পায় তাদের এই ইতিহাস জেনে রাখা দরকার। নয়তো প্রকৃতপক্ষে কে দালাল তা সহজেই বোধগম্য। প্রশ্ন হতে পারে সৌদি আরব ও গুটিকয়েক আরব দেশকে কেনো পাল্টা অবরোধ দিলো না পশ্চিমা সহ শক্তিধর দেশগুলো? উত্তর হলো পশ্চিমারা আরেকটি ১৯৭৩ এর তেল অবরোধ দেখার মতো সাহস করেনি আরবদের কাছ থেকে!
পাকিস্তানকে সাহায্য করার মূল কারন ছিলো মুসলিম স্টেট হিসেবে পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখা, এবং তারপরও সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক কার্যক্রমে অর্থ ভিক্ষা হিসেবে দেয়নি! বিনিময় ছিলো একেবারেই সহজ! পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার একটা অংশ সৌদি আরব পেয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও পাবে। ( https://youtu.be/rJdvR8VXl3M)


আপনি যদি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদিদের দিকে খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন মিডিয়ায় সৌদ আরবের এতো আধুনিকায়নের খবরেও ওরা কখনো সৌদি আরবকে সমর্থন করেনা, এমনকি ওরা এরদোগান ও ইরানকে সমর্থন করলেও সৌদি আরবকে করে না, কারন ঐযে,পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা!
ডংফং মিসাইলগুলি সম্পর্কে এতটুকু জেনে রাখুন এগুলো তেহরান বা তেল আবিব যেকোনো সময় উড়িয়ে দিতে সক্ষম। এবং এগুলো তাক করে রাখাও হয়েছে তেল আবিব ও তেহরান বরাবর! ( https://cutt.ly/oUhIyoH) (https://www.haaretz.com/.premium-saudis-aim-missiles-at…)


এখন কোনো বুদ্ধিমান নিশ্চই বলবেন না যে; তাহলে সৌদি আরব কেনো এগুলো ইসরায়েলে বা ইরানে মারে না? প্রশ্নটা করার আগে পাকিস্তানকে জিগ্যেস করুন কেনো তারা ইন্ডিয়ায় পারমাণবিক বোমা মারে না, কিংবা ইন্ডিয়া কেনো পাকিস্তানে মারে না? কিংবা চীন কেনো ইন্ডিয়ায় মারে না?
সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে যে সৌদি আরব তাদের নিজস্ব পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালাস্টিক মিসাইল কার্যক্রম সৌদি আরবের মাটিতেই জোরেশোরেই চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে এ বিষেয়। ২০১৮ সালে প্রথম পৃথিবীর সামনে বিষয়টা সামনে আসে, অবশ্য সৌদি আরব আজ পর্যন্ত এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, কিন্তু চীন স্বীকার করেছে।


পাকিস্তান থেকে পাওয়া পারমাণবিক বোমাগুলো আজ পর্যন্ত কোনো দেশ শত চেষ্টা করেও স্যাটেলাইট বা অন্য কোনোভাবে শনাক্ত করতে পারেনি, অর্থাৎ সৌদি আরব তাদের কার্যক্রম ইচ্ছে করলেই গোপন করতে পারে,সেখানে ডংফং কিংবা চলমান নিজস্ব মাটিতে পারমাণবিক কার্যক্রম কিভাবে আমেরিকা বা বাকি পৃথিবী জেনে গেলো? জেনে গেলো নাকি জানানো হলো?


ওবামা প্রশাসন ইরান-আমেরিকা দন্দের নাটকের আড়ালে ইরানকে পারমানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বিশাল পরিমান আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলো, ট্রাম্প প্রশাসন এসে এ বিষয়ে ভান্ডা ফাঁস করেছিলো। ওবামার সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রেসিডেন্ট হয়ে ক্ষমতায় আসার পর নানা টালবাহানার মাধ্যমে ইরানকে সরাসরি পারমাণবিক সক্ষমতা পাইয়ে দিতে কাজ করছে, মূলত বাইডেনকে জুয়িশ লবি এরজন্যই ক্ষমতায় এনেছে।


সৌদি আরবে ইসরায়েল বা আমেরিকা বা অন্য কোনো অমুসলিম দেশ কখনো সরাসরি আক্রমণ করতে পারবেনা, আক্রমণ করলে তাদের বন্ধু ইরান ও তুরস্কের মতো দেশ ও এমন মতাদর্শি লোকদের দ্বারাই করাতে হবে। মুসলমানরা তাদের পবিত্র শহরের অধিকারের জন্য লড়ছে, এতে বাকি পৃথিবীর বলার কিছু নাই; এটাই হবে ইরান ও তুরস্কের মতো দেশ কর্তৃক সৌদি আরব আক্রান্ত হলে মিডিয়ার শিরোনাম। আর অমুসলিম দেশ সৌদি আরবে আক্রমণ করলে মুসলিম দেশগুলো ও পৃথিবীর জনমত যে সৌদি আরবের পক্ষে চলে যাবে এই সহজ হিসাবনিকাশ সবাই জানে। তাই ইরানের মতো দেশকে পারমাণবিক সক্ষমতা পাইয়ে দেয়াই সৌদি আরব দখলের মূলমন্ত্র। আমরা এগুলো না জানলেও জাজিরাতুল আরবে এই হিসাবনিকাশ দিনের আলোর মতোই স্পস্ট। মিডিয়া আমাদেরকে যতোটা সহজে ডাইভার্ট করতে পারে, আরবদেরকে ততো সহজে পারে না৷


এইযে বাইডেন আসার পর ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে শুধু ঘনঘটা দেখছেন এগুলো সবই ইরানকে পারমানবিক সক্ষমতা পাইয়ে দেবার জন্য, যেমনটা ওবামা করে গিয়েছেন।
পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত মিসাইল প্লান্টকে ইচ্ছে করলেই পারমাণবিক বোমা তৈরির প্লান্টে রুপান্তর করা সম্ভব। সৌদি আরব তাদের নিজস্ব মাটিতে পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত মিসাইলের কার্যক্রম এরজন্যই লুকিয়ে রাখেনি যাতে আমেরিকা ও ন্যাটো এই ম্যাসেজ জানতে পারে; ইরানকে দিয়ে সৌদি আরবে আক্রমণ করাতে চাইলে তা হবে ইরান ও ইসরায়েলের জন্য ধ্বংসের কারন! এবং একি সাথে তা হবে প্রকাশ্যে সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা পাওয়ার হাতিয়ার!


ইশতিয়াক আহমেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য