প্রিয় শহর মদীনা মুনাওয়ারা থেকে বিদায় গ্রহণের সময়কাল ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। আজ মদীনার ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান জজ এবং স্বতন্ত্র অপরাধ বিভাগেরও প্রধান/ শাইখ ড. খালেদ বিন সাঈদ আস-সুবহীর নিকট থেকে বিদায় নিলাম।
১৪২৮ হিজরী থেকে আজোবধি দীর্ঘ পনের বছর মদীনা হাইকোর্ট ও মদীনা ক্রিমিনাল কোর্টে অনিয়মিত অনুবাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। আজ এ কাজের সমাপ্তি ঘটল।
এ সুবাদে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। অনেকেই ধারণাবশত বলে থাকেন, সৌদি আরবে সৌদি নাগরিক এবং অন্য নাগরিকদের মাঝে তারা বিচারিক ব্যবস্থায় বৈষম্য করে থাকেন। আরো শোনা যায়; বর্তমান সৌদি সরকার নাকি মদ হালালের লাইসেন্স দিয়েছেন.. আরো কতকি!!
তাই আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে এবং বিশেষ করে আজকের বিচার ফয়সালার একটি নমুনা তুলে ধরলাম:
[একজন সৌদি নাগরিক পার্শবর্তী দেশ থেকে মদ পাচার এবং মদ পানের অভিযোগে তাকে ৮০ টা বেত্রাঘাত, পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং পরবর্তী পাঁচ বছর দেশের বাইরে সফরে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করলেন। সাথে সাথে জজ তাকে কারাদণ্ডকালীন সময়ে কুরআন মুখস্ত করারও ওসিয়ত করলেন। সুতরাং, তার পরেও কি কথিত বক্তারা বলবেন, সৌদি আরবে ইসলামী অনুশাসন নেই, ইসলামী বিচারব্যবস্থার কোন তোয়াক্কা নেই… এবং বিচারিক-বৈষম্যের ফিরিস্তি তুলে ধরবেন!!!]
তাই দূর থেকে যতটা অনুমান করে অপবাদ দেওয়া হয় তা সত্য নয়। তাছাড়া এ ফয়সালা থেকে কি বুঝা যায় সৌদি সরকার মদ হালালের লাইসেন্স দিয়েছেন!! আল্লাহ আমাদের সহিহ সমঝ দান করুন।
আমি বিভিন্ন সময়ে বিচারিক অধিবেশনের অনুবাদ করার সুবাদে শাইখ ড. সালাহ আল-বুদাইর, শাইখ ড. আব্দুল মুহসিন আল-কাসেম এবং শাইখ ড. হুসাঈন আলুশ-শাইখ হাফেযাহুমুল্লাহ ইনারা সকলেই মসজিদে নববীর ইমাম ও খ্বতিব এবং মদীনা হাইকোর্টের জজ, ইনাদের সকলের একাধিকবার সরাসরি অনুবাদ করার সুযোগ পেয়েছি এবং লক্ষ করেছি তারা সর্বদা নিপুণভাবে কোরআন ও সুন্নাহর উপর ফয়সালা করেন এবং এক্ষেত্রে কোনভাবেই সরকারী কোন চাপ থাকে না।
আল্লাহ তা’আলা হারামাঈন শরীফাঈনের শাসকদেরকে হকের উপর অবিচল থাকার তৌফীক দান করুন এবং ভুল-ত্রুটি শুধরিয়ে মুসলিম উম্মাহর যথাযোগ্য খেদমত করার সুযোগ করে দিন।
✍️ ড. আব্দুল বাসির বিন নওশাদ
মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব
