Saturday, September 5, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াস্বামী-স্ত্রীর অধিকার ; আল্লামাহ সুলাইমান বিন সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলি হাফিযাহুল্লাহ

স্বামী-স্ত্রীর অধিকার [১ম পর্ব]; আল্লামাহ সুলাইমান বিন সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলি হাফিযাহুল্লাহ

একবার সাহাবি সালমান তাঁর ভাই আবু দারদার বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। যেয়ে দেখেন ভাবীসাহেবা উম্মু দারদা মলিন পোশাক পরে আছেন। বিস্মিত হয়ে কারণ শুধোতেই ভাবীসাহেবা জানালেন, ‘তোমার ভাই আবু দারদার দুনিয়া নিয়ে কোনো আগ্রহই নেই!’ ক্ষণকাল পরেই আবু দারদা এসে পড়লেন। ভাইয়ের জন্য খাবার প্রস্তুত করে বললেন, ‘তুমি খাও। আমি খাব না। কারণ আমি রোজা আছি।’ সালমান বললেন, ‘তুমি না খেলে আমিও খাব না।’ অগত্যা আবু দারদা নফল রোজা ভেঙে ভাইয়ের সাথে খেলেন। একটু রাত হতেই আবু দারদা নফল নামাজ আরম্ভ করতে উদ্যত হলেন। সালমান বলে ওঠলেন, ‘তুমি ঘুমোও।’
তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে আবার নফল নামাজের জন্য ওঠলেন। সালমান আবারও বললেন, ‘তুমি ঘুমোও।’ এরপর রাত যখন শেষ প্রহরে উপনীত হলো, তখন সালমান বললেন, ‘এখন রাতের নামাজ পড়।’ দু ভাই মিলে রাতের নামাজ পড়ে নিলেন। তারপর সালমান ভাইয়ের উদ্দেশে বললেন, ‘অবশ্যই তোমার প্রতি তোমার রবের অধিকার রয়েছে, তোমার প্রতি তোমার নিজেরও অধিকার আছে, আবার তোমার ওপর তোমার পরিবারেরও অধিকার আছে। তুমি প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করো।’ এরপর তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে সমস্ত ঘটনা শুনালে তিনি বললেন, ‘সালমান সত্য বলেছে।’ [সহিহ বুখারি, হা: ১৯৬৮]


প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করা সকলের জন্যই অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। আল্লাহর হক থেকে শুরু করে পিতামাতার হক, স্বামী-স্ত্রীর হক, সন্তানসন্ততির হক, আত্মীয়স্বজনের হক, প্রতিবেশীর হক, এমনকি বান্দার হকও আদায় করা আমাদের সবার জন্যই অত্যাবশ্যক। আর তাইতো দুনিয়ায় কেউ কারও অধিকার হরণ করলে বদলা দিতে হবে কেয়ামতের মাঠে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন অধিকারীদের নিকট সমস্ত অধিকার প্রত্যার্পণ করা হবে। এমনকি শিংবিহীন ছাগলকে নিয়ে আসা হবে শিংওয়ালা ছাগলের নিকট থেকে বদলা নিতে।’ [সহিহ মুসলিম, হা: ২৫৮২; সদ্ব্যবহার অধ্যায় (৪৬); পরিচ্ছেদ: ১৫]


আর অধিকারের ব্যাপারটি যখন হয় স্বামী-স্ত্রীর সংসারের সাথে সংশ্লিষ্ট, তখন তা হয়ে ওঠে আরও গুরুত্বের দাবিদার। কারণ এর ওপরেই নির্ভর করে একটি আদর্শ পরিবার বিনির্মাণ। এর মাধ্যমেই তৈরি হয় উম্মতের সুসন্তান, গড়ে ওঠে ইমানের বলে বলীয়ান এক সমৃদ্ধ মুসলিম সমাজ। পাশাপাশি অমরত্বসুধার মতো সুখের সন্ধানে ছুটোছুটি করা মানুষগুলোও এর মাধ্যমেই পেতে পারে কাংঙ্ক্ষিত সুখের স্নিগ্ধ পরশ। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্যের অস্তিত্ব নেই, স্বয়ং আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বরং পুরো পরিবারেই সুখের অবারিত ধারা বর্ষণ করবেন; যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়েই একে অপরকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রত্যার্পণ করে। তাই স্বামী-স্ত্রীর অধিকারগুলো জেনে নেওয়ার গুরুত্ব যে অনেক বেশি তা বলাই বাহুল্য।


এ বিষয়ে বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি সম্মাননীয় শাইখ আল্লামা সুলাইমান আর-রুহাইলি হাফিযাহুল্লাহ বিরচিত একটি অনিন্দ্য রচনা। মূলত এটি জেদ্দা নগরীতে ‘ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব অধিবেশনে’ প্রদত্ত একটি সারগর্ভ লেকচার। শাইখ সুলাইমান হাফিযাহুল্লাহ এ ভাষণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে খুবই প্রামাণ্য আলোচনা করেছেন। বইয়ে উদ্ধৃত হাদিসগুলোর মান উল্লেখ করা হয়েছে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম আলবানি রাহিমাহুল্লাহর তাহকিক অনুসরণ করে। আর বইয়ের শেষে শাইখ সুলাইমানও তাঁর নিজস্ব গবেষণালব্ধ তাহকিকের সিদ্ধান্ত পেশ করেছেন।


আমার স্বপ্ন ছিল এ বইটির অনুবাদ করব। স্বপ্নপূরণের এই আনন্দলাভের জন্য আমি আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি আমার শিক্ষাগুরু উস্তায আব্দুল্লাহ তারেক, মাকসুদ স্যার, উস্তায যাইনুল আবেদিন বিন নুমান প্রমুখের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যাঁরা আমাকে অনুবাদকর্মের উত্তম পরিবেশ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, পুনঃপুনঃ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম বিনিময় দিন। আর আমাদের লেখায় কোনো ভুল পেলে তা জানানোর জন্য আমাদের দ্বার খোলা রইল। দোয়া করি, গ্রন্থটির রচয়িতা, অনুবাদক, প্রকাশক, প্রচারক, পাঠক নির্বেশেষে সকল মুসলিম পরিবারের জন্য বইটি কল্যাণের হোক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ থেকে উপকৃত করুন এবং আমাদের সামান্য শ্রমটুকু কবুল করে নিন। আমিন।
·
[পরিবারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা]
নিশ্চয় সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য নিবেদিত। আমরা তাঁর সাহায্য চাইছি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমাদের আত্মার অনিষ্ট ও মন্দ আমল থেকেও আল্লাহর শরণ যাচ্ঞা করছি। আল্লাহ যাকে সুপথ দেখান, তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারে না। আর যাকে বিপথগামী করেন, তাকে কেউ সুপথে আনতে পারে না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসুল।
হে ইমানদারগণ, আল্লাহকে যথাযথ ভয় করতে থাক এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না। [সুরা আলে ইমরান: ১০২]


হে মানবমণ্ডলী, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ (আদম) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করে থাক এবং আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর (তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে সাবধান থাক)। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। [সুরা নিসা: ১]


হে মুমিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং নায্য কথা বল। তিনি তোমাদের কর্মাবলি সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। যে ব্যক্তিই আল্লাহ ও তার রসুলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। [সুরা আহজাব: ৭০-৭১]


অনন্তর সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই আদর্শ। আর নবউদ্ভাবিত বিষয়াদিই সর্বনিকৃষ্ট বিষয়। প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদাত। প্রত্যেক বিদাতই পথভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার স্থান হবে জাহান্নামে।


সম্মাননীয় ভাইয়েরা, আজ আমরা এমন এক রজনীতে জমায়েত হয়েছি, যা জুমুআহর রজনী। মহান আল্লাহর কাছে চাইছি, তিনি যেন এতে বরকত দেন, এ রাতে বিদ্যমান রয়েছেন এমন সবাইকে বরকত দেন এবং এ রাতে আমাদের ব্যক্তীকৃত সমুদয় কথায় বরকত প্রদান করেন। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনা করতে জমায়েত হয়েছি। আর কেনইবা তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে না? বিষয়টি যে পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত। যেই পরিবার একটি সমাজব্যবস্থার অন্তর্গত, দেহাবয়বের মধ্যে হৃদয়ের অবস্থানের ন্যায় তার অবস্থান। অন্তর ঠিক থাকলে যেমন পুরো শরীর-কাঠামো ঠিক থাকে, আর অন্তরের বিনষ্টি সাধিত হলে পুরো শরীর-কাঠামো ভেস্তে যায়; [] ঠিক তেমনি পরিবার ঠিক থাকলে পুরো নগরকাঠামো ঠিক থাকে, আর পরিবারের বিনষ্টি সাধিত হলে পুরো নগরকাঠামো ভেস্তে যায়। [() বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে সহিহ বুখারি (হা: ৫২) ও সহিহ মুসলিমে (হা: ১৫৯৯)।]


আর আলোচ্য বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ববহ হবে নাই বা কেন, এটা যে মানুষের প্রশান্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। মানুষের অন্তর প্রশান্ত হলে তার জীবন প্রশান্ত হয়, তার ইবাদত ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। ব্যক্তি স্বীয় নামাজে বিনম্র হয়, রোজায় প্রফুল্লতা পায় এবং ইবাদতের পথগুলো তার কাছে জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠে। এ বিষয়টি কেনইবা তালিবুল ইলমদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে না, এটা যে স্বামী-স্ত্রী, তরুণ-তরুণী, ছেলেমেয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিষয়টি মূলত বিবাহিত ও বিবাহে উৎসুক এমন সবার সাথেই সম্পৃক্ত, আর সামগ্রিকভাবে পুরো লোকসমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। এ কথার সমর্থন রয়েছে আমাদের রবের কিতাবে এবং আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে।


আমাদের ইসলাম ধর্ম বিশ্বজগতের জন্য দয়া ও অনুকম্পার ধর্ম; কল্যাণ, সৌভাগ্য, কৃতকার্যতা ও সফলতার জীবনব্যবস্থা। সর্বযুগ ও সর্বজায়গায় দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের জন্য ফলপ্রসূ হবে এমন বিষয় নিয়েই ইসলাম আগমন করেছে। সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টি তথা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধর্ম ব্যতিরেকে মানুষের সফলতা আসতে পারে না। আল্লাহ যে বিষয়েরই নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে রয়েছে অগণিত উপকার ও কল্যাণ। আর আল্লাহ যা থেকেই নিষেধ করেছেন, তাতে রয়েছে অজস্র বেহদ্দ ক্ষতি আর অনিষ্ট।


ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। ওহে মুসলিম, তোমার জীবনের প্রতিটি দিকের ব্যাপারেই ইসলামের বিবরণ ও বিশদ নির্দেশনা রয়েছে। এরই অন্তর্গত হলো সামাজিক সম্পর্ক ও সমাজ সংস্কারের প্রতি ইসলামের গুরুত্বারোপ। সমাজ সংস্কারের ব্যাপারটি যেহেতু পরিবার সংশোধনের অনুগামী হয়েছে, সামাজিক সম্পর্ক যেহেতু পারিবারিক সম্পর্কেরই পরিণতি হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, পারিবারিক সুখ যেহেতু পরিণয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়েছে, সেহেতু ইসলাম বিবাহ ও পরিণয়ের বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
·
[ইসলামে বিবাহের অবস্থান]

মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বিবাহের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً “নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে তাকে তোমরা বিয়ে কর; দুটি, তিনটি অথবা চারটি। আর যদি আশঙ্কা করো, তোমরা ন্যায়সম্মত আচরণ করতে পারবে না, তবে একটি।” [সুরা নিসা: ৩]


সত্যপন্থি ও সত্যায়িত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যুব-সম্প্রদায়কে সম্বোধন করে বলেছেন, يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّه أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ “হে যুব-সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে তার দৃষ্টিকে অবনমিত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে উত্তমরূপে হেফাজত করে।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫০৬৬; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪০০]


সুপ্রিয় উপস্থিতি, বিবাহের ফলে সম্পন্ন হয় হার্দিক প্রশান্তি, আত্মিক সুখ, যৌনাঙ্গের হেফাজত, সম্ভ্রমের সুরক্ষাবিধান এবং দৃষ্টির অবনমন। বিবাহে ব্যক্তির জন্য যেমন কল্যাণ রয়েছে, তেমনি সমাজের জন্যও এতে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। বিবাহে রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মহত্তর গুণ। বিয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রক্রিয়া। কেয়ামতের দিন আমাদের নবি সকল উম্মতের কাছে স্বীয় উম্মতকে নিয়ে যে গর্ব করবেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে করণীয় কর্মপ্রচেষ্টাও রয়েছে বিয়ের মধ্যেই। মানবজাতি লুপ্ত হয়ে না যাওয়ার একটি মাধ্যমেও বটে এই বিবাহ।


সমাজের মানুষদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার পথ সুগম করে বিবাহ। পরিবারগুলোর মাঝে ছড়িয়ে দেয় হৃদ্যতা ও মমতা। মানবহৃদয়ের মাঝে সম্প্রীতি তৈরি হয়, আর সম্পর্কের দূরত্বগুলো ঘুচে যায় বিয়ের মাধ্যমে। কত পরিবারই না এমন রয়েছে, যারা অন্য পরিবারকে স্রেফ দূর থেকেই চিনত। অথচ তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে বিবাহোত্তর আত্মীয়তা। পরিবারগুলো কাছে এসেছে। এমনকি পরিণত হয়েছে এমন অবস্থায়—যেন তাদের পরিবার এক ও অভিন্ন। সর্বোপরি বিয়ের সর্বাংশ জুড়ে রয়েছে কল্যাণ। সমাজব্যবস্থা আবর্তিত হচ্ছে বিয়ের ওপরেই। এজন্য ইসলাম এমন বিধিবিধান এনেছে, যা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মমতাকে জাগরিত রাখে। কারণ ইসলামে বিবাহের মানে দয়া, মমতা, ভালোবাসা, হার্দিক প্রশান্তি, আত্মিক সুখ ও আন্তরিক স্থৈর্য।


সুপ্রিয় উপস্থিতি, আমাদের ধর্মে বিয়ে স্রেফ দুজন নর ও নারীর সম্পর্ক-চুক্তি নয়, স্রেফ আবেগ থেকে উদ্ভূত সম্পর্ক নয়। বরং এ এমন এক বাঁধন, যার প্রতি একজন মুসলিম অগ্রগামী হয়। আর সে জানে, এ বিয়ের কাংঙ্ক্ষিত লক্ষ্য উভয়ের মাঝে ভালোবাসা, মমতা, প্রশান্তি ও সুখের আবেশ আনয়ন করা। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً “তাঁর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে—তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীলোকদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া।” [সুরা রুম: ২১]


বিয়েতে মানুষ যদি ইসলামের আনীত বিধান পালন করে, তাহলে সত্যিকারার্থেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্প্রীতি ও মমতা তৈরি হবে, তাদের গৃহে এবং তাদের পার্শ্বস্থ ব্যক্তিবর্গের মাঝে ভেসে বেড়াবে অনাবিল সুখ। কিছুপূর্বে যা বলা হলো তারই দরুন সম্পন্ন হবে উক্ত বিষয়। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর অধিকার নির্ধারণ করেছে, এসব অধিকার তাদের দুজনের জন্য নিশ্চিত করবে এমন সুখী, সৌভাগ্যময়, প্রশান্ত ও মনোহর জীবন, যার পুরোটা জুড়েই রয়েছে মমতা, সত্যতা ও আন্তরিকতা।
·
[স্বামী-স্ত্রীর যৌথ অধিকার]


সুপ্রিয় ভাইয়েরা, স্বামী-স্ত্রীর যৌথ অধিকারগুলোর মধ্যে কিছু অধিকার আছে বিয়ের প্রস্তাবদানের পূর্বে আরোপিত হয়, কিছু অধিকার বিয়ের প্রস্তাবদানের সময় জরুরি হয়, কিছু অধিকার বৈবাহিক আকদ (চুক্তি) সংঘটিত হওয়ার সময় জরুরি হয়, আর কতিপয় অধিকার আরোপিত হয় বিয়ে হয়ে গেলে হয়।
·
[প্রস্তাবদানের পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার]


বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর অধিকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—চয়ন করার অধিকার। অর্থাৎ ধার্মিকতা, সততা ও সচ্চরিত্রতার ভিত্তিতে উক্ত চয়নকার্য সম্পন্ন হবে। ফলে একজন পুরুষলোক একজন রমণীর ব্যাপারে আগ্রহী হবে তার ধার্মিকতা, সততা ও সচ্চরিত্রতার কারণে। তদ্রুপ একজন নারীও একজন পুরুষের ব্যাপারে আগ্রহী হবে তার ধার্মিকতা, সততা ও সচ্চরিত্রতার কারণে। কেননা এটা কল্যাণ ও সৌভাগ্যের ভিত্তি। যার ধার্মিকতা বিলীন হয়, তার কল্যাণও বিলীন হয়ে যায়। যার ধর্ম নেই, তার মাঝে কোনো কল্যাণই নেই; যদিও তার কাছে সুখ ও সৌভাগ্যের নানা উপকরণ বিদ্যমান থাকে। এজন্য আমাদের মহান রব বলেছেন, يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ “তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন।” [সুরা মুজাদিলা: ১১]


মহান আল্লাহ মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার মতো বিষয় প্রাপ্তির জন্য ইলমকে মাধ্যম করেছেন, যদি তা ইমানের সাথে যুক্ত হয়। কেননা দ্বীনের সাথে যুক্ত না হলে কোনোকিছুতেই কল্যাণ থাকতে পারে না। দ্বীন বিলীন হলে কল্যাণও বিলীন হয়; যদিও মানুষের মধ্যে কল্যাণের অনেক মাধ্যম বিদ্যমান থাকে। দাম্পত্যজীবনের দায়িত্ব-কর্তব্যের সামনে ধার্মিকতা ব্যতিরেকে সৌন্দর্য কোনোই উপকারে আসবে না। ধার্মিকতাকে ছেড়ে ঐশ্বর্য কোনো কাজে আসবে না। ধার্মিকতা বাদ দিয়ে বংশমর্যাদা কোনো উপকারে আসবে না। আর অবশ্যই ধার্মিকতার সাথে সাথে সচ্চরিত্রতাও থাকতে হবে। কারণ দাম্পত্যের পথ বড্ড দীর্ঘ। এ পথের দাবি রয়েছে, স্থায়ী সম্পর্কের মতো ব্যাপার রয়েছে। তাই এ পথের স্থায়িত্ব ও বলদৃপ্তির জন্য প্রয়োজন ধার্মিকতা ও সচ্চরিত্রতার।


ভাইয়েরা আমার, বিয়ে ক্ষণিকের দৃষ্টিভ্রম নয়। বিয়ে একটি পারস্পরিক স্থায়ী সম্পর্কের নাম। একজন মানুষ নিজ গৃহে এমন বিষয়াদি থেকে মুক্ত থাকবে, বাড়ির বাইরে যেসবের সাথেই তাকে জড়িত থাকতে হয়। সে একজন নারীর সাথে মেলামেশা করবে। নারী তার কাছে নানা বিষয় চাইবে, সেও তার কাছে চাইবে নানা বিষয়। একসাথে কাটিয়ে দেবে সুদীর্ঘ সময়। সচ্চরিত্রতার সহযোগে ধার্মিকতা ব্যতীত অন্যকিছু এ বিষয়টিকে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। পারে না উক্ত বিষয়কে সঠিক, যথার্থ, নিরবচ্ছিন্ন ও নিত্য নবায়িত রাখতে, যার ফলে দাম্পত্যে সবেগে নির্গত হয় সুখ ও ভালোবাসার ঝরনাধারা।
সুপ্রিয় উপস্থিতি, মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতায় সবকিছুই শীর্ণকায় হয়। স্রেফ ধার্মিকতা আর সচ্চরিত্রতা ব্যতীত। এ জিনিস সতেজ ও স্থায়ী রয়ে যায়। কল্যাণ ও সৌভাগ্যকে নিত্য নবায়ন করতে থাকে ধার্মিক লোকদের জন্য। এজন্য আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামী-স্ত্রীর প্রতি উক্ত বিষয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্বামীর উদ্দেশে বলেছেন, تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে নারীকে বিয়ে করা হয়। তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার ধার্মিকতা। সুতরাং তুমি ধার্মিক নারীকেই প্রাধান্য দেবে। (এরপর নবিজি স্নেহপরায়ণ হয়ে বললেন) তোমার উভয় হস্ত ধুলোমলিন হোক (এটা স্নেহার্থে ব্যবহৃত একটি আরবি ইডিয়ম)।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪৬৬]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধার্মিক রমণীর প্রতি স্বামীকে অনুপ্রাণিত করে বলেছেন, لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ قَلْبًا شَاكِرًا وَلِسَانًا ذَاكِرًا وَزَوْجَةً مُؤْمِنَةً تُعِينُ أَحَدَكُمْ عَلَى أَمْرِ الْآخِرَةِ “তোমাদের প্রত্যেকেই যেন নিজের জন্য গ্রহণ করে নেয় কৃতজ্ঞ অন্তর, জিকিরকারী রসনা এবং আখেরাতের কাজে তাকে সহায়তাকারী ইমানদার স্ত্রী।” [ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৫৬; তিরমিজি, হা: ৩০৯৪; সনদ: হাসান]


তিনটি জিনিস যদি তোমার কাছে থাকে, তবে তোমার জন্য সেগুলো সমুদয় কল্যাণকে ভরপুর করে দেবে। কৃতজ্ঞ অন্তর, জিকিরকারী রসনা এবং কল্যাণকামী দ্বীনদার স্ত্রী, যে তোমাকে আখেরাতের কাজে সহয়তা করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ “পুরো দুনিয়া উপভোগের উপকরণ। আর দুনিয়ার উৎকৃষ্ট উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।” [সহিহ মুসলিম, হা/১৪৬৭; স্তন্যপান অধ্যায় (১৮); পরিচ্ছেদ: ১৭]
কবি বলেছেন,
ليس الفتاة بمالها وجمالها ~ كلا ولا بمفاخر الآباء
لكنها بعفافها وبطهرها ~ وصلاحها للزوج والأبناء
“তরুণী নিরূপিত হয় না ঐশ্বর্য আর খুবসুরতিতে, আর না নিরূপিত হয় পূর্বসূরির মর্যাদা-গৌরবে।
বরং কন্যা হয় গুণবতী আপন পবিত্রতা ও সতীত্বে
যার হিতাকাঙ্ক্ষিতা থাকে স্বীয় পতি ও অপত্যে।”


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো স্ত্রী প্রসঙ্গে বলেছেন। তিনি এখানে স্বামীর উদ্দেশে বিবরণ দিলেন। তাহলে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি স্ত্রীর উদ্দেশে কোনো বিবৃতি দিয়েছেন? আমরা বলব, জি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিভাবকদের নির্দেশ দিয়েছেন সচ্চরিত্র ধার্মিক পাত্র চয়ন করতে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ “তোমাদের নিকট যদি এমন কোনো ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার চরিত্র ও ধার্মিকতার ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে (তোমাদের মেয়েদের) বিবাহ দাও। তোমরা যদি তা না করো, তাহলে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।” [তিরমিজি, হা: ১০৮৪; ইবনু মাজাহ, হা: ১৯৬৭; সনদ: হাসান]


কাবার রবের শপথ, আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন, “তোমরা যদি তা না করো, তাহলে পৃথিবীতে বিপর্যয় ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।” মানুষ যখন চরিত্রবান দ্বীনদার পাত্রের সাথে বিয়ে দেবে না, তখন অবশ্যই ফিতনা সংঘটিত হবে। কারণ এতে করে সে এমন লোকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবে যার ধার্মিকতাও নেই, সচ্চরিত্রতাও নেই। এমন পাত্র পরিণীতার সাথে কীরূপ আচরণ করতে পারে? সে তাকে নিপীড়িত করবে। তার কাছে এমন কিছু তলব করে বসবে, যা আল্লাহ হারাম করেছেন। অথচ অভিভাবক স্বীয় কন্যাকে হারাম থেকে দূরে সরিয়ে নিজের কাছে আগলে রাখত। কিন্তু সে এমন ব্যক্তির কাছে তাকে সমর্পণ করল, যে কিনা তাকে আল্লাহর হারামকৃত কর্মে নিপাতিত করে!


চরিত্রবান ধার্মিক পাত্রের কাছে যদি বিয়ে না দেওয়া হয়, চরিত্রবান ধার্মিক পাত্র যদি চয়ন করা না হয়, তাহলে অবশ্যই ফিতনা ও বড়ো বিপর্যয় সংঘটিত হবে। জনৈক ব্যক্তি হাসান বিন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার মেয়েকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন একদল লোক, আমি কার সাথে বিয়ে দেব? তিনি উত্তরে বলেন, زَوِّجْها لِمَن يَخافُ اللهَ؛ فإن أَحَبَّها أَكْرَمَها، وإن أَبْغَضَها لَم يَظْلِمْها “আল্লাহভীতি আছে এমন পাত্রের কাছেই তাকে সম্প্রদান করো। যদি পাত্র তাকে পছন্দ করে নেয়, তবে তাকে মর্যাদা দেবে। আর অপছন্দ করলে অন্তত তার প্রতি জুলুম করবে না।” [ইবনু আবিদ দুনইয়া কৃত আল-ইয়াল, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১৭৩]


সে ধার্মিক পাত্রের সাথে ভালো অবস্থায় দিনাতিপাত করবে। যদি পাত্র তাকে ভালোবেসে ফেলে, মহান আল্লাহ যদি তার অন্তরে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা দিয়ে দেন, তবে সে তাকে মর্যাদা দেবে, তাকে উচ্চাসনে উন্নীত করবে। আর যদি তাকে অপছন্দ করে, তার অন্তরে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার ঠাঁই না হয়, তবে সে স্ত্রীর অমর্যাদা করবে না, তাকে পিত্রালয়ে ফেরত পাঠাবে না, তার প্রতি অবিচার করবে না। বরং সে তার সাথে যথাযোগ্য ব্যবহারই করবে।
·
[প্রস্তাবদানের সময় স্বামী-স্ত্রীর অধিকার]


প্রস্তাবদানের সময় স্বামী-স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার হচ্ছে, পাত্র যখন বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মনস্থ করবে, আল্লাহ যখন পাত্রের অন্তরের খবর জানবেন, সে সত্যই তাকে প্রস্তাব দিতে চায়, তখন পাত্রীকে দেখা তার জন্য মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) আমল হিসেবে বিবেচিত হবে। যাতে করে পাত্রীর সাথে তার বিবাহবন্ধন জাগ্রত জ্ঞান অনুসারে সম্পন্ন হয়। এটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মমতা ও ভালোবাসা এবং দুটো অন্তরের হৃদ্যতা বহমান থাকার একটি অন্যতম মাধ্যম হবে; যদি আল্লাহ তাদের দুজনের ভাগ্যে বৈবাহিক-মিলন লিখে থাকেন। ফলে পরিণীতা যখন জানতে পাবে, এই পাত্রকে কোনো অকস্মাৎঘটিত বিষয়ের সামনে ফেলা হয়নি। বরং সে তাকে দেখেছে, সে আপন বিষয়ে কর্মস্বাধীনও ছিল, তথাপি তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হয়েছে। তখন নববধূর অন্তর তার প্রতি অনুরাগী হবে, তার প্রতি ভালোবাসা প্রগাঢ় হবে।


মুগিরা বিন শোবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে এক মহিলার কথা উল্লেখ করলাম যাকে আমি বিয়ের প্রস্তাব দিতে চলেছি। তিনি বললেন, ‘তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও।’ ইয়া রসুলাল্লাহ, এ কাজের রহস্য কী? ‘কারণ এতে করে তোমাদের মধ্যে হৃদ্যতা তৈরি হবে।’ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ “তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেবে, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু যেন দেখে নেয় যা তাকে বিবাহে উৎসাহিত করে।” [আবু দাউদ, হা: ২০৮২; সনদ: হাসান]


একদা জনৈক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, সে আনসার সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏: فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِي أَعْيُنِ الأَنْصَارِ شَيْئًا “তুমি কি তাকে একবার দেখেছে?” সে বলল, ‘না।’ তিনি বললেন, “যাও। তুমি তাকে একবার দেখে নাও। কারণ আনসারদের চোখে সামান্য ত্রুটি আছে।” [সহিহ মুসলিম, হা: ১৪২৪; বিবাহ অধ্যায় (১৭); পরিচ্ছেদ: ১২] অর্থাৎ ক্ষুদ্রতা রয়েছে। আনসার মহিলাদের চোখে সামান্য ক্ষুদ্রতা আছে। তাই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘তুমি তাকে একবার দেখে নাও।’ যাতে করে সে নিজের কর্মের ব্যাপারে জাগ্রতজ্ঞানসম্পন্ন থাকে।


তবে ভাইয়েরা, এরূপ দর্শন অনুমোদিত হওয়ার শর্ত রয়েছে। দর্শন হতে হবে নির্জনতামুক্ত। কারণ হাদিসে বেগানা নারীর সাথে নির্জনতা অবলম্বন করা থেকে পুরোপুরি নিষেধ করা হয়েছে পুরুষকে। বিধায় পাত্রীকে তার মাহরাম পুরুষের অনুপস্থিতিতে পাত্র দেখতে পারবে না। এই পরিস্থিতির নিমিত্ত যে আলাদা বিধান রয়েছে, সেই মর্মে কোনো দলিল পাওয়া যায় না। এ থেকে আমরা দুই শ্রেণির মানুষের ভুল সম্পর্কে জানতে পারি। একদল লোক রয়েছে, তাদের কাউকে যদি প্রস্তাবদাতা পাত্র বলে, ‘আমি আপনার কন্যার পাণিপ্রার্থী। আল্লাহই জানেন, আমি এক্ষেত্রে সত্যবাদী। সুতরাং আমি তাকে একবার দেখে নিতে চাই।’ তখন সেই লোক বলে বসে, ‘আমাদের মেয়েদের দেখা যাবে না!’


আরেকদল লোক আছে, তাদের কারও কাছে প্রস্তাবদাতা এলে সে বলে, ‘এও নাও, মেয়েকে নিয়ে যাও। ওকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে যাও, তোমার যেখানে ইচ্ছে সেখানে নিয়ে যাও। ওর সাথে বস। দুজন মিলে আলাপ করো। একে অপরকে বুঝে নাও। নিজেদের বিভিন্ন বিষয়ে পরিচিত হও। পরস্পরের চরিত্রবৈশিষ্ট্য জেনে নাও। এই যে কক্ষ! এখানে তোমরা একান্ত হয়ে বস, দুজনে গল্প করো!’


প্রকৃতপ্রস্তাবে উভয় শ্রেণিই নিন্দনীয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটাই মধ্যপন্থা। নির্জনতা অবলম্বন না করে পাত্র পাত্রীকে দেখে নেবে। সে পাত্রীকে দেখবে, তখন পাত্রীর অভিভাবক তার সাথে থাকবে। আবার সে তার প্রতীক্ষায় থেকে চুপিসারে পাত্রীর অজান্তেই তাকে দেখে নিতে পারবে। কারণ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেছেন, َخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا “আমি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেবার পর তাকে দেখার জন্য লুকিয়ে থাকতাম। অনন্তর আমি তার মাঝে এমন কিছু দেখি যা আমাকে তার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে আকৃষ্ট করে। ফলে আমি তাকে বিয়ে করি।” [আবু দাউদ, হা: ২০৮২; সনদ: হাসান]


মুহাম্মাদ বিন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, خَطَبْتُ امْرَأَةً فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهَا فِي نَخْلٍ لَهَا فَقِيلَ لَهُ أَتَفْعَلُ هَذَا وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا أَلْقَى اللهُ فِي قَلْبِ امْرِئٍ خِطْبَةَ امْرَأَةٍ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا “আমি এক মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। তাকে দেখার জন্য আমি চুপিসারে প্রতীক্ষায় থাকতাম, এমনকি আমি তাকে তার খর্জূর বাগানে দেখে ফেললাম।” তাঁকে বলা হলো, ‘রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবি হয়ে আপনি এই কাজ করলেন?’ তিনি বললেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যখন আল্লাহ কারও অন্তরে কোনো মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাবদানের আগ্রহ তৈরি করেন, তখন তাকে দেখে নেওয়াতে দোষের কিছু নেই।” [ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৬৪; সনদ: সহিহ]

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِلْخِطْبَةِ، وَإِنْ كَانَتْ لَا تَعْلَمُ “যখন তোমাদের কেউ কোনো রমণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন তাকে দেখে নেওয়াতে দোষের কিছু নেই, যদি সে বিয়ের প্রস্তাবদানের নিমিত্তেই তাকে দেখে থাকে। যদিও পাত্রী এ দর্শনের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকে না।” [মুসনাদু আহমাদ, খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৪২৪; সিলসিলা সহিহা, হা: ৯৭; সনদ: সহিহ]


ভাইয়েরা, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যদি সে বিয়ের প্রস্তাবদানের নিমিত্তেই তাকে দেখে থাকে।’ সে উপভোগ করার জন্য, কিংবা মজা ও অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য দেখবে না। বরং সে যা বলবে, সত্য বলবে এবং বিয়ের প্রস্তাবদানের ক্ষেত্রে দৃঢ়সিদ্ধান্তে বহাল থাকবে। অন্যথায় তার পাত্রীদর্শন হারাম কাজ হিসেবেই পরিগণিত হবে; যদিও সে মুখে বলে, ‘আমি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চাই।’ সুতরাং হে মুসলিম ভাই, পাত্রীদর্শন অনুমোদিত হওয়ার শর্ত হচ্ছে মহান আল্লাহকে জানতে হবে—আর তিনি সর্ববিষয়ে অবহিত, চোখের চোরাচাহনি আর অন্তরস্থ গুপ্তবিষয়ও তাঁর অবগতির বাইরে নয়—তোমার অন্তরে এই পাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাবদানের ক্ষেত্রে সত্য অভিলাষই রয়েছে।


প্রস্তাবদানের সময় স্বামী-স্ত্রীর অন্যতম অধিকার হচ্ছে, বিয়েতে জানার প্রয়োজন রয়েছে স্বামী-স্ত্রীর এমন বৈশিষ্ট্য বলে দেওয়া এবং এক্ষেত্রে সত্যভাষী হওয়া। আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا أَوْ قَالَ حَتَّى يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا “ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের এক্তিয়ার থাকবে (ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করার)। যদি তারা দুজনে সত্য বলে এবং প্রকৃত অবস্থা ব্যক্ত করে, তবে তাদের ক্রয়বিক্রয়ে বরকত দেওয়া হবে। আর যদি দোষ গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তবে তাদের ক্রয়বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়।” [সহিহ বুখারি, হা: ২০৭৯; সহিহ মুসলিম, হা: ১৫৩২]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মালের বিনিময়ে মাল কেনাবেচার ক্ষেত্রে একথা বলেছেন। তাহলে আল্লাহর বান্দা, বল দেখি, বিয়ের মতো ব্যাপারে তোমার অন্তর কী রায় দিতে পারে, যা কিনা একটি স্থায়ী সম্পর্কের বাঁধন? নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থা বলে দেওয়া এবং সত্যভাষী হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ যা জানিয়ে দেওয়া দরকার তা গোপন করে ফেলা—চাই তা পাত্রের প্রসঙ্গে হোক, কিংবা পাত্রীর প্রসঙ্গে—এক পক্ষকে ধোঁকা দেওয়ার নামান্তর। আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, َمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا ‏ “যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” [সহিহ মুসলিম, হা: ১০১-১০২; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছেদ: ৪৩]
·
[বিবাহের আকদের সময় স্বামী-স্ত্রীর অধিকার]


বিবাহের আকদ তথা বৈবাহিক চুক্তির সময় স্বামী-স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার হচ্ছে—পাত্রীর মোহর হবে সহজে আদায়যোগ্য। এতে কোনো অতিরঞ্জন থাকবে না এবং পাত্রকে তার সাধ্যাতীত ভার চাপানো চলবে না। কেননা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সুখ তখনই আসবে, যখন ঋণের বোঝা আর ঋণ পরিশোধের চিন্তায় স্বামী ক্লিষ্ট থাকবে না। স্বামী এমন অনুভব করবে না যে, একই ছাদের নিচে সে যেই রমণীর সাথে বাস করছে, সে-ই তার এমন চিন্তাক্লিষ্টতার জন্য দায়ী, যে উৎকণ্ঠার দায়িত্ব তার ছিল না এবং যা দূর করাও তার সাধ্যের অতীত!


ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যিনি ছিলেন তৌফিকপ্রাপ্ত বান্দা এবং অন্যতম সুপথপ্রাপ্ত খলিফা, لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللهِ كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَلَا أُصْدِقَتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنْ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ وَيَقُولُ قَدْ كَلِفْتُ إِلَيْكِ عَلَقَ الْقِرْبَةِ “মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে তোমরা অতিরঞ্জন কোরো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাকওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই এ ব্যাপারে তোমাদের সবার চেয়ে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের মোহর বারো উকিয়ার (অর্থাৎ পাঁচশো রৌপ্যমুদ্রার) বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মোহর স্বামীর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর মনে বৈরিতা সৃষ্টি হয়, এমনকি সে বলে বসে, আমি তোমার জন্য পানির মশক বহনে বাধ্য হয়েছি।” [ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৮৭; নাসায়ি, হা: ৩৩৪৯; সনদ: সহিহ]


বিবাহের আকদের সময় স্বামী-স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার হচ্ছে—মোহরের যে পরিমাণের ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সম্মত হয়েছে, স্বামী তার স্ত্রীকে ঠিক ততটুকুই সামান্যতম হ্রাসও না করে পরিপূর্ণ অংশ প্রদান করবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “আর খুশিমনে নারীদেরকে তাদের প্রদেয় মোহর প্রদান কর।” [সুরা নিসা: ৪] মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا “আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রীকে পরিবর্তন করতে ইচ্ছে করো এবং তাদের কাউকে অঢেল ধনসম্পদ প্রদান করে থাক, তাহলে তোমরা তা হতে কিছুই প্রতিগ্রহণ কর না।” [সুরা নিসা: ২০]


বিবাহের আকদের সময় স্বামী-স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার হচ্ছে—যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের প্রতি শর্ত পালনের অঙ্গীকার প্রদান করেছে, তার জন্য অন্যের কাছে প্রদত্ত শর্তাবলি পূরণ করে দেওয়া ওয়াজিব; যেসব শর্ত অপরজন তার প্রতি আরোপ করেছে, আর সেও তা গ্রহণ করে নিয়েছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَحَقُّ الشُّرُوطِ أَنْ تُوفُوْا بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوْجَ “শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবি রাখে তা হলো সেই শর্ত, যা দিয়ে তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের হালাল করেছ।” [সহিহ বুখারি, হা: ২৭২১; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪১৮]


বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, জনৈক ব্যক্তি এক মহিলাকে বিয়ে করে এবং উক্ত মহিলার পক্ষে মহিলার গৃহকে শর্ত হিসেবে প্রদান করে। অর্থাৎ সে ওই রমণীর কাছে এ শর্ত পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় যে, সে তাকে তার বাড়ি থেকে বের করবে না। কারণ মহিলা শর্তারোপ করেছিল, সে নিজের বাসগৃহেই অবস্থান করবে। পুরুষলোকটি এ শর্ত গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু সে স্ত্রীর কাছে প্রবেশ করে তাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চায়। এতে করে মহিলার পক্ষের লোকেরা তার বিরুদ্ধে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে অভিযোগ দায়ের করে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ফায়সালা দেন, ‘মহিলা তার শর্ত পাবে।’ অর্থাৎ তোমার জন্য ওয়াজিব তার শর্ত পূরণ করা। লোকটি বলল, ‘তাহলে তো তিনি আমাদের বিচ্ছেদ ঘটালেন।’ ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, مَقَاطِعُ الْحُقُوقِ عِنْدَ الشُّرُوطِ “কোনো চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করলেই অধিকার সাব্যস্ত হয়, যা আদায় করা আবশ্যক।” [সহিহ বুখারিতে মুআল্লাক সূত্রে বর্ণিত, বিবাহ অধ্যায় (৬৭); পরিচ্ছেদ: ৫৩; নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবি শাইবা কৃত মুসান্নাফ গ্রন্থে (হা: ১৬৪৪৯ ও ২২০৩১), সাইদ বিন মানসুর কৃত সুনান গ্রন্থে (হা: ৬২২ ও ৬৮০)]


বিবাহের আকদের সময় স্বামী-স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার হচ্ছে বিয়ে হতে হবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে। মেয়ে পূর্ববিবাহিতা হোক কিংবা না হোক, মেয়েকে বিয়ে করতে জোর করা অভিভাবকের জন্য জায়েজ নয়। উক্ত জোরজবরদস্তি যেমনই হোক না কেন, তা অবৈধ। সুপ্রিয় ভাইয়েরা, সম্মতি ও সন্তোষের অর্থ এই নয় যে, যে কোনোভাবে মহিলা বললেই হলো, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি।’ যদিও তাকে এ কাজে বাধ্য করা হয়। যেমন কাজ কতিপয় মূর্খ অভিভাবক করে থাকে। অর্থাৎ মেয়েকে প্রহার করা এবং ভয় দেখানো, ‘যদি সে এই পাত্রকে বিয়ে না করে, তবে তাকে কোনোদিন বিয়ে দেবে না।’ অথবা এমন হুমকি দেওয়া, ‘যদি সে এই পাত্রকে গ্রহণ না করে তাহলে তার মাকে তালাক দিয়ে দেবে।’ হয়তো সে পাত্রকে কবুল করে নেয়, আর মূর্খ অভিভাবক মনে করে, সে বিয়েতে সম্মত হয়েছে, অথচ আল্লাহ জানেন, সে বাধ্য হয়ে হ্যাঁ বলেছে।


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, تُسْتَأْمَرُ الْيَتِيمَةُ فِي نَفْسِهَا، فَإِنْ سَكَتَتْ فَهُوَ إِذْنُهَا، وَإِنْ أَبَتْ فَلَا جَوَازَ عَلَيْهَا “সাবালিকা কুমারি মেয়ে থেকে সরাসরি সম্মতি নিতে হবে। সে চুপ থাকলে সেটাই তার সম্মতি হিসেবে বিবেচিত হবে। সে অসম্মতি প্রকাশ করলে তার প্রতি কোনো জবরদস্তি করা চলবে না।” [আবু দাউদ, হা: ২০৯৩; তিরমিজি, হা: ১১০৯; নাসায়ি, হা: ৩২৭০; সনদ: হাসান]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, لَا تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا الْبِكْرُ إِلَّا بِإِذْنِهَا قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا إِذْنُهَا قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ “কোনো বিধবা মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া এবং কুমারিকেও তার অনুমতি না নিয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না।” সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, কুমারির অনুমতি কী?’ তিনি বললেন, ‘চুপ থাকা।’ [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৩৬; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪১৯; আবু দাউদ, হা: ২০৯২; হাদিসের শব্দাবলি আবু দাউদের]


ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, أَنَّ جَارِيَةً بِكْرًا أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَتْ أَنَّ أَبَاهَا زَوَّجَهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ، فَخَيَّرَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “একদা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক অবিবাহিতা মেয়ে এসে বলল, তার অসম্মতিতে তার পিতা তাকে বিয়ে দিয়েছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে এক্তিয়ার প্রদান করলেন (সে বিয়ে বহালও রাখতে পারে অথবা বিচ্ছেদও ঘটাতে পারে)।” [আবু দাউদ, হা: ২০৯৬; ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৭৫; সনদ: সহিহ]


বিবাহের আকদের সময় স্বামী-স্ত্রীর একটি অন্যতম অধিকার বিয়ের ঘোষণা দেওয়া এবং বিয়ের প্রচার-প্রসার করা; যাতে করে বিয়ে গোপনে না হয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَعْلِنُوا النِّكَاحَ “তোমরা বিয়ের ঘোষণা করে দাও।” [ইবনু হিব্বান, খণ্ড: ৯; পৃষ্ঠা: ৪০৬৬; হাকিম, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২৭৪৮; আহমাদ, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৫; আলবানি কৃত আদাবুয যিফাফ, পৃষ্ঠা: ১০৫; সনদ: হাসান]
এরই আওতাভুক্ত হবে বিয়ের অলিমা (পাত্র প্রদত্ত বৈবাহিক ভোজ) আয়োজনের মাধ্যমে বিয়েতে খুশি ও আনন্দ জাহির করা। এমন অলিমার আয়োজন করবে, যা স্বামীর কাঁধে ভারি হয় না এবং তার ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয় না। বরং পাত্রের সাধ্যানুযায়ী অলিমার আয়োজন করা হবে; এতে কোনো অপচয় ও অতিরঞ্জন করা যাবে না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রহমান বিন আওফের উদ্দেশে বলেছেন, أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ “একটি ছাগল দিয়ে হলেও অলিমা কর।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৬৭; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪২৭]


নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অলিমা দিয়েছেন। যিনি ছিলেন আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টির সেরা, যিনি ছিলেন আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা পরহেজগার। তিনি সাফিয়্যা বিনতে হুওয়াইয়ের সাথে পরিণয়ের দরুন অলিমা দিয়েছিলেন ছাতু আর খেজুর দিয়ে। কার অলিমা, বলুন দেখি? আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অলিমা। আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْلَمَ عَلٰى أَحَدٍ مِنْ نِسَائِه مَا أَوْلَمَ عَلَيْهَا “যাইনাব বিনতে জাহাশের সঙ্গে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিয়ের সময় যে অলিমার ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন, তার চেয়ে বড়ো অলিমার ব্যবস্থা তাঁর অন্য কোনো স্ত্রীর বিয়েতে আমি দেখিনি।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৬৮; সহিহ মুসলিম, হা: ১৪২৮]
যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহার অলিমা ছিল বড়ো ধরনের অলিমা। এত বড়ো অলিমার আয়োজন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্য কোনো স্ত্রীর বিয়েতে করেননি। আপনি জানেন, কী ছিল সেই অলিমা? অলিমার পরিমাণ কী ছিল? অলিমাটি আসলে কত বড়ো ছিল? অলিমার ব্যাপ্তি কেমন ছিল? আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “এতে তিনি একটি ছাগল দিয়ে অলিমা করেন।” [প্রাগুক্ত] স্রেফ একটি ছাগল ছিল রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অলিমা।

এরই আওতাভুক্ত হবে মহিলা ও বালিকাদল কর্তৃক দফ বাজানো আর ভালো সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বিবাহের ঘোষণা দেওয়া এবং বিয়েতে আনন্দ ও হর্ষ জাহির করা। রুবায়্যি বিনতে মুআওয়্যিজ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ بُنِيَ عَلَيَّ فَجَلَسَ عَلَى فِرَاشِيْ كَمَجْلِسِكَ مِنِّيْ وَجُوَيْرِيَاتٌ يَضْرِبْنَ بِالدُّفِّ يَنْدُبْنَ مَنْ قُتِلَ مِنْ آبَائِهِنَّ يَوْمَ بَدْرٍ حَتَّى قَالَتْ جَارِيَةٌ وَفِيْنَا نَبِيٌّ يَعْلَمُ مَا فِيْ غَدٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْلِيْ هَكَذَا وَقُوْلِيْ مَا كُنْتِ تَقُوْلِيْنَ “আমার ফুলশয্যার রজনী পরবর্তী প্রত্যুষে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং তুমি যেমন আমার কাছে বসে আছ ঠিক সেভাবে আমার পাশে আমার বিছানায় এসে বসলেন (খালিদ ইবনু জাকওয়ানের উদ্দেশে বলেছেন একথা রুবায়্যি)। তখন কয়েকজন ছোটো বালিকা দফ (একমুখো তবলা) বাজিয়ে বদর যুদ্ধে নিহত পূর্বপুরুষদের প্রশংসাগীতি আবৃত্তি করছিল। শেষে এক বালিকা বলে ওঠল, ‘আমাদের মাঝে এমন একজন নবি আছেন, যিনি জানেন, আগামী দিন কী হবে।’ তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এমন কথা বলবে না, বরং আগে যা বলেছিলে তাই বল’।” [সহিহ বুখারি, হা: ৪০০১] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই বালিকার গানকে সমর্থন করেন, কিন্তু তিনি কেবল তার এই কথার বিরোধিতা করেছেন।


আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি জনৈক আনসারি সাহাবির জন্য একজন মেয়েকে কনে হিসেবে সাজিয়ে দেন, যে তাঁর কাছেই এতিম অবস্থায় লালিতপালিত হয়েছে। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَا كَانَ مَعَكُمْ لَهْوٌ فَإِنَّ الأَنْصَارَ يُعْجِبُهُمْ اللَّهْو “তোমরা এতে আমোদপ্রমোদের ব্যবস্থা করনি? আনসাররা আমোদপ্রমোদ পছন্দ করে।” [সহিহ বুখারি, হা: ৫১৬২] অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন, فَهَلْ بَعَثْتُمْ مَعَهَا بِجَارِيَةٍ تَضْرِبُ بِالدُّفِّ ، وَتُغَنِّي ؟ قَالَتْ : تَقُولُ مَاذَا ؟ قَالَ : تَقُولُ : أَتَيْنَاكُمْ ، أَتَيْنَاكُمْ، فَحَيُّونَا نُحَيِّيكُمْ ، لَوْلَا الذَّهَبُ الْأَحْمَرُ مَا حَلَّتْ بِوَادِيكُمْ، وَلَوْلَا الْحَبَّةُ السَّمْرَاءُ مَا سَمِنَتْ عَذَارِيكُمْ “তোমরা কি এই কনের সাথে কোনো বালিকাকে পাঠিয়েছ, যে দফ বাজিয়ে আসবে?” আমি বললাম, ‘সে গিয়ে কী বলবে?’ তিনি জবাব দিলেন, “সে বলবে, এসেছি মোরা তোমাদের পানে, এসেছি মোরা তোমাদের পানে। স্বাগত জানাও তোমরা মোদের, মোরাও স্বাগত জানাই তোমাদের। লাল বরণ স্বর্ণ না থাকলে হতো না সুশোভিত তোমাদের মরু এলাকা। আর পিঙ্গল বরণ গম না হলে মোটা হতো না তোমাদের বালিকা-কন্যারা!” [তাবারানি কৃত মুজামুল আওসাত, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৩২৬৫; আলবানি কৃত ইরওয়াউল গালিল, হা: ১৯৯৫; সনদ: হাসান]


রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালিকা কী বলবে তাও শিক্ষা দিয়েছেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, فَصْلُ مَا بَيْنَ الْحَرَامِ وَالْحَلاَلِ الدُّفُّ وَالصَّوْت “হালাল ও হারাম বিবাহের মধ্যে পার্থক্য হলো দফের বাজনা এবং লোকজনের কল্লোল (বিবাহের প্রচার)।” [তিরমিজি, হা: ১০৮৮; ইবনু মাজাহ, হা: ১৮৯৬; নাসায়ি, হা: ৩৩৬৯; সনদ: সহিহ]


পক্ষান্তরে দাম্পত্যের সাজঘরে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার হলো ঈপ্সিত বিষয়। যখন নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রী জীবনসিন্ধুতে একটি কিশতি নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করে। আর আসলেই জীবন স্রোতবিক্ষুব্ধ সাগরের ন্যায়। এতে মৃদু সমীরণ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে ঝঞ্ঝাবায়ুর ঝঞ্ঝাট। এতে যেমন বিমোহিতকারী আনন্দ-পুলক রয়েছে, তেমনি রয়েছে দুঃখদারী বিষণ্নতা। এ জীবনে ক্রোধ-রোষ রয়েছে, রয়েছে পরিতৃপ্তি ও সুপ্রসন্নতা। কিশতিতে সকল আরোহীর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন। কিশতির যাত্রা নিরাপদ হতে যা লাগে তা যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে এর প্রয়োজন হয়। যেন নবদম্পতি সুখ-শান্তি আর নিরাপত্তা নিয়ে সমুদ্রভ্রমণ করতে পারে সর্বশেষ বন্দরের পানে। যে বন্দরনিবাসের ব্যাপারে আমরা মহান আল্লাহর কাছে যাচ্ঞা করি, তা যেন হয় বিশ্ব-পালনকর্তার জান্নাত। সেখানে স্বামী-স্ত্রী থাকবে একইসাথে, যেমন তারা একত্রে ছিল দুনিয়াতে। জীবনের এই সফরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই জানা দরকার—কী অধিকার রয়েছে তাদের দুজনের।


ভাইয়েরা, ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকারগুলো মহান আল্লাহর নৈকট্যের ওপর ভিত্তিশীল। তাই এসব অধিকার বাস্তবায়ন করা এমন এক বিষয়, যা পালন করে একজন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট থেকে উত্তম প্রতিদান কামনা করে থাকে।
·
ক্রমশ চলবে, ইনশাআল্লাহ।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা
www.facebook.com/SunniSalafiAthari

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য