কোরবানির ঈদকে ঘিরে বাড়তে থাকে কাঁচামরিচের ঝাল। গত কয়েক দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকে দাম। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, সুযোগ সন্ধানি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এরা সিন্ডিকেট। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সরকারকে বিপদে পড়তে হবে। মরিচের কেজি এক হাজার টাকা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। সিন্ডিকেটের হোতাদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে গত রোববার ভারত থেকে ৬০ টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। হাজার টাকার কাঁচামরিচ গতকাল সোমবার এক ধাক্কায় নেমে আসে ২০০ টাকায়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিন রামপুরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে করে কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগেরদিন ছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। তার আগের দিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে খুচরা ব্যবসায়ীদের।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসায় দাম কমতে শুরু করেছে। সামনে আরও কমে আসবে বলেও জানান তারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশে কোনো উৎসব এলেই নিত্যপণ্যের বাজার উর্ধ্বমুখি হয়। এবার ঈদে টার্গেট ছিল কাঁচামরিচের উপর। ফলে কারসাজির মাধ্যমে কাঁচামরিচের দাম বাড়ানো হয়। কারওয়ান বাজারে দেখা যায় ১৫০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। শনির আখড়া এলাকার জয়নাল নামে এক ক্রেতা বলেন, ৭০০/৮০০ টাকা কেজি কাঁচামরিচ! ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে তামাশা করেছে। এসব দেখার কেউ নেই।
কাঁচামরিচ বিক্রেতা ফয়সাল বলেন, আমাদের তো কিছু করার নেই। আমরাই তো কাঁচামরিচ নিয়ে মহা বিপদে ছিলাম। দাম শুনে তো নিজেই অবাক হয়েছি। তবে ভারত থেকে বিপুল পরিমান কাঁচামরচি আমদানি হওয়ায় দাম কমে আসছে। সামনে আরও দাম কমবে।
ঈদের আগে থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে কাঁচামরিচের দাম। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হয় এই পণ্যটি। হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামরিচ নিয়ে শুরু হয় নানা সমালোচনা। এ অবস্থায় ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। গত রোববার একদিনেই ভারত থেকে ৬০ টন কাঁচামরিচ দেশে আসে। আমদানির খবরেই তর তর করে পড়তে থাকে কাঁচামরিচের দাম। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
