সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ঘটনা একের পর এক ঘটে যাচ্ছে যা বিচ্ছিন্ন তো কোনভাবেই নয় বরং কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত অ্যালার্মিং। বর্ডারে পুশইন, মন্দির নিয়ে ঢাকা অচলের হুমকি, বাইরের শক্তির সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশেই আলাদা প্রদেশ করার হুমকি – এগুলো কস্মিনকালেও কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকের চশমায় দেখলে এগুলো এক ভয়াবহ ও সুসংগত নকশা। তথাকথিত উদারপন্থার বুলি আউড়ানো স্টারলিঙ্ক ব্যবহারকারী যে সাংবাদিক সাহেব দাড়ি-টুপিওয়ালা তরুণদের জুডো-কারাতের মতো সাধারণ শারীরিক প্রশিক্ষণ দেখলেই ‘জঙ্গিবাদের’ ভূত দেখেন, সেই একই ব্যক্তির রাডারে চৈতালী চক্রবর্তীর প্রকাশ্য দেশদ্রোহিতা ধরা পড়ে না। [১] যখন জয়-শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরেই আলাদা প্রদেশ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন ‘সুশীল ফ্রন্ট’ অদ্ভুতভাবে নীরব। এই নীরবতা কি কেবল কাকতালীয়, নাকি কোনো বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ? হরিদাসকে মিডিয়ার কুসুম কুসুম শিরোনাম কিসের ইঙ্গিত দেয়?
আমরা বারবার সতর্ক করেছি—হাসিনার পলায়ন ছিল দিল্লির জন্য গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ‘স্ট্র্যাটেজিক ফেইলিওর’। এই ভূ-রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে তারা এখন ডেসপারেট। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা এখন তাদের আগ্রাসী চাণক্য নীতিকে আর পর্দার আড়ালে রাখছে না। [২] অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর ‘আলাদা প্রদেশ’ গঠনের ঘোষণা কোনো সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ট্রায়াল বেলুন। ভূ-রাজনৈতিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘টেস্টিং দা গ্রাউন্ড’ অর্থাৎ ক্ষেত্র কতটুকু প্রস্তুত হয়েছে। তারা লক্ষ্য করে:
-প্রতিক্রিয়া কেমন?
-প্রতিক্রিয়ার ধরন কী?
-প্রতিক্রিয়া আসতে কত সময় লেগেছে?
-কারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?
-মিডিয়া কী ভূমিকা পালন করেছে?
-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী করেছে?
-ঘটনাটি কি ধামাচাপা পড়েছে নাকি প্রতিরোধ করা গেছে?
এমন আরো বেশ কিছু প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষন করা হয়।
আরো লক্ষ্য করুন, এই একই ঘোষণা যদি কোনো দাড়ি-টুপিওয়ালা আলেম দিতেন, তবে এতক্ষণে পশ্চিমা মিডিয়া থেকে শুরু করে শাহবাগী সুশীলদের রাডারে ‘ইসলামী জঙ্গিবাদ’ এর সাইরেন বেজে উঠত। অথচ চৈতালীদের বেলায় অদ্ভুতভাবে – ‘অল কোয়ায়েট অন দা সুশীল ফ্রন্ট’! এই নমনীয়তা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করে যে, থিংস আর মুভিং টু আ ডেফিনিটিভ ডেস্টিনেশন।
ভারত তার আগ্রাসী চাণক্য নীতি নিয়ে এখন আর কোনো রাখঢাক করছে না। মেহেদি হাসানের সাথে রাম মাধবের সেই কুখ্যাত ‘অখণ্ড ভারত’ ঘোষণা থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারীর ‘ঢাকা দখল’ কিংবা মাত্র দুটি রাফায়েল জেট দিয়ে বাংলাদেশকে কুপোকাত করার দম্ভ – সবই একই সুতায় গাঁথা। [৩] সীমান্তে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পুশ-ইন এবং সীমান্ত ঘেঁষে হরিদাসের মন্দির-মূর্তি প্যাকেজের রাজনীতি মূলত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক ধরনের ‘সাইকোলজিক্যাল প্রেশার’ বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার। [৪] This is what a fourth gen warfare looks like – যেখানে সরাসরি যুদ্ধের বদলে প্রক্সি এজেন্ট এবং ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়!
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বসে যারা বিদেশের সাহায্য নিয়ে ভূখণ্ড ভাগ করার স্বপ্ন দেখে, তারাই একটি প্রক্সি যুদ্ধের ফুট সোলজার, they are just not the random ones. আর যারা তাদের এই দেশদ্রোহিতার সময় নীরব থাকে, আরো স্পষ্ট করে বললে তাদের ধর্ম এবং বিশ্বাসের পরিচয় দেখে কথা বলার মত ন্যুনতম গাটস অ্যান্ড কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলে তাদের স্পষ্ট ভাবে আমাদের মার্ক করে নেয়া দরকার। কারন তারা এই যুদ্ধের বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগী।
মনে রাখবেন, চাণক্য নীতিতে কোনো কিছুই ‘র্যান্ডম’ নয়। প্রতিটি উস্কানি, প্রতিটি সীমান্ত লঙ্ঘন এবং প্রতিটি সাম্প্রদায়িক কার্ড একটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সময় এসেছে এই ডটগুলো কানেক্ট করার!
