সউদী আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের উদ্দেশ করে অতিগুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান বক্তব্য রেখেছেন এবং বিজয়ীদের বই উপহার দিয়েছেন, এটা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তবে পুরস্কার প্রদত্ত পুস্তকসমূহের মধ্যে এমন একটি পুস্তক রয়েছে যা এক সমকামী লেখকের। যার নাম ইউভাল হারিবী এবং তার বইয়ের নাম নেক্সাস। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ বইয়ে এলজিবিটিকিউ ও সমকামিতা-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে। বইটি কারা বা কোন কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করেছিলেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে বিশ্ববিজয়ী হাফেজদের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক।
কেননা, সমকামিতা ইসলামের দৃষ্টিতে অতিজঘণ্য ও নৈতিকতা গর্হিত মারাত্মক অপরাধ। যার জন্য রয়েছে অতিকঠোর শাস্তির বিধান। যে অপরাধ ‘সুদুম’ হযরত লুত (আ.) এর যুগে পাপাচারীরা প্রকাশ্যে করত। নবী হযরত লুত যথাসাধ্য চেষ্টা করার পরেও ব্যর্র্র্থ হনই না বরং পাপিরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করতে থাকে। শুধু আল্লাহপাক তখন ক্রোধান্বিত হয়ে এক রাতের শেষ প্রহরে ‘সুদুম’ এলাকাটি অনেক ঊর্ধ্বে তুলে নিয়ে উল্টিয়ে নিচে ফেলে ধসিয়ে দেন এবং চতুর্দিক হতে প্রবলভাবে প্রস্তর বর্ষণ করে ধ্বংস করে দেন। মৃতসাগর বা ‘ডেডসি’ নামে যা আজও বিদ্যমান। যে গন্ধবি হ্রদের পানি এতই লবণাক্ত যেকোনো মৎস্য এমনকি কোনো পোকামাকড়ও সেখানে জন্মাতে পারে না, এমনকি লৌহ ফেললেও তা ভাসে। পবিত্র কুরআনে এ কাহিনীর বিবরণ আছে। বাইবেলেও এর উল্লেখ রয়েছে।
আমরা পবিত্র কুরআন ও ইতিহাস থেকে কিছুটা তুলে ধরছি:-
হযরত লুত (আ.) ছিলেন হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ভাতিজা। তিনি হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। নবুওয়াতপ্রাপ্ত হলে তিনি সুদুমবাসীদের হেদায়েতে আত্মনিয়োগ করেন। ‘সুদুম’ জর্দান ও ইসরাইলে অবস্থিত একটি জনপদ ছিল। আল্লাহর গজবে ইহা ধ্বংস হয়ে হ্রদে পরিণত হয়, যা মরুসাগর নামে পরিচিত। আরবি ভাষায় একে ‘বাহরে লুত’ বলা হয়। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন, ‘এবং আমি লুতকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এবং তাকে উদ্ধার করেছিলাম এমন এক জনপদ হতে যার অধিবাসীরা লিপ্ত ছিল অশ্লীল কাজে। তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায় সত্যত্যাগী (২১:৭৪)’
‘এবং লুতকেও পাঠিয়েছিলাম। সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল তোমরা এমন কুকর্ম করছ যা তোমাদের পূর্বে কেউ করেনি। তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ত্যাগ করে পুরুষদের নিকট গমন কর; তোমরা তো সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। (৭:৮০-৮১)’
হযরত লুত (আ.)-এর সম্প্রদায় তাদের কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থের জন্য নারীদের পরিবর্তে অল্প বয়সী সুশ্রী বালকদের সহিত কৃতকর্মে লিপ্ত হতো।
আল্লাহ বলেন, যখন তাদের ভাই লুত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি সাবধান হবে না? আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রসূল। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য করো।
সৃষ্টির মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষের সহিতই উপগত হও এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীলোক সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক। তোমরা তো সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। তারা বলল, হে লুত! তুমি যদি বিরত না হও; তবে অবশ্যই। তুমি নির্বাসিত হবে। লুত বলল, ‘আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি হে আমার প্রতিপালক আমাকে এবং আমার পরিবারকে ওরা যা করে তা থেকে রক্ষা করো (২৬:১৬১, ১৬৯)
আল্লাহ তায়ালার আজাবের সময় ঘনিয়ে এলো। হযরত লুত আল্লাহর নির্দেশে শহর থেকে বেরিয়ে গেলেন। তার স্ত্রী রাস্তা থেকে ফিরে এলো।
রাতের শেষাংশে একটি ভয়ঙ্কর শব্দ শ্রুত হলো, যা সুদুম জনপদকে উপরে উঠিয়ে উল্টিয়ে দিলো। ফলে সুদুম ও সুদুমবাসীদের অস্তিত্ব চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। আকাশ থেকে পাথর ও কঙ্করের অবিরাম বৃষ্টি হতে থাকলো। (১১:৮২, ৮৩, ১৫:৬৫-৭৬। ২৯:৩১-১৭৫)।
আল্লাহপাক তার পরিবারবর্গকে (স্ত্রী ছাড়া) ও ঈমানদার লোকদের এই ভয়াবহ আজাব হতে রক্ষা করলেন। তাঁর স্ত্রী ছিল কাফিরদের দলে। ফলে সেও ধ্বংস হয়ে গেল।
আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, হাফেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নেক্সাস’ বইটি তুলে দেয়ার প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন? এটা কি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল?
