Tuesday, September 8, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরহাসপাতাল না কসাইখানা??

হাসপাতাল না কসাইখানা??

আজকে দেশের দৈনিক পত্রিকা গুলায় একটা শিরোনাম বেশ দেখা যাচ্ছে যে মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার জন্য স্তন অপারেশন করার পর তরুণীর মৃত্যু।

খবরের সোশ্যাল রিয়াকশন ওই তরুণীকে ঘিরে হলেও আড়ালে থেকে যাচ্ছে তরুণীর অপারেশন করা হাসপাতাল।

বলছিলাম রাজধানীর পান্থপথ গ্রীণ রোডে অবস্থিত ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালেরই কথা যেখানে এই তরুণী তার স্তন অপারেশন করে পুরুষ হতে গিয়ে মারা যায়।

হাসপাতালটিকে এভাবে মানুষের অঙ্গ কেটে ফেলার লাইসেন্স কে দিয়েছে সেটার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পেলেও টাকার জন্য এই হাসপাতাল সবই করতে পারে তার বেশে কিছু রেকর্ড পাওয়া গেছে অন্ততঃ দুইটা অনলাইন গণমাধ্যমে।

২০১৮ সালে অনলাইন গণমাধ্যম বহুমাত্রিকের একটি নিউজে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে চিকিৎসার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমটিতে বলা হয় রোগীর মৃত্যুর পরও ‘জীবিত’ দাবি করে রাজধানীর পান্থপথের ইউনিহেলথ হাসপাতালে চিকিৎসার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদ করায় গতকাল বুধবার মৃতের ভাইকে মারধর করা হয় বলেও দাবি স্বজনদের। অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম লিটন তালুকদারের (৪০) বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায়। গাছ কাটার কাজ করতেন তিনি। কয়েকদিন আগে গাছ থেকে পড়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মৃতের ভাতিজা সাব্বির হোসেন জানান, চাচাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় গত ১ জানুয়ারি রাতে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাদের বলা হয়, অস্ত্রোপচারের জন্য ৪০ হাজার টাকা লাগবে। তারা এতে সম্মত হন। এরপর গতকাল পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ভাড়া ও ওষুধপত্রসহ নানা খাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে; কিন্তু প্রথম থেকেই তাদের রোগীর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের ধারণা, প্রথমদিনই লিটন মারা গেছেন। তারপর লাশ আটকে রেখে চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করা হয়েছে। পরে রাতে তারা জোর করে লাশ গাড়িতে তোলেন।

২০১৭ সালের অক্টোবরের ২৫ তারিখে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয় ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে রক্তের গ্রুপ ভুল লিখে রোগীর স্বজনদেরও আটকে রাখা হলো হাসপাতালে।

সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায় রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘এ পজিটিভ’, কিন্তু হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে কাগজে লেখা হলো ‘ও পজিটিভ’। ক্রস ম্যাচিংয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে রোগীর স্বজন ও সহকর্মীরা ভিড় করলে তাদের ভেতরে রেখে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। আর চিকিৎসক না থাকার পরও সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত রোগীকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ফেলে রাখা হয় আইসিইউতে। বুধবার (২৫ অক্টোবর) আয়েশা বেগম নামের এক রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে এমন আচরণ করে রাজধানীর পান্থপথের গ্রিনরোডের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতাল। স্থানীয়রা বলছেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়।

বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আয়েশা বেগম মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলেও সেখানে আইসিইউতে সিট খালি না থাকায় নিয়ে আসা হয় পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সকাল সাতটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আয়েশা বেগমকে আইসিইউতে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয় দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত।

দুপুর পৌনে বারোটার দিকে খবর পেয়ে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ছোট-বড় দুটি ফটকেই তালা ঝুলছে, ভেতরে আটকে রয়েছেন সিটি করপোরেশনের আয়েশা বেগমের অনেক সহকর্মী ও স্বজনরা। গেটে তালা দেওয়া হয়েছে কেন জানতে চাইলে হাসপাতালের জসিম মণ্ডল নামের এক কর্মী বলেন, ‘আমাকে অফিস থেকে তালা দিতে বলা হয়েছে।’

ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের সামনের একটি হোটেল এবং পাশের দোকানিরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই হাসপাতালে রোগীদের অবহেলা এবং স্বজনদের হেনস্তা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। দু’দিন পরপরই আমরা এ চিত্র দেখতে পাই। এটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।

২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলা ট্রিবিউনে এই হাসপাতালে দুই দিন পরপর গন্ডগোল হয়’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদনও পাওয়া যায় একই হাসপাতালের নামে৷

প্রতিবেদনটিতে বলা হয় এই হাসপাতালের লোকজন ডাকাত, এইটা হইলো গলাকাটা হাসপাতাল। গরীব রোগীদের আটকাইয়া রাইখা টাকা নেয়, রোগীদের ঠিকমতো চিকিৎসাও দেয় না। দুই দিন পরপরই এইখানে গন্ডগোল হয়, বেশি বিল কইরা বইসা থাকে, না দিলেই গ্যাঞ্জাম, এসব দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হইয়া গেছি। এভাবেই পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিষয়ে মন্তব্য করছিলেন একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি।

স্থানীয়রা আরও জানান, হাসপাতাল যারা পরিচালনা করেন তারা খুব ক্ষমতাবান লোক। আর তাই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও বহাল তবিয়তে আছে সবকিছু। অভিযোগ রয়েছে, সঠিক চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালটিতে প্রায়ই রোগী মারা যায়, গরীব মানুষদের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বুঝিয়ে নিয়ে আসা হলেও তারা কোনও চিকিৎসা পান না। হন ডাকাতি শিকার।

গত ২১ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক গুরুতর রোগীর অস্ত্রোপচারের নামে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, শরীরে কোনও অস্ত্রোপচার না করেই রোগীকে ফেলে রাখা হয়। রোগী মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও বেশি টাকা দাবি করে, কিন্তু মৃতদেহ তারা ফেরত দিতে চাচ্ছিল না। পরে বিভিন্নজনের মধ্যস্থতায় কিছু টাকা দিয়ে মৃতদেহ নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালটি আগে মোহনা ক্লিনিক নামে পরিচালিত হতো। কয়েকবছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাংবাদিক ও কলামিস্ট জগলুল আহমেদ চৌধুরীকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসক না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই ঘটনার পর থেকেই মোহনা ক্লিনিক বন্ধ ছিল, কয়েক বছর আগে কোনও ধরনের উন্নতি না করে নতুন নাম দিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের চরিত্র বদলায়নি, কেবল নামটাই বদলেছে।

হাসপাতালের সামনের একাধিক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই হাসপাতালে এমন কোনও সপ্তাহ নেই যে, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের লোকদের গন্ডগোল হয় না। স্বজনদের টাকার জন্য আটকে রাখা ও স্থানীয়দের দেনদরবার দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত।

গত কয়েক বছরে এই হাসপাতালকে ঘিরে অর্থ আদায়, চিকিৎসায় অবহেলা, রোগী ও স্বজনদের হয়রানি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব অভিযোগের সবকটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না হয়, তাহলে আজকের এই মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

আরও একটি বিষয় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময়ে, প্রতারণা করে কিংবা জোরপূর্বক পুরুষদের যৌনাঙ্গ কেটে ‘হিজড়া’ বানানোর অভিযোগ একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কোথাও অচেতন করে অঙ্গচ্ছেদ, কোথাও অস্ত্রোপচারের নামে অর্থ আদায়, আবার কোথাও প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নটিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কারণ প্রশ্নটা খুবই সরল—মানুষের শরীরকে যদি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানানো হয়, তাহলে সেই অর্থলোভী ব্যবস্থার সীমা কোথায়?

টাকার বিনিময়ে যদি মানুষের শরীরে গুরুতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করা হয়, তাহলে আরও ভয়াবহ, অনৈতিক কিংবা জোরপূর্বক অঙ্গচ্ছেদের মতো কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য এই হাসপাতালের দরজা যে খোলা নেই তা নিশ্চিন্তেও বলা যায়না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 + 15 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য