হিংসা এমন এক ব্যাধি, যা শুধু মনের নয়, দেহেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বলা হয়ে থাকে যে হিংসুক মানুষের কোনো বিশ্রাম (ঘুম) নেই ও সে বন্ধুর লেবাসে একজন শত্রু । হিংসা হিংসুককেই প্রথমে হত্যা করে। তাকে তিলে তিলে ক্ষয় করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘…বলে দাও, তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মরো…।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১১৯)
আপনজন ও পরিচিতদের সঙ্গে বেশি হিংসা করা হয়। এর কারণ হলো, জীবন চলার পথে আপনজনদের সঙ্গে বেশি ওঠাবসা, কথাবার্তা, লেনদেন এবং ভাব ও স্বার্থের বিনিময় হয়, তাই কোনো একজনের কথাবার্তা ও কাজকর্ম যদি নিজের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রতি বিরক্ত, অসন্তুষ্ট ও কষ্ট পেয়ে অন্তরে বিদ্বেষ ভাব পোষণকরত এর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
হিংসার মূল কারণ হলো দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা। একদিকে মানুষের পার্থিব চাহিদা অন্তহীন। অথচ ইহলৌকিক বস্তু তার জন্য যথেষ্ট হয় না। একজন কিছু প্রাপ্ত হলে অন্যজন তা থেকে সেই পরিমাণ বঞ্চিত হয়। পক্ষান্তরে আখিরাতের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে কোনো বস্তুর অভাব নেই। তাই পারলৌকিক বিষয়ে হিংসা করা হয় না।
হিংসুকরা সাধারণত নিছক সন্দেহ কিংবা হিংসার বশবর্তী হয়েই অন্যের প্রতি হিংসা করে। অন্যকে বিপদে ফেলতে যারপরনাই চেষ্টা করে। সারাক্ষণ অন্যের দোষ তালাশ ও দোষচর্চায় মেতে থাকে। অন্যের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এভাবে সারাক্ষণ অন্যের পেছনে লেগে থাকা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থেকো। কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান কোরো না এবং একে অন্যের গিবত কোরো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে করো। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)
অন্যের অগ্রগতি দেখলে হিংসুকের অন্তরটা পুড়ে যায়। তারা চায় আল্লাহ প্রদত্ত এই নিয়ামতগুলো ধ্বংস করে দিতে; আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত মানুষগুলোকে কোণঠাসা করে দিতে; মানুষের কাছে তাদের অপ্রিয় করে তুলতে। অথচ মহান আল্লাহ কাউকে সফলতা দিতে চাইলে তাকে ব্যর্থ করার ক্ষমতা দুনিয়ার কারো নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ অবারিত করলে কেউ তা নিবারণকারী নেই এবং তিনি কিছু নিরুদ্ধ করতে চাইলে কেউ তার উন্মুক্তকারী নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। (সুরা : ফাতির, আয়াত : ২)
হিংসার ভিত্তি হলো অতিমাত্রায় জাগতিক অর্জন ও সম্পদের মোহ। ফলে মানুষ যদি অন্তর থেকে এসবের লালসা বের করে দিতে পারে, তাহলেই হিংসার রোগ থেকে আরোগ্য লাভ সম্ভব।
