Saturday, June 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরহোটেলের খাবার গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন

হোটেলের খাবার গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন

ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো মুমিনের প্রতি সুধারণা পোষণ করতে হবে। এই সুধারণার অংশ হিসেবেই মুমিনের প্রস্তুতকৃত খাবার ও জবাইকৃত পশু অনুসন্ধান করা ছাড়াই গ্রহণ করা হালাল বলে মত দিয়েছেন ইসলামী আইনজ্ঞরা। সে হিসেবে কোনো মুসলিম দেশের বা মুসলিম সমাজের বাজার থেকে খাবার কেনা বা তা গ্রহণ করাও বৈধ। কেননা মুমিন মাত্রই হালাল-হারামের সীমা রক্ষা করে চলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করেছে এবং তা মুখস্থ রেখেছে আর এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনেছে, তাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৯০৬)

সময় যখন পাল্টে যায় : বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। ফিকহি মাসআলা অনুসারে অনুসন্ধান ছাড়া দেশের বাজার থেকে খাবার গ্রহণ করা বৈধ। কিন্তু সমসাময়িককালে এমন কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যাতে মুমিন ও আল্লাহভীরু মানুষের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যেমন বিরানির দোকানে গণ্ডারের পচা মাংস পাওয়া, হোটেলের খাবারে মরা মুরগির মাংস ব্যবহার করা, খাসির মাংস বলে কুকুর ও শিয়ালের মাংস খাওয়ানো ইত্যাদি। এমন ঘটনা সারা দেশে বারবার ঘটছে। অথচ ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মৃত প্রাণী ও কুকুর-শিয়ালের মাংস খাওয়া হারাম বা অবৈধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস, আল্লাহ ছাড়া অপরের নামে জবাইকৃত পশু আর শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, পতনে মৃত জন্তু, শৃঙ্গাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু…।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৩)

সতর্কতাই সমাধান : যেহেতু হোটেলে মৃত পশু ও হারাম প্রাণীর মাংস বিক্রির ঘটনা বারবার ঘটছে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য এবং এটাই সর্বোত্তম সমাধান। যেমন হোটেলে খাবার গ্রহণের সময় মাংস না খাওয়া, শাক-সবজি খাওয়া, যা হারাম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সম্ভব হলে সফরের জন্য ঘর থেকে খাবার নিয়ে যাওয়া, হোটেল মালিকদের রাষ্ট্রীয় আইন ও পরকালীন শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করা। বস্তুত সতর্কতার মাধ্যমেই ব্যক্তির ঈমান ও আমল রক্ষা পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে সন্দেহজনক জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে সে নিজের দ্বিন ও সম্মানকে রক্ষা করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো বান্দা ততক্ষণ আল্লাহভীরুদের অন্তর্ভুক্ত হয় না, যতক্ষণ না সে হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে বৈধ জিনিসও পরিহার করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৫)

প্রতারকদের জন্য কঠোর শাস্তি : জেনে-বুঝে অন্যকে হারাম খাবার পরিবেশন করা ‘হারামকে হালাল ঘোষণা’র নামান্তর। ব্যক্তিদের ব্যাপারে আল্লাহর কঠোর হুঁশিয়ারি হলো—‘আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনে না ও পরকালের প্রতিও নয়; আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দ্বিনের অনুসরণ করে না, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে—যে পর্যন্ত না তারা নত হয়ে নিজ হাতে জিজিয়া দেয়।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ২৯)

এ ছাড়া এটা সুস্পষ্ট প্রতারণা, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার ভেতর হাত দিলেন এবং হাতের আঙুলে আর্দ্রতা অনুভব করলেন। তিনি বলেন, হে খাবারের মালিক, এটা কি? সে উত্তর দিল—হে আল্লাহর রাসুল, খাদ্যস্তূপে বৃষ্টি পড়েছে। তখন নবীজি (সা.) বলেন, এটাকে (ভেজা অংশ) কেন উপরভাগে রাখলে না, যাতে তা দেখা যায়? যে প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য