Monday, June 1, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবর৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড এক মাসেই

৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড এক মাসেই

মার্চের ২৬ দিনেই রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা গত বুধবার পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আর গতকালও রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ডলারের বেশি। সে হিসাবে মার্চ শেষের চারদিন আগেই একক একটি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণের মাইলফলক পেরিয়েছে। এর আগে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। ওই মাসে মোট ২৬৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল বাংলাদেশে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সবসময়ই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এবারের মতো এত বেশি প্রবৃদ্ধি অতীতে কখনই দেখা যায়নি। এবার রমজান ও ইংরেজি মার্চ মাস প্রায় একই সময়ে শুরু ও শেষ হচ্ছে। এ কারণে মাসের পুরো সময়েই প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর পরও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অর্জন। কারণ এ উল্লম্ফনে দেশ থেকে অর্থ পাচার ও হুন্ডির তৎপরতা কমে যাওয়ারও বড় প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানান, ‘চলতি মার্চের ২৫ ও ২৬ তারিখে মাত্র দুইদিনেই ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর ১ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চের প্রথম ২৬ দিনে ১৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ।’

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা রেকর্ড ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এতদিন এটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার ঘটনা। এর আগে দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। ওই সময় কভিডজনিত দুর্যোগের মধ্যে প্রবাসীরা ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালের জুনে দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৬ মার্চ পর্যন্ত (১ জুলাই থেকে ২৬ মার্চ) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে প্রবাসীরা ৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার বেশি পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হলে চলতি বছর রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বিদেশে হুন্ডির চাহিদা তৈরি হয় দেশ থেকে। বাংলাদেশীদের পাচারকৃত অর্থের বড় অংশ বিদেশে প্রধান শ্রমবাজারগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এ কারণে বিদেশে হুন্ডি কারবারিদের চাহিদাও কমেছে। কালোবাজারে চাহিদা কমলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন আমরা দেখছি, এটি তারই প্রভাব।’

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রেমিট্যান্সের বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে। টাকা পাচার বন্ধ হলে হুন্ডির তৎপরতাও কমে যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন। আর যে প্রবাসীরা অর্থনীতিতে এত বড় ভূমিকা রাখছেন, তাদের জন্যও সরকারের দিক থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের হিসাবে দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেবার প্রবাসীরা রেকর্ড ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা বেড়ে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবৃদ্ধির বিদ্যমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে গত এক সপ্তাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৩ কোটি ডলার বেড়েছে। গত ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিপিএম৬) দেশের রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। গতকাল ২৭ মার্চ এ রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

দেশে বিনিয়োগের ভালো কোনো ক্ষেত্র না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থের সিংহভাগই ভোগে ব্যয় হচ্ছে বলে জানান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) এ নির্বাহী পরিচালক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেমিট্যান্সের বেশির ভাগই প্রবাসী পরিবারের ভোগে ব্যয় হয়ে যায়। যেটুকু উদ্বৃত্ত থাকে সেটি দিয়েও বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনা হয়। দেশে যদি প্রবাসীদের বিনিয়োগের ভালো কোনো ক্ষেত্র থাকত, তাহলে রেমিট্যান্সের অর্থ দেশের অর্থনীতিতে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারত।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড আছে। কিন্তু এ বন্ডের বিষয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তেমন কোনো প্রচারণা বা সচেতনতা নেই। যেসব প্রবাসীর কাছে বিনিয়োগের মতো সঞ্চয় আছে, তারা দেশে বিনিয়োগের কোনো খাত খুঁজে পান না। এখানে পুঁজিবাজার বলে তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। সরকার যদি প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারত, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অনেকাংশেই কেটে যেত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য