Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবর৭ থেকে ৮.৫ মাত্রায় ভূমিকম্পের শঙ্কা

৭ থেকে ৮.৫ মাত্রায় ভূমিকম্পের শঙ্কা

নীরব বা সুপ্ত হলেও পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ জোনে বাংলাদেশ ও আশপাশ অঞ্চলের অবস্থান। ভূমিকম্প কখন কাঁপাবে দিনক্ষণ জানিয়ে পূর্বাভাস দেয়া যায় না। তবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূতাত্ত্বিক গঠন, ভূগর্ভে পরিবর্তনের আলামত এবং এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের ইতিহাস বিবেচনায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেন, যে কোনো সময়েই শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা’র অর্থায়নে পরিচালিত সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) জরিপ গবেষণায় জানা গেছে, বাংলাদেশ ঘেঁষে ভেতরে-বাইরে ভূগর্ভের পাঁচটি ফাটল বা ফল্ট লাইন চলে গেছে। সেখানে ক্রমেই জমা হয়েছে প্রবল শক্তি। প্রচ- ভূমিকম্পের মধ্যদিয়ে সেই শক্তি ওপরের দিকে বের হয়ে আসতে পারে যে কোনো সময়েই। সেখান থেকে উৎপত্তি হয়ে রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রায় পর্যন্ত ভয়াল ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালে পরিচালিত সিডিএমপি’র আন্তর্জাতিক গবেষণা টিমের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী চুয়েট-রুয়েট-ইউএসটিসি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি গতকাল রোববার দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০ লঙ্ঘন করে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রাজশাহীসহ বড় শহর-নগর-শিল্পাঞ্চলে অগণিত বাড়িঘর ভবন নির্মিত হয়েছে। সেসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন জরুরি ভিত্তিতে শনাক্ত ও কারিগরি উপায়ে শক্তি বৃদ্ধি (সিসমিক রেট্রোফিট) করার তাগিদ দেয়া হয়েছিল সিডিএমপি জরিপের সুপারিশে। গবেষণার জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও সুপারিশমালা আজো বাস্তবায়ন হয়নি, বরং বাক্সবন্দি রাখা হয়েছে। প্রকৌশলী ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূমিকম্প নিজেই মানুষ মারে না, দুর্বল ভবন-কাঠোমো-আসবাবপত্র ধসে পড়ে মৃত্যু ঘটে। যথেচ্ছ অপরিকল্পিত নির্মিত ভবনগুলো তীব্র ভূমিকম্পে তাসের ঘরের মতো ছারখার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, ছোট ও মাঝারি মাত্রায় ঘন ঘন যে ভূকম্পন হচ্ছে সেগুলো যে কোনো সময়েই ভয়াবহ দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের আগাম সংকেত দিচ্ছে।

গত শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় এবং কাছাকাছি জায়গায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যেই চার দফায় হালকা ও মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, গত প্রায় ৫ বছরে দেশে ৩৯টি ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে। এরমধ্যে ১১টির উৎপত্তিস্থল (ইপি সেন্টার) রাজধানী ঢাকা থেকে ৮৬ কি.মি. পরিধির মধ্যে। অর্থাৎ ২৮ শতাংশই ঢাকায় অথবা সন্নিকটে। ছোট-মাঝারি ভূকম্পনগুলো বড় ধরনের বিপদ ঘনিয়ে আসার আগেই সজাগ হওয়ার জন্য ‘আই ওপেনার’, ‘ওয়েকআপ কল’ অর্থাৎ ‘ইশারা’। এর ধারাবাহিকতায় শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও সংলগ্ন আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপালের ভূকম্পন বলয়ে বিগত ১৫০ বছরের মধ্যে রিখটার স্কেলে ৭ এবং ৮ মাত্রায় সাতটি ভয়াল ভূমিকম্প আঘাত হানে। যা ‘গ্রেট সেভেন আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত। এরমধ্যে ২টি ভূমিকম্পের উৎস বাংলাদেশ ভূখ-ের ভেতরেই। আর ৫টির উৎস ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ২৫০ কি.মি. ব্যবধানে।

কেন ভূমিকম্প কেমন ঝুঁকি
চুয়েট-এর ভূমিকম্প প্রকৌশল গবেষণা কেন্দ্রের সমন্বয়ক বিশিষ্ট ভূতাত্ত্বিক ভূমিকম্প বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের (ভূ-পাটাতন) সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। এ অঞ্চলের বিট বা প্লেটের নিচে রয়েছে পাথরশিলা ও নরম পদার্থ। বিটগুলো যখন সরে যায় বা নড়চড় করে, একটি অন্যদিকে ধাক্কা দেয়। তখন ভূ-গর্র্ভে শক্তি জমা হতে থাকে। বার্মিজ ভূ-পাটাতন বছরে গড়ে ২ সেন্টিমিটার এবং ইন্ডিয়ান প্লেট ৬ সে.মি. করে নড়াচড়া করছে। এতে জমা হওয়া শক্তি বা এনার্জি যখন শিলার ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করে, তখনই সেই শক্তি কোনো ফাটল লাইন দিয়ে বেরিয়ে আসে। এর ফলেই সৃষ্টি হয় ভূমিকম্প।

ভূ-পাটাতনের সীমানায় যে পাঁচটি প্রধান ফাটল লাইন (ফল্ট) বা চ্যুতি হচ্ছে এক. প্লেট বাউন্ডারি ফল্ট লাইন-১ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে ভারতীয় ও বার্মা (মায়ানমার) প্লেটের মাঝামাঝি অবস্থিত। এখানে দুটি প্লেট পরস্পরের দিকে ঠেলছে। বাংলাদেশের জন্য এটি বিপজ্জনক ভূমিকম্পের উৎস। যেখান থেকে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৫ মাত্রায় পর্যন্ত তীব্র শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দুই. প্লেট বাউন্ডারি ফল্ট-২ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সক্রিয় ভূ-ফাটল লাইন। এটি ভারতীয় ও বার্মা প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলের অংশ। এখানে ফাটলে প্লেটের চাপ ও শক্তি ক্রমাগত জমা হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রায় পর্যন্ত প্রচ- ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে এটি।

তিন. প্লেট বাউন্ডারি ফল্ট-৩ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও মায়ানমারে সক্রিয় ফল্টলাইন, যা ইন্দো-বার্মা সুইচ-জোনের একটি গভীর টেকটনিক কাঠামো। সেখানে ভারতীয় প্লেট পূর্বদিকে ঠেলছে, বার্মা প্লেট তার প্রতিক্রিয়ায় সরে যাচ্ছে। এর ফলে এটি এ অঞ্চলে ৮ দশমিক ৩ মাত্রায় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎস।

চার. মধুপুর ফল্ট হচ্ছে রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছে এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রস্থলের ভূ-ফাটল লাইন। কঠিন ভূ-তাত্ত্বিক গঠনে এটি গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের নিচ দিয়ে উত্তরে শেরপুর-জামালপুরের দিকে প্রসারিত হয়েছে।
ভূ-তত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উৎসে মাঝারি থেকে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। এখান থেকে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রায় ভূকম্পন হতে পারে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে ঘনবসতি এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে মধুপুর ফল্ট থেকে ভূমিকম্প-ঝুঁকি সর্বাপেক্ষা বেশি। ঝুঁকিতে বড় ভূমিকা রাখে।

পাঁচ. ডাউকি ফল্ট বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট হয়ে দক্ষিণে ও ভারতের আসাম-মেঘালয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত। এটি ভারতের শিলং প্লেল্ট দিয়ে নেমে এসে বাংলাদেশের সমতলে যুক্ত। অবিরাম চাপে এ অঞ্চলে প্রবল শক্তি জমা হচ্ছে। এর ফলে বৃহত্তর সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা এবং ঢাকার বড় অংশ পর্যন্ত ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন। অতীতে ১৮৯৭ সালে এ অঞ্চলে ভয়াল ‘গ্রেট আসাম আর্থকোয়েক’ সংঘটিত হয়। ডাউকি উৎস থেকে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রায় পর্যন্ত ভূমিকম্প হতে পারে।

ওই পাঁচটি ফল্ট লাইন বা ভূ-ফাটল থেকে বাংলাদেশে ও আশপাশ অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে যে কোনো সময়েই।

আছে ভয়-ভীতি, বেহাল প্রস্তুতি
ভূমিকম্প সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মাঝে আছে অমূলক ভয়-ভীতি, আতঙ্ক। ভূকম্পন হলেই হুড়োহুড়ি করে বাঁচার চেষ্টা। সরকারি প্রশাসনের মাঝে শুরু হয় কিছুদিনের দৌঁড়-ঝাঁপ। এরপর আবারো সবাই নির্বিকার। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে শক্তিশালী মাত্রায় ভূমিকম্প হয়নি। এ কারণে এ দেশে অনেকটাই অচেনা ভয়াল দুর্যোগটি। এর মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা, সাবধানতা, সরকারের তরফ থেকে নিয়মিত সতর্কীকরণ ও আগাম প্রস্তুতি তৎপরতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব-প্রস্তুতি ও সতর্কতার ক্ষেত্রে নেপাল, পাকিস্তানের তুলনায়ও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে গতকাল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, দুর্বল ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে বড়সড় ভূমিকম্প হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রাজধানী ঢাকা।

২০১০ সালে হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পে উদ্ধার কাজে বাংলাদেশ মেডিক্যাল টিমের সদস্য বিশিষ্ট নিউরোসার্জন প্রফেসর ডা. এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের বাড়িঘর ভবন কাঠামোর বেহালদশার সঙ্গে হাইতির মিল রয়েছে। তবে সরু রাস্তাঘাট সড়কের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম নগরীর ঝুঁকি আরো বেশি। বড় আকারে ভূমিকম্প হলেই হাসপাতাল-ক্লিনিক, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। এহেন নাজুক অবস্থা উপলব্ধি করে এখনই সরকারকে জরুরি সেবা ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার উপায় বের করতে হবে। অন্যথায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয় ঘটবে।

প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় যথাযথ প্রাক-প্রস্তুতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এখনও আমরা সঠিক অনুসরণ করছিনা। দেশের প্রকৌশলী, স্থপতি, নির্মাতা ও বাড়ির মালিকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। ভূমিকম্পে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যু এড়াতে দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে। মৃত্যু এড়াতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। তিনি জানান, অতীতে এই অঞ্চলে প্রচ- মাত্রার ভূমিকম্পে দুর্যোগের রেকর্ড রয়েছে। সাধারণত একশ, ১৫০ বছর অন্তর শক্তিশালী ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি ও সচেতনতা প্রয়োজন।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. এ এস এম মকসুদ কামালের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) ডিজিটাল জরিপে দেশে ভূমিকম্প-দুর্যোগে ঝুঁঁকির উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে এসেছে। জরিপ মতে, বাংলাদেশের ভেতরে বা কাছাকাছি কোনো উৎস থেকে যদি রিখটার স্কেলে ৭ কিংবা এর বেশি মাত্রায় ভূমিকম্প হয়, তাহলে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও সিলেট নগরীতে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়তে পারে। প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষের। ঢাকায় ৩ লাখ ২৬ হাজার ভবনের মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৭৮ হাজার ভবন অপরিকল্পিত, গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ। চট্টগ্রাম নগরীর ১ লাখ ৮০ হাজার ভবনের মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার ভবনেই ছিল ত্রুটি-বিচ্যুতি। সিলেট নগরীর ৫২ হাজার ভবনের মধ্যে ২৪ হাজার ভবন ঝুঁঁকিপূর্ণ। গেল ১৫ বছরে অপরিকল্পিত নতুন ভবনরাজি বৃদ্ধির সাথে ঝুঁকির হার আরো বেড়েছে।

পূর্বাভাস কী সম্ভব?
ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস প্রদান সম্ভব নয়। তবে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সাবেক চুয়েট-রুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমেরিকা ও চীনের সফল দুটি মডেল অনুসরণ করা হলে ভূমিকম্প-পূর্ববর্তী ডিজিটাল অ্যালার্ট ব্যবস্থায় মানুষ তাৎক্ষণিক সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণে সক্ষম হবে। এর ফলে বাঁচবে অনেক জীবন। তিনি এ প্রসঙ্গে জানান, আমেরিকার সর্বাপেক্ষা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চল ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যালার্ট চালু আছে।

ভূমিকম্পের প্রাথমিক ও হালকা-মাঝারি কাঁপুনি (পি-ওয়েভ) শুরু হতেই সংবেদনশীল ডিজিটাল সেন্সরে সেটি ধরা পড়ে এবং তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোন বা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে সাধারণ নাগরিকদের কাছে দ্রুতই পৌঁছে যায়। ভূমিকম্পের সেকেন্ডারি ওয়েভে (এস-ওয়েভ) তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত স্বল্প সময়ে সাধারণ মানুষ সতর্কতা ও জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণে সক্ষম হয়। তাছাড়া চীনে অতীতকাল থেকেই প্রচলিত কিছু প্রাণীর (যেমন- কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, খরগোশ, মাছ) জ্যান্ত জাদুঘরের মতো পর্যবেক্ষণাগার রয়েছে। সেখানে এসব প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে সম্প্রতি ডিজিটাল সিস্টেমের সমন্বয় করেই নাগরিকদের ভূমিকম্প সতর্কতা ও প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই মডেলের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট এবং ব্যাপক মোবাইল সংযোগ ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই সুবাদে কম বাজেটেই সরকার দ্রুত এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে ভূমিকম্পে রক্ষা পাবে অনেক অমূল্য জীবন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য