ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ৯ প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তার বোন শেখ রেহানা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকী।
এমন দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধানের লক্ষ্যে গতকাল পাঁচ সদস্যের টিম গঠন করেছে করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থার উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে টিম। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন, উপ-পরিচালক মো: সাইদুজ্জামান, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুল হাসান ও সহকারী পরিচালক একেএম মর্তুজা আলী সাগর। এর আগে গত মঙ্গলবার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দৌলতে অনুগত সংবাদ মাধ্যমগুলো শেখ হাসিনাকে ‘মানবিক’ হিসেবে উপস্থাপন করে। অথচ তার কথিত এই মানবিকতার পেছনে কত হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে সেটি তলিয়ে দেখা হতো না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়া এমন অন্তত ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে যাতে আত্মসাৎ হয়েছে অন্তত ২১ হাজার কোটি টাকা। এসব প্রকল্প পরবর্তীতে অন্তঃসারশূন্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
যেমন, শেখ হাসিনার ‘মানবিক প্রকল্প’ হিসেবে প্রচারণা পায় ‘আশ্রয়ণ-২’ নামের প্রকল্পটি। প্রকল্পের আওতায় তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামে গৃহহীনদের ঘর দিতে ৮ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা অপচয় করা হয়। অথচ যাদের ওই ঘর দেয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ওই সব ঘর ব্যবহার করে না। নিম্নমানের কাজের কারণে বেশিরভাগ ঘরই এখন ব্যবহার অনুপযোগী। শেখ হাসিনাকে খুশি করতে অন্যের জমি দখল করে ডিসি-টিএনওরা গৃহহীনদের ঘর দেয়ার কাজ করেছেন। ফলে হাসিনার এ প্রকল্প লোক-দেখানো। এই উদ্যোগ জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয় হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। একটি-দু’টি নয় এমন অন্তত ৮টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন হাসিনা। প্রশ্নবিদ্ধ এসব প্রকল্পে ব্যয় করেন ২০ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে খুরুশকুলে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই প্রথম ধাপে তৈরি ২০টি পাঁচতলা ভবনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। সে সময় ৬শ’ পরিবারের হাতে ঘটা করে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়। ফ্ল্যাটের যারা মালিক হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ জেলে, শুঁটকি শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক, ভিক্ষুকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেখানে অধিগ্রহণ করা ২৫৩ একর জমিতে গড়ে উঠছে ১৩৭টি পাঁচতলা ভবন। এসব ভবনে ফ্ল্যাট ৪ হাজার ৩৮৪টি। বিনা মূল্যেই এই ফ্ল্যাটের মালিক হচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তুরা। প্রকল্পটিতে ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা খরচ হয়। এ রকম বেজা, বেপজা’র ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে শেখ হাসিনা এবং তার দোসর আমলা-মন্ত্রীরা আত্মসাৎ করেন ২১ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা মালয়েশিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ক অভিযোগ দায়ের করলে প্রথমে দুদক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পরে গত ১৫ ডিসেম্বর এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মুবিনা আসাফের ডিভিশন বেঞ্চ শেখ হাসিনা, তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে দুদকের প্রতি রুল জারি করেন। এ প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দুর্নীতির বিষয়টি অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রিটকারী ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম তমাল জানান, শেখ হাসিনার পরিবার মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
গত ১৯ আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে শেখ হাসিনা, পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫শ’ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাট করেছেন। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানকারী গেøাবাল ডিফেন্স কর্পোরেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদন করা হয়।
রূপপুরসহ মোট ৯টি প্রকল্পে হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা অন্তত ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
