দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন পূরণে সবারই বেচাকেনা করতে হয়। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো বেচাকেনা বৈধ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন—
১. ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই বিবেকসম্পন্ন হতে হবে। পাগল কিংবা নির্বোধের লেনদেন গ্রহণযোগ্য নয়।
২. পণ্য ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী হতে হবে।
৩. পণ্য প্রদানযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ শরিয়ত কর্তৃক কিংবা বাহ্যিক কোনো বাধা থাকা চলবে না। যেমন—এমন ব্যক্তির ক্রয়-বিক্রয়, সরকার বা অভিভাবক যার ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কেননা এ ক্ষেত্রে সে পণ্য হস্তান্তর করতে পারছে না যথার্থ মহলের বাধার কারণে।
৪. অন্যায়ভাবে বাধ্যকরণ হওয়া চলবে না। কারো চাপের মুখে বাধ্য হয়ে লেনদেন করলে সেটিও বৈধ হবে না।
৫. কোরআন বা এজাতীয় পবিত্র পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রয়কারীকে মুসলমান হতে হবে।
৬. সমরাস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা শত্রুপক্ষ হওয়া চলবে না।
৭. বিক্রিতব্য বস্তুটি অপবিত্র হওয়া চলবে না। কেননা এজাতীয় বস্তুর লেনদেনও অবৈধ।
৮. বিক্রেতাকে পণ্য হস্তান্তর করার ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।
৯. বস্তুটির পরিমাণ ও গুণাবলি সম্পর্কে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সম্যক জ্ঞাত হতে হবে।
এ ছাড়া ফকিহ আলেমরা ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলি উল্লেখ করেন, বিক্রিতব্য বস্তু মজুদ হতে হবে। অস্তিত্বহীন কোনো জিনিসের বিক্রি বৈধ নয়। এমনকি অবর্তমানের মতো জিনিসের বিক্রিও অবৈধ। যেমন গর্ভস্থিত বাছুর। বস্তুটি এমন হতে হবে, যার সঙ্গে স্বত্বের সম্পর্ক আছে। স্বত্ব হওয়ার অযোগ্য বস্তুরও বিক্রি অবৈধ। যেমন কাজের অযোগ্য চারা, যদিও তা নিজের ক্ষেতেই হোক না কেন। বিক্রেতা নিজে বিক্রিতব্য বস্তুর মালিক হতে হবে অথবা উকিল (প্রতিনিধি) হবে হবে। নিজের মালিকানাধীন নয়, কিংবা তাকে প্রতিনিধি করা হয়নি এমন বস্তুর বিক্রয় সংঘটিত হতে পারে না। বিক্রিতব্য বস্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। জিনিসটি গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই একজন অপরজনের কথা শুনতে হবে। ইজাব ও কবুল তথা প্রস্তাব ও সম্মতি একই বৈঠকে হতে হবে। বিক্রিতব্য বস্তুতে অন্য কারো হক থাকতে পারবে না। (আল ফিকহু আলা মাজাহিবুল আরবায়া : ২/১৪৭; হেদায়া বিক্রি অধ্যায়)
