Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআব্বাসীয় শাসনামলে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থা

আব্বাসীয় শাসনামলে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থা

আব্বাসীয় শাসনামলে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থা উমাইয়া যুগের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে রচিত। আব্বাসীয় খলিফারা রাজ্যশাসন ও রাজ্যজয় অপেক্ষা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে ইতিহাসে বেশি খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন। এ যুগ ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত। আব্বাসীয় যুগেও বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাপদ্ধতি ছিল না; যদিও সে সময় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অনেক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল এবং অনেক মক্তব-মাদরাসাও গড়ে উঠেছিল। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুটি রূপ ছিল : ১. প্রাথমিক ও ২. উচ্চ পর্যায়ের।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো স্বাভাবিকভাবে জন্মেছিল মসজিদ ও গৃহাঙ্গনে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইয়াকুতি বলেন, তিনি একজন শেখের গৃহকে বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখেছেন। ফলে উমাইয়া যুগের মতো বেশির ভাগ শিশু ও কিশোরের শিক্ষাঙ্গন ছিল গৃহাঙ্গন ও মসজিদ। গৃহে সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে পিতার ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান শিক্ষার হাতেখড়ি নিত সর্বপ্রথম কালেমা তাইয়েবা পাঠ গ্রহণের মাধ্যমে।

আব্বাসীয় যুগে নারীদের শিক্ষার্জনের প্রসার ও ব্যাপকতা লক্ষ করা যায়। সাধারণ পরিবারের মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ দেখা যায়। অভিজাত ঘরের মেয়েরা Private tutor রেখে ধর্ম ও শালীনতামণ্ডিত সাহিত্য, ছন্দ-শাস্ত্র অধ্যয়ন করতেন। উচ্চশিক্ষার আগার ছিল বায়তুল হিকমাহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠানে সৌরবিজ্ঞান, অনুবাদ, বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক, সিরীয় ও পারসি সাহিত্যের অনুবাদ, সাহিত্য শিক্ষাদানের মাধ্যমে ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হতো।

ইসলামের ইতিহাসে প্রকৃত অর্থে প্রথম উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে দরসে নিজামি। সেলজুক সুলতান আলপ আরসালান ও মালিক শাহের আমলে তাদের পারসি মন্ত্রী নিজামুলমুলক এ প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনকারী। ১০৬৫-৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়। আল কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, উসুলে শরিয়ত, প্রাচীন কবিতা ইত্যাদি বিষয় এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেওয়া হতো। আবাসিক ব্যবস্থা এবং বৃত্তিসহ ছাত্রদের লেখাপড়ার সুযোগ এখানে ছিল। প্রখ্যাত ইসলামিক দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি (রহ.) এ প্রতিষ্ঠানে (১০১১-১৫) সুদীর্ঘ চার বছর অধ্যাপনা করেছেন। নিজামিয়া মাদরাসা তৎকালীন খলিফা কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা খলিফার অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োজিত হতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 20 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য