Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

প্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

عَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْكُلَ الرَّجُلُ بِشِمَالِهِ أَو يمشي فِي نعل وَاحِد وَأَن يشْتَمل الصماء أَو يجتني فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ كَاشِفًا عَنْ فَرْجِهِ. رَوَاهُ مُسلم

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তিকে তার বাম হাতে খেতে, একখানা জুতা পরে চলাফেরা করতে, ইশতিমালে সম্মা অবস্থায় চাদর পরিধান করতে এবং লজ্জাস্থান উন্মুক্ত রেখে একই কাপড়ে ইজত্বিবা করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)[1]

[1] সহীহ : মুসলিম (২০৯৯)-৭০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫২২৫, আবূ দাঊদ ৩৩৭৭, ইবনু মাজাহ ২১৭০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৯৭৪, মুসনাদে আহমাদ ১৪৭০৫, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৪৫৯৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩৩৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ১৭৭২।

ব্যাখ্যাঃ বাম হাতে খানাপিনা করা নিষেধ। কেউ এটা হারাম পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছেন। সহীহ হাদীসে এসেছে, শয়তান বাম হাতে খায় এবং পান করে, সুতরাং বাম হাতে খানাপিনা যে শয়তানী কাজ এতে কোন সন্দেহ নেই। মু’মিনকে অবশ্যই শয়তানী কর্মকাণ্ড পরিহার করে চলতে হবে।

একপায়ে জুতা পরিধান করে চলা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভদ্রতা এবং শিষ্টাচার পরিপন্থী তো বটেই।

‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এতে মানুষের স্বাভাবিক আকৃতির বিকৃতি ঘটে। এটা ভদ্রতা এবং গাম্ভীর্যতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পা উচু নীচুর ফলে শরীরের ভারসাম্যতা বিনষ্ট হয়, এতে চলাচল হয় কষ্টকর, এমনকি চলতে কখনো কখনো হোঁচট খেতে হয়।

(اشتمال الصماء) হলো উপর থেকে একটি কাপড় ঝুলিয়ে দিয়ে শরীর এভাবে ঢেকে দেয়া বা পেঁচিয়ে রাখা যে, কোন জায়গা দিয়ে হাত বের করার সুযোগ না থাকা। যেন সে এই কাপড়ের মধ্যে আবদ্ধ। ‘সম্মা’ নিষেধের কারণ হলো যে, এতে পাথরের ন্যায় এর সকল ছিদ্রপথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ পোশাক সালাত আদায় ও অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

ইমাম ইবনুল হুমাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘সম্মা’ সালাতে সম্পূর্ণভাবে মাকরূহ। যেহেতু এটা এক কাপড়ে মাথাসহ সমস্ত শরীর আবৃত্ত করে রাখা, হাত বের করার কোন সুযোগ না থাকা। সুতরাং সালাতের প্রতিবদ্ধক হিসাবে তা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।

‘আল্লামা নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ফুকাহাদের মতে ‘সম্মা’ হলো মাত্র একটি কাপড় পরিধান করা যা ছাড়া অন্য কোন কাপড় না থাকা এবং দু’ কাঁধের এক কাঁধের উপর তা তুলে রাখা। এতে লজ্জাস্থানের কিছু অংশ প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। বিধায় এটি হারাম।

মোটকথা নিশ্চিত যদি লজ্জাস্থান প্রকাশ হয় তবে তা হারাম, আর যদি প্রকাশের সম্ভাবনা থাকে হয় তবে মাকরূহ।

‘ইহ্তিবা’ বলা হয় এক কাপড় পরে নিতম্বের উপর বসা এবং দুই পায়ের নলা খাড়া রেখে পায়ের নলায় হাত অথবা কোন কাপড় দিয়ে একত্রিত করে রাখা। এতে লজ্জাস্থান প্রকাশ পেয়ে যায়, সুতরাং তা নিষেধ। আর যদি লজ্জাস্থান প্রকাশ না পায় তবে নিষেধ নয়।

(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২০৯৯/৭০)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য