ফিলিস্তিনের গাজায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের বিরামহীন হামলায় অর্ধেকের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ৪০ হাজার বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এক বিবৃতিতে গাজার তথ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। এর আগে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি গত বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, এক মাসে গাজায় ৫০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
সহকারী মহাসচিব ও আরব রাষ্ট্রের জন্য জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক আবদুল্লাহ আল দারদারি এবং পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিব রুলা দাশতি গত বৃহস্পতিবার এক যেৌথ সংবাদ সম্মেলনে গাজার এক মাসের ধংসযজ্ঞের এ চিত্র তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে গতকাল গাজার তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আবাসন ও অবকাঠামো খাতের প্রতিটিতে ২০০ কোটি ডলার করে ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর পর গাজায় এ পর্যন্ত ৩২ হাজার টন বিস্ফোরক ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি জানিয়েছে, এই যুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের অর্থনীতির ওপর। এই এক মাসের যুদ্ধের ফলেই ফিলিস্তিনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। যুদ্ধের আগের হিসাবের সঙ্গে তুলনা করে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় মাসের পুরোটা জুড়ে যদি যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে জিডিপি কমতে পারে দ্বিগুণ তথা ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। ফিলিস্তিনে দারিদ্র্যের হার ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আরও ৫ লাখের বেশি লোক দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীর ও গাজায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ফিলিস্তিনি চাকরি হারিয়েছেন। কত সময় ধরে এই সংঘাত চলবে, সেটার ওপর নির্ভর করে দারিদ্র্যের হার ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
