পশ্চিমতীরের জেনিন শরণার্থী শিবির থেকে অসুস্থদের স্থানান্তরে ইসরাইল বাধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে জেনিন শরণার্থী শিবিরকে ঘেরাও করে রেখেছে ইসরাইল। এতে শিবিরের পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তাই সেখান থেকে অসুস্থদের সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু ইসারাইলি বাহিনী তাদের সরিয়ে নিতে বাধা দিচ্ছে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পিআরসিএস জানিয়েছে, তাদের কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্স শিবিরের কাছাকাছি স্থানে রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে অসুস্থদের পর্যন্ত পৌঁছতে দেয়া হচ্ছে না।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, অনেকের বাড়ি ইসরাইলি সেনারা দখল করে রেখেছে। তাদের জন্য খাদ্য প্রয়োজন। এছাড়া তাদের শিশুদের জন্য প্রয়োজন শিশু উপযোগি খাদ্য। কিন্তু ইসরাইলি সৈন্যদের বাধায় তাদেরকেও জরুরি খাদ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিমতীরে গত তিন মাসে হামাসের সমর্থন অন্তত তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের বিশিষ্ট পোলস্টার খলিল শিকাকি। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতবেদনে বলা হয়েছে, খলিল শিকাকি বলেছেন, গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিমতীরে হামাসের সমর্থন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
শিকাকি পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, পশ্চিমতীরের অন্তত ৭০ ভাগ মানুষই বিশ্বাস করে যে সশস্ত্র সংগ্রামই ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসানের সর্বোত্তম উপায়।
অপরদিকে, হামাসের হামলায় ১৫ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেড।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আল কাসাম ব্রিগেড জানায়, আমরা ইসরাইলের ভেতরে একটি অঞ্চলে অতর্কিত হামলা করি। এ হামলায় ১৫ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়। আরো অনেকেই আহত হয়। এ সময় আমাদের সাথে আল কুদস ব্রিগেডও ছিল। আমরা আর্টিলারি আর আল কুদস ব্রিগেড উচ্চ-ক্যালিবার মর্টার দিয়ে ওই এলাকাটি ধ্বংস করে দেই।
উল্লেখ্য, সুড়ঙ্গে পানি ঢুকিয়েও ইসরাইলের লাভ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাসেলসের সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ার।
তিনি বলেন, সুড়ঙ্গে পানি ঢুকিয়েও ইসরাইলের লাভ হচ্ছে না। কারণ আমরা দেখেছি, ইসরাইল ইতোমধ্যে কয়েকটি টানেল প্লাবিত করেছে। তবুও হামাসের সামরিক কর্মক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং এখনো ইসরাইলি বাহিনীর বড় ধরণের ক্ষয়-ক্ষতি করছে দলটি।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ম্যাগনিয়ার বলেন, ইসরাইল জানে যে এই বন্যা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। কারণ, এতে তাদের মিষ্টি পানি দূষিত হবে। ঘরের ভিত্তিমূল দুর্বল হবে। কিন্তু এটিকে ফিলিস্তিনিরা কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। তাই বলতেই হয়, এই বন্যার সামরিক কোনো মূল্য নেই।
সূত্র : আল জাজিরা
