Thursday, September 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররোজকার তাজা খবরএখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি কার্যক্রম, উদ্ধার হয়নি বেশির ভাগ অস্ত্র

এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি কার্যক্রম, উদ্ধার হয়নি বেশির ভাগ অস্ত্র

‘আমরা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি। অনেক সমস্যার মধ্যে কাজ শুরু করছি। লুট হওয়া বেশির ভাগ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। যদিও সব সদস্য থানায় যোগদান করেছে।

কিছু জায়গায় টহল দিচ্ছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

গতকাল সোমবার লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) সাইদ ইবনে সিদ্দিক এভাবে তাঁদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আমরা অভিযোগজনিত কোনো ঘটনা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে সেনা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর তিনিসহ তাঁর সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা এবং জোটের শরিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা হচ্ছে। থানায় যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা এখন এসব মামলা নিয়ে ব্যস্ত। মাঠ পর্যায়ে যেসব অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে, সেদিকে তাঁরা নজর দেওয়ার তেমন সময় পাচ্ছেন না।

আবার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, গাড়িসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম না থাকার কারণেও পুলিশ সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালনে ভয়ের মধ্যে আছেন বলে একাধিক থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এ কারণে ঢাকাসহ দেশে হত্যা, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটসহ সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনে রাজধানীতে ১১ জন খুন হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

এর বাইরে গতকাল সারা দেশে বেশ কয়েকটি এলাকায় হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ না থাকায় এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না জানিয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশে ব্যাপক সহিংসতার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. মাইনুল হাসান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর ৫০টি থানার মধ্যে ২২টি পুড়েছে, অনেক পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছেন। এতে এখনো অনেকটা আতঙ্কে রয়েছে পুলিশ বাহিনী। তাই পুরোপুরি কাজে ফিরে আসতে পুলিশের কিছুটা সময় লাগবে।’

গতকাল রাজধানীর কয়েকটি থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি ফজলুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা থানার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে পেরেছি। মামলা-জিডি থেকে শুরু করে যখন যেটা প্রয়োজন, সেই কার্যক্রমই পরিচালনা করছি। আমাদের থানার সব সদস্যই যোগদান করেছেন। আমরা সেনাবাহিনী ছাড়াও টহল দিচ্ছি। মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধায়নে হচ্ছে। থানা থেকে অস্ত্রসহ যা লুট হয়েছিল, তা উদ্ধার করার প্রতিদিনই চেষ্টা করছি।’

চকবাজার থানার ওসি রেজাউল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের থানার সব ধরনের কার্যক্রম চলছে। আমরা আমাদের থানার ভেতরেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের সব সদস্যই যোগদান করেছেন। এই থানা প্রথম থেকে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সেনাবাহিনীর সেভাবে পাহারা দিতে হয় না। তারা মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নিতে আসে। তবে আমরা নিজেরাই আমাদের টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এই থানায় লুটতরাজের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটেনি।’

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, হামলা ও নাশকতার ঘটনায় দেশের পাঁচ শতাধিক থানার কার্যক্রমে এখনো কোনো গতি আসেনি। এতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ না থাকায় সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। তবে সেনাবাহিনী সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশকে সহযোগিতা করছে।

এই পরিস্থিতিতে পুলিশকে নতুন নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সারা দেশের থানাগুলোতে মামলা, জিডি ও এফআইআর দ্রুত নিতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে বিলম্ব না করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

১৮১৪ অস্ত্র, ৯০ হাজার গুলি-টিয়ার শেল উদ্ধার

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে সারা দেশে বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও  অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এসব অস্ত্রের বেশির ভাগ এখনো উদ্ধার হয়নি।

তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, লুট হওয়া এক হাজার ৮১৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮৭ হাজার ৪০ রাউন্ড গুলি, দুই হাজার ৬৪৭ টিয়ার শেল এবং ২৯২ সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারো কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকলে নিকটবর্তী থানায় জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য