কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। গত ২৭ বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের বইপ্রেমীদের একসুতোয় বাঁধার কাজ করে এসেছে এই মেলা। কিন্তু এ বছর ‘তপ্ত’ বাংলাদেশের পরিস্থিতি। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘুদের বিক্ষোভও অব্যাহত। দিল্লিও চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আইনি অধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের স্টল না থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাতে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ না দিলে তাঁদের কিছু করার নেই। অর্থাৎ দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচ্য, সেখানে আলাদা করে গিল্ডের কোনও ভূমিকা নেই, স্পষ্ট করেছেন ত্রিদিব।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করে এসেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, কলকাতা বইমেলা ঘিরে বাংলাদেশ প্রকাশক এবং বইপ্রেমীদের উৎসাহ থাকত চোখে পড়ার মতো। বইমেলা চত্বরে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন থাকত অনেকটা জায়গা জুড়ে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সেই জায়গায় কি এবার অন্য কোনও স্টল থাকবে? এ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। তিনি কেবল বলেছেন, সাংবাদিক বৈঠক করে গিল্ড তার সিদ্ধান্ত জানাবে।
এই প্রসঙ্গে ‘রওনক পাবলিকেশন’-এর কর্ণধার রূপা মজুমদার জানান, বাংলাদেশ বইমেলায় প্রকাশকরা এলে তাঁদের সঙ্গে ওপার বাংলায় বই প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই জায়গা থেকে একটা বড় ক্ষতি হতে চলেছে। তবে তাঁর সংযোজন, ‘বই নিয়ে আলোচনা, ভাবনা চিন্তা, সম্পর্কের আদানপ্রদান বন্ধ হয়ে গেল। ভবিষ্যতে আমরা বইমেলায় বাংলাদেশকে দেখতে চাই। তবে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা যদি ঠিক না হয় সেক্ষেত্রে আদৌ বাংলাদেশকে দেখতে চাইব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কাঙ্খিত নয়।’
‘দে’জ পাবলিকেশন’-এর অন্যতম কর্ণধার অপু দে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে অস্থিরতা চলছে। আমরা সবসময় বইমেলার মধ্য দিয়ে মেলবন্ধন ঘটাতে চাই। তবে বাংলাদেশের কোনও বইমেলাতেই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কোনও অংশগ্রহণ থাকে না। তবে পরিস্থিতি ঠিক হলে চাইব অবশ্যই বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করুক।’ একইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘বাণিজ্যিকভাবে কোনও প্রভাব বাংলার প্রকাশকদের উপর পড়বে বলে মনে হয় না।’
