সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত বাবরের আপিল শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি মোস্তফা জামান ইলাম এবং বিচারপতি নাসরিন আক্তারের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেনÑ রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, নূরুল আমিন, মহসীন তালুকদার ও এনামুল হক। এছাড়া যাবজ্জীবনের পরিবর্তে উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে ১৪ বছর এবং আকবর হোসেন, লিয়াকত হোসেন, হাফিজুর রহমান ও শাহাবুদ্দিনকে ১০বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামী, দীন মোহাম্মদ, আব্দুর রহিম এবং হাজী আব্দুস সোবহান ইন্তেকাল করায় তাদের আপিল ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করা হয়েছে। আপিলকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাড. এসএম শাহজাহান ও অ্যাড. মোহাম্মদ শিশির মনির। আদেশের বিষয়ে শেষোক্ত এই আইনজীবী বলেন, এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরকে ৭৮ দিন রিমান্ডে নিয়ে চাপ দেয়া হয়েছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিতে। এই জবানবন্দি দিলে তাকে (বাবরকে) আসামি না করে সাক্ষী করার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৭৮ দিন রিমান্ডে থাকার পরও তিনি এই জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। এ কারণে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়।
তিনি বলেন, আদালত একটি অ্যাডভান্স আদেশ দিয়েছেন। আশা করছি, এই আদেশ বাস্তবায়ন হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। লুৎফুজ্জামান বাবর বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জস্থ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। আদেশ যথাসময়ে পৌঁছার পর তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হবে।
যাবজ্জীবন থেকে কমিয়ে যে চারজনকে ১০ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে তারা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। ফলে এই চারজনেরও কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানান অ্যাড. শিশির মনির। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর একই ঘটনায় হওয়া অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় বাবরসহ ৭ আসামিকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এছাড়া উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার সাজা কমিয়ে মৃত্যুদ- থেকে যাবজ্জীবন দ- দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে বন্দরনগরীর কর্ণফুলি থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে ২টি মামলা করা হয়।
মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। এর মধ্যে অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘উলফা’র সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়–য়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ হয় একই আসামিদের।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রায়সহ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে। এটি ‘ডেথ রেফারেন্স’ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দ-িত আসামিরা বিচারিক আদালতের দেয়া দ-াদেশের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।
