Friday, April 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াসুন্দর কথা—মুমিনের এক অপূর্ব সদকা

সুন্দর কথা—মুমিনের এক অপূর্ব সদকা

মানুষের জীবনে ভাষা ও আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে শুধু দান-খয়রাত নয়, বরং সুন্দর, সত্য ও প্রশান্তিদায়ক কথা বলাকেও সদকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘উত্তম কথা বলা সদকা।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)

সুন্দর কথার গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্দর কথা মানুষের হৃদয় নরম করে, ভালোবাসা বাড়ায়, পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। আর কটু ভাষা বিভেদ সৃষ্টি করে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলো।’ (সুরা বাকারা: ৮৩)

কোরআনে বিভিন্ন স্থানে সুন্দর, কল্যাণকর ও শান্তির ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে। তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতিতে।’ (সুরা নাহল: ১২৫)

এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট যে, সুন্দর কথা বলা শুধু নৈতিকতা নয়, বরং আল্লাহর আদেশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুন্দর কথা বলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)

রাসুল (সা.) আরও বলেন, ‘গালমন্দ, অশালীন ও কঠোর ভাষা মুমিনের গুণ নয়।’ (জামে তিরমিজি)। এসব হাদিস নির্দেশ করে যে, ভালো কথা বলা ইবাদতের মর্যাদা রাখে এবং কটু ভাষা পাপের অন্তর্ভুক্ত।

ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলামের দাওয়াত বিস্তার হয়েছে প্রধানত সুন্দর, যুক্তিসম্মত ও নম্র ভাষার মাধ্যমে। নবী (সা.) কঠোর শত্রুকেও কোমল ভাষায় আহ্বান করতেন। হজরত মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)–কেও ফেরাউনের সঙ্গে নরম ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অথচ ফেরাউন ছিলেন চরম অত্যাচারী। এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষার সৌন্দর্য শুধু শিষ্টাচার নয়, বরং চরিত্র নির্মাণের কেন্দ্রবিন্দু।

সুন্দর কথার আছে অসাধারণ প্রভাব—একটি নরম কথা অনেক বড় ঝগড়া থামিয়ে দেয়। যে মানুষ সুন্দরভাবে কথা বলে, তার কথা মানুষ সহজে গ্রহণ করে। সুন্দর করে কথা বলা শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং ইসলামে এটি ইবাদত ও সদকা।

তাই আমাদের উচিত প্রতিদিনের জীবনে কটু ভাষা পরিহার করে মিষ্টি, সত্য ও ভদ্র ভাষা ব্যবহার করা। এতে আমরা মানুষের ভালোবাসা অর্জন করব এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবো।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কশবামাজাইল, পাংশা, রাজবাড়ী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 12 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য