বাংলাদেশে ৯০ এর দশক থেকে এইডস প্রতিরোধ ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে এক্টিভিজম শুরু হয়। এই সেবা গ্রহীতাদের অধিকাংশ ছিল সমকামী পুরুষ। এখানে পশ্চিম থেকে ফান্ড আসে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিও, দেশি এনজিও পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। জনপরিসরে বিকৃতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেইমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ। ২০০৪ সালে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। তাদের লক্ষ্য ছিলো এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার জনস্বাস্থ্য সমস্যা নিরসনে কাজ করা। https://bracjpgsph.org/
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য ২০০৬ সালে ব্র্যাকের সাধারণ পরিচালকবর্গ ডিজিআইএস এবং নেদারল্যান্ডস সরকার নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস (ইকেএন) কাছ থেকে অনুদান পেয়েছিল। https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7
২০০৭ থেকে ব্র্যাক বিভিন্ন মিটিং, ওয়ার্কশপ এবং সভা সেমিনার আয়োজন করতে থাকে। ‘জেন্ডার এন্ড সেক্সুয়ালিটি’ নিয়ে ব্র্যাক সেন্টারে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন হয়। https://openlibrary.org/account/login?redirect=/books/OL24003659M
মিডিয়াতে সমকামিতা প্রমোট করতে কাজ করে ব্র্যাক। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির সমকাম বিরোধী ৩৭৭ ধারা বাতিল নিয়েও তারা সেমিনার করে। ২০০২ সালে বয়েজ অব বাংলাদেশ BOB নামে একটি সমকামী সংস্থা সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা অনলাইন অফলাইনে এক্টিভিজম করত। একটি ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ ও ইয়াহু গ্রুপ তারা ব্যবহার করতো। https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7
বয়েজ অব বাংলাদেশের দাবি ছিলো বাংলাদেশে সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতি কথিত বৈষম্যমূলক আচরণ হ্রাস করা এবং সংবিধানের কথিত যৌন বৈষম্যমূলক ৩৭৭ ধারা বাতিল করা। [ঐ]
২০০৫ এর দিকে ICDDR এ একটি নিরাপদ সেক্স ক্যাম্পেইন চালু হয়, যারা এইচআইভি টেস্ট করাতো। BOB এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র ASK যৌন বৈচিত্র্যের উপর একটি সার্ভে করে। http://”History of the E-Groups and BoB’s Evolution” https://web.archive.org/web/20161 014211750/http://www.boysofbangladesh.org/history_of_e-group.html
২০০৮ সালের মে মাসে জার্মান ইন্সটিটিউটে রংধনু পতাকা টানিয়ে তারা International Day Against Homophobia [IDAHO] পালন করে। এটাই ছিলো BOB এর প্রথম প্রকাশ্য কার্যক্রম। [ঐ]
২০০৯ এর ফেব্রুয়ারিতে Norwegian National Association for Lesbian and Gay Liberation এর সাহায্যে BOB বাংলাদেশে একটি LGBT সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কশপ আয়োজন করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘Workshop on Sexual Diversity, Partnership Building and Networking’ | http://”One Day, One Struggle: Coalition for Sexual and Bodily Rights in Muslim Societies”. www.iglhrc.org. 20 November 2009. Retrieved 31 December 2011.
২০১১ এর এপ্রিলে BOB, Bandhu Social Welfare Society এবং South Asian Human Rights Commission of Marginalized Sexualities and Genders এর সাথে মিলে একটি কনফারেন্সের আয়োজন করে এবং Without Any Window of His Own নামে একটি শর্টফ্লিম প্রডাকশনে ভূমিকা রাখে। https://en.m.wikipedia.org/wiki/Boys_of_Bangladesh
ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ ও বব এর অনুসরণ করে ‘রূপবান’ নামে এক সমকামী সংগঠন গড়ে উঠে। ২০১৪ সালে তারা রূপবান ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। https://www.manhattandigest.com/2014/05/06/roopbaan-right-love/
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে পত্রিকাটি প্রথম ৫৬ পৃষ্ঠার মুদ্রণ সংখ্যা প্রকাশ করে। সে সময়ে প্রায় ৬০০ কপি ছাপা হয়েছিল, এ মূল্য নির্ধারণ করা কপি ১০০ টাকা। ঢাকা ট্রিবিউনের মতে, রূপবান স্বেচ্ছাসেবক অনুদানকারীদের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করছিলে। এছাড়া এটি স্বেচ্ছাসেবকদের নিবন্ধ, ফটোগ্রাফি এবং ব্যক্তিগত জিনিস অন্তর্ভুক্ত করে। সেই সময়ের সম্পাদক রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করি এটা সমকামী সম্প্রদায়ের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। রূপবান ম্যাগাজিনের সম্পাদকের প্রত্যাশা, সমকামীদের জীবনযাপন পদ্ধতি ও বিভিন্ন দিক নিয়ে ম্যাগাজিনটিতে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তা মানুষের মধ্যে সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সক্ষম হবে।’https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA%E0%A6 %AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8_(%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6% BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8)
২০১৪-১৫ পহেলা বৈশাখে তারা রঙধনু র্যালি করে। https://web.archive.org/web/20171115015053/https://roopbaan. org/2017/09/23/roopbaan-rainbow-rally-2014-2015/
২০১৪ এবং ২০১৫ সালে, এটি একটি ড্র্যাগ শো এবং একটি ট্রান্সজেন্ডার /ট্রান্সভেস্টাইট ফ্যাশন শো আয়োজন করেছিল।https://web.archive.org/web/20171115082847/https://roopbaan. org/2017/09/23/rb-sns-trans-show-2014/
রূপবান পত্রিকার প্রকাশক ছিলো জুলহাস মান্নান। সে ছিল ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর স্নাতক ও পিস এন্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের উপর স্নাতকোত্তর ছিলো তার। তার উদ্যোগেই পহেলা বৈশাখে রেইনবো র্যালির আয়োজন হয়। ২০১৬ সালে তাকে ও তার সহগামী মাহবুব রাব্বি তনয়কে ফ্ল্যাটে থাকা অবস্থায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলাম এই হত্যার দায় স্বীকার করে। https://www.bbc.co.uk/news/world-asia-36128729.
এভাবে এগুতে না পেরে তারা ভিন্নপথ অবলম্বন করে এলজিবিটি অধিকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন তারা শুরু করে ট্রান্স অধিকারের নামে নতুন রাজনীতি। আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস থেকে তাদের ফান্ড আসে। তারা জাতীয় পর্যায়ে এই মহামারি ছড়িয়ে দিতে ৭ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে সেই শরিফ শরিফার গল্প ঢুকায়, যা নিয়ে জনরোষ ছড়িয়ে পড়লে সেটা বাদ দিতে সরকার বাধ্য হয়।
