দেশে হালাল সনদ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ঘুষ, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি হালাল সনদ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শনিবার বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল ফর এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন’ শীর্ষক কর্মশালায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
তারা বলেন, বর্তমানে বিএসটিআই ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন পৃথকভাবে হালাল সনদ দিলেও পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং নানা জটিলতায় ভরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সনদ নিতে গিয়ে বড় অঙ্কের ফি পরিশোধের পাশাপাশি একাধিকবার কারখানা পরিদর্শন, বিভিন্ন পরীক্ষার সনদ এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের চাপের মুখে পড়তে হয়। তাদের মতে, এসব কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ভারত, সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ডের স্বীকৃত সংস্থার কাছ থেকে হালাল সনদ সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
এছাড়াও একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, দেশের হালাল সনদ আন্তর্জাতিকভাবে, বিশেষ করে সৌদি আরবের স্বীকৃত তালিকায় না থাকায় বিদেশে রপ্তানির সময় অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন থেকে শুরু করে রপ্তানি ব্যয় পর্যন্ত পড়ছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা আরও দাবি করেন, বর্তমান ফি কাঠামো ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে হালাল সনদ প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ এবং সম্ভব হলে বিনা মূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরাও মালয়েশিয়া বা তুরস্কের আদলে একটি জাতীয় হালাল অথরিটি বা হালাল বোর্ড গঠনের সুপারিশ করেন। তাদের মতে, একক সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং আধুনিক পরীক্ষাগার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিভিন্ন খাতেও বাংলাদেশের হালাল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক নীতি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদ ব্যবস্থা এবং কার্যকর ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করা গেলে এই খাত দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সূত্র : The Business Standard
