Thursday, November 5, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজ"আস সালামু আলাইকুম“ ই যখন বিদ্বেষের লক্ষ্য: WHY? Exposing the DNA

“আস সালামু আলাইকুম“ ই যখন বিদ্বেষের লক্ষ্য: WHY? Exposing the DNA

সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা জেনেছেন – পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ হচ্ছে তার নিজের একটি ভিডিওতে তিনি “আসসালামু আলাইকুম”, “ইনশাআল্লাহ” এবং “জাযাকাল্লাহ” এ শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন।

উগ্রপন্থী একটি হিন্দু গ্রুপ “হিন্দু লীগ্যাল ফান্ড” এর অভিযোগ হচ্ছে তিনি কেন “বন্দে মাতরম” বা “জয় হিন্দ” ব্যবহার করেননি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অভিযোগের পরই এই বদলি ঘটে। [১]

লক্ষ্য করুন, ঘটনাটি শুধু একজন কর্মকর্তার বদলির বিষয় নয়; এটি বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সংকেত। ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ, হিন্দু ধর্মীয় মেরুকরণ এবং হিন্দু ধর্ম ভিত্তিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আচার চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। কোনো বড় ভূরাজনৈতিক ঘটনার আগে ছোট ছোট সংকেত প্রকাশ পায়, পেতেই থাকে!

এখন প্রশ্ন হলো – এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না, মোটেও নয়।

ইন্ডিয়া হেইট ল্যাবের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে, ভারতে ১,৩১৮টি যাচাইকৃত হেইট স্পীচের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১,২৮৯টি ঘটনা, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ – মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৯৭ শতাংশ বেশি। [২]

দ্য কুইন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জুন ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৯৪৭টি হেইট ক্রাইমের কথা বলা হয়েছে; এসব ক্রাইমে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হন। [৩]

আমরা এসব খবর দেখি, কয়েক সেকেন্ড পর স্ক্রল করে চলে যাই এবং ভাবি -“এটা তো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়; আমাদের কী?” কিন্তু ভূরাজনীতি কোনো সীমান্ত মানে না। ভূমিকম্প যেমন সীমান্ত দেখে থামে না, তেমনি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় উগ্রতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের রেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এসেও পৌঁছায়। বড় কোনো ঘটনার আগে এ রকম অসংখ্য ছোট সংকেত প্রকাশ পেতে থাকে; আমরা সেগুলো উপেক্ষা করি বলেই পরে হুমকির সম্মুখীন হই।

হাসিনা আমলেও আমরা একই ধরনের একটি বয়ান দেখেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক, সুশীল শ্রেণী এবং মিডিয়া মিলে – “শুদ্ধ ভাবে সালাম দেওয়া”, “আলহামদুলিল্লাহ” বলা, “দাড়ি রাখা”, “টাখনুর উপরে প্যান্ট পরা“ এ ধরনের স্বাভাবিক ধর্মীয় আচরণকেও জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

এটি কী ভাবার মত বিষয় নয় যে – ভারতে মুসলিমের ইসলামী অভিবাদনের কারণে পুলিশ অফিসার বদলি এবং বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ বিশ্বাসের কারণে “জঙ্গি” হিসেবে চিহ্নিত-করণ এগুলো কি শুধুই র‍্যান্ডম? এই দুই প্রবণতার মধ্যে একটি মৌলিক সাদৃশ্য দেখা যায়, আর তা হচ্ছে – ইসলামি মূল্যবোধের প্রকাশকে স্বাভাবিক নাগরিক আচরণ হিসেবে না দেখে অপরাধ বা নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা! এটিই ভারতের আগ্রাসন, কালচারাল হেজেমনি!

লক্ষ্য করুন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঠিক পরেই – ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ আক্ষেপ করে বলেছিল:

“Bangladeshis never had much love for India. I knew their love for India was temporary. For inspiration they would look not towards India but towards Pakistan and Mecca.” [৪]

অর্থাৎ, বাংলাদেশের মানুষের ভারতের প্রতি ভালোবাসা সাময়িক; অনুপ্রেরণার জন্য তারা ভারতের দিকে নয়, পাকিস্তান ও মক্কার দিকে তাকাবে।

অর্থাৎ বাংলাদেশ জন্মের সাথে সাথেই বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের বিদ্বেষ রেডি হয়ে গিয়েছিল এবং এর একমাত্র কারণ – ইসলাম।

তাহলে আমাদের করণীয় কী?

যেমনটা সান যু বলেছিল:

“If you know the enemy and know yourself, you need not fear the result of a hundred battles. If you know yourself but not the enemy, for every victory gained you will also suffer a defeat.” [৫]

আমরা মুখে বলি, “ভারত আমাদের শত্রু।” কিন্তু এই উপলব্ধি যদি কেবল আবেগের স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তার কোনো কৌশলগত মূল্য নেই। প্রতিপক্ষকে চেনার পাশাপাশি নিজেদের শক্তি, দুর্বলতা, অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা, জনমত, তথ্যব্যবস্থা ও কূটনৈতিক অবস্থানও বুঝতে হবে। এবং এই বোঝাপড়া আমাদের পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্তনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় কী পরিবর্তন আনছে সেটিই মূল প্রশ্ন।

প্রলয়ের সংকেতগুলো এখন আমাদের সামনেই। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেগুলো উপলব্ধি করতে পারছি? নাকি প্রতিবারের মতো স্ক্রল করে চলে যাচ্ছি?

© RealityCheck BD

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 − seven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য