“রোহিঙ্গা গণহত্যা এখনও চলছে। এর কখনোই অবসান হয়নি,” মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বলেন রোহিঙ্গা উইমেন ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা শরীফাহ শাকিরাহ।
শিশুকালেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন শাকিরাহ। এরপর প্রায় দুই দশক মালয়েশিয়ায় কাটানোর পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন এবং বর্তমানে দেশটির নাগরিক। বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং কোথাও পুরোপুরি আপন মনে না হওয়ার অভিজ্ঞতা তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এসব অভিজ্ঞতাই তাকে আজীবন রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
বাস্তুচ্যুতির সংকটের ব্যাপকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাদের দুর্দশার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
“আমাদের তাদের হয়ে কথা বলতে হবে,” বলেন শাকিরাহ।
রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীরা নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় শরণার্থী শিবির ও বসতি ছেড়ে বের হলে তারা কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন, তাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, থাইল্যান্ডের সীমান্তে পৌঁছানো কিছু রোহিঙ্গা কিশোরী পাচারকারীদের হাতে “নির্যাতন, আটক ও ধর্ষণের” শিকার হয়েছে।
মিয়ানমারের জান্তা সরকার কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের পরিচয় দমন করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন শাকিরাহ। তার মতে, এর শুরু হয়েছিল রোহিঙ্গাদের ভাষা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং নিজেদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অধিকার সীমিত করার মধ্য দিয়ে।
“আমাদের জন্য সংস্কৃতি ও ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মিয়ানমার সরকার প্রথমে আমাদের ভাষার ওপরই আঘাত করেছিল,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নামটি ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দেওয়াকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
