একজন ভারতীয় আর একজন বাংলাদেশীর মধ্যে পার্থক্য কি জানেন?
একজন ভারতীয় আরেকজন ভারতীয়কে ঠেলে উপরে তুলে আর একজন বাংলাদেশী আরেকজন বাংলাদেশীর পা ধরে টেনে নামায়। ভারতীয়রা নিজের দেশকে সবার আগে প্রাধান্য দেয় আর বাংলাদেশীরা নিজের পকেট আর ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে সবার আগে চিন্তা করে৷
বাঙালি মুসলিমরা হজ্ব করতে মক্কায় যায় আর বাঙালি রাজনীতিবিদরা তাদের নিজস্ব ধর্মের নির্দেশনা নিতে যায় ভারতে। আমাদের নেতারা ভারত ঘুরে এসে এমন হাসি দেন যেন বিশ্বজয় করে এসেছেন। জিএম কাদের তো কাঁপতে কাঁপতে রক্তশূণ্য মুখে বলেছিলেন, উনাদের অনুমতি ছাড়া কিছুই বলতে পারব না।
২৫ বছর সমুদ্রে কাটানোর অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ভারতীয় মেরিনাররা সবসময় ভারতীয়দের প্রমোট করে। অভিজ্ঞতা কম থাকলেও দ্রুত প্রমোশন দেয় আর কাজ শিখায়। ভারতীয়রা বাংলাদেশীদের সহজে প্রমোশন দিতে চায় না৷ অন্যদিকে বাংলাদেশী পরিবেশে একজন আরেকজনের পিছনে লেগে থাকে, গ্রুপিং করে।
বিস্ময়করভাবে ১৩ টা ন্যাশনালিটির সাথে কাজ করলেও বাংলাদেশীদের সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করতে দেখেছি পাকিস্তানিদের। যোগ্যতা অনুযায়ী রিপোর্ট দিয়ে প্রমোশন দেয়ার চেষ্টাও করতে দেখেছি অনেককে৷
বিদেশে গিয়ে ভারতীয়রা তাদের দেশের কালচার প্রমোট করে আর আমরা ওই দেশের কালচারে গা ভাসিয়ে দেই৷ ভারত নিজস্ব অর্থে নিজেদের টেকনোলজি দিয়ে নিজেদের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে ৬১৫ কোটি রুপি ব্যয়ে চন্দ্রবিজয় করে উৎসব করে আর আমরা ঋণ নিয়ে বিদেশের টেকনোলজি দিয়ে ওদের মাধ্যমেই স্যাটেলাইট আকাশে পাঠিয়ে উৎসব করি যেন সব নিজেরাই করেছি৷ আর সেই স্যাটেলাইট শুধু খরচের খাতা বড়ই করতে থাকে, লাভবান আর হয় না।
ভারতীয়দের দেশপ্রেম আমাকে ঈর্ষান্বিত করে। একটা উদাহরণ দেই। ২০১৯ সালে ভারতের চন্দ্রযান ২ অভিযানে বাজেট ছিল ৮৫০ কোটি রুপি৷ চন্দ্রযান ২ সফল উৎক্ষেপনের পর চাঁদের কক্ষপথে থাকা অবস্থায় লাইনচ্যুত হয়ে আর ল্যান্ড করতে পারেনি৷ তারা গবেষণা করে এর বাজেট কমিয়েছে। সব বাহুল্য আর অতিরিক্ত খরচ বাদ দিয়েছে।
৪ বছর পর চন্দ্রযান ৩ সফলভাবে ল্যান্ড করল ৬১৫ কোটি রুপি বাজেটে৷ ভারতীয়রা ২৩৫ কোটি রুপি কমিয়েছে, অবাক লাগল না? বাংলাদেশের এমন কোন প্রজেক্ট আছে যেখানে ৪ বছরে পরে ব্যয় বা বাজেট ২৫% কমেছে?
আমরা সাবমেরিন কিনলে ভারত মিয়ানমারকে এন্টি সাবমেরিন টর্পেডো বিক্রি করে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘে বিপক্ষে ভোট দেয়, ব্রিকসে আমাদের সদস্যপদ আবেদন বাতিলে সম্মতি দেয়, দ্বিপাক্ষিক মিটিং রিজেক্ট করে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না, একতরফা চুক্তি করে রামপাল আর আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র গছিয়ে দেয়, সব টিভি চ্যানেল আমাদের বেডরুমে ঢুকিয়ে দেয় আর ট্রানজিটসহ সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে নেয়। সবই ওরা করে নিজের দেশের স্বার্থে, এটাই দেশপ্রেম।
আর আমরা দেশের চিন্তা না করে নিজেদের স্বার্থে সবকিছু বিলিয়ে দেই, বিকিয়ে দেই৷ এরপরেও নিজেদের স্বার্থে ওদের পিছনে পিছনে ঘুরতে থাকি। কিন্তু কার্যকর কিছুই আদায় করতে পারি না। শুধু অন্যায় সমর্থন নিয়েই হাসিখুশি থাকি।
ওদের কাছ থেকে অন্তত দেশপ্রেমটুকু শিখতে পারতাম, চাঁদে যেতে না পারি দেশ অন্তত অনেক এগিয়ে যেত।
© Atique UA Khan
