Thursday, October 8, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররাশিয়ায় কাজের খোঁজে গিয়ে যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা

রাশিয়ায় কাজের খোঁজে গিয়ে যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা

বাইরে থেকে যাকে মনে হয় সচ্ছল জীবনের হাতছানি, ফ্রন্টলাইনে পৌঁছানোর পর সেটাই হয়ে ওঠে জীবন-মৃত্যুর এক ভয়ংকর খেলা। কাজের সন্ধানে বা নিজের ইচ্ছাতেই যারা রাশিয়ায় পা রেখেছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তাদের প্রায় সবাই বলছেন, এটি তাদের জীবনের ‘সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত’।

রুশ ভাষার অবোধ্য চুক্তিপত্র, তিন মাসের বকেয়া বেতন আর ভিনদেশি রণক্ষেত্রে আটকে পড়া বাংলাদেশি তরুণ রাজন হোসাইন আমার দেশ-এর কাছে বর্ণনা করেছেন যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরের চিত্র। যুদ্ধে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু ও অপরজনের নিখোঁজ হওয়ার কথাও জানান তিনি।

কলম্বিয়া, কিউবা বা জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা রাজন মন্তব্য করেন, যুদ্ধ কোনো ভিডিওর দৃশ্য নয়, এর বাস্তবতা তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ানক। ঠিক কীভাবে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, আমার দেশকে সেই গল্প বলেছেন টাঙ্গাইলের এই তরুণ।

রাজন জানান, শুরুতে কেউই যুদ্ধ করতে বাংলাদেশ ছাড়েননি। বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও ভিসার মাধ্যমে মূলত অন্য কাজের উদ্দেশ্যেই রাশিয়ায় আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও পরিচিতজন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে বেশকিছু তরুণ এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়া গেছেন। সবার আসার পথ এক ছিল না। কেউ পরিচিতদের মাধ্যমে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে আবার কেউ দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এসেছেন।

রাজন বলেন, আমি নিজের ইচ্ছাতেই রাশিয়ায় এসেছিলাম। পরে পরিস্থিতির শিকার হয়ে যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। এই সিদ্ধান্ত আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। সবচেয়ে বড় বিপদ তৈরি হয়েছিল নথিপত্র নিয়ে। আমি যে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছি, সেগুলোর সবকিছু রুশ ভাষায় থাকায় ভাষাগত সমস্যা তৈরি হয়। সব শর্ত পুরোপুরি বুঝে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিদেশিদের কেউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে নিজের ভাষায় অনুবাদ বুঝে নেওয়া যে কতটা জরুরি, তা এখানে এসে বুঝেছি।

তিনি বলেন, সামরিক পরিবেশে রুশ ভাষা না জানলে যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রশিক্ষণের সময়ও অন্যের সাহায্য নিয়ে অনেক কিছু বুঝতে হয়েছে। সময়মতো কিছু বেতন পেলেও বর্তমানে আমার তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এই টাকা পরে পাব কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নই। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও এখন পর্যন্ত এর পরিষ্কার কোনো সমাধান পাইনি।

এই তরুণ আরো বলেন, বাইরে থেকে যুদ্ধের ভিডিও দেখা আর বাস্তবে যুদ্ধের মধ্যে থাকা—দুটি এক জিনিস নয়। বাস্তবে প্রতিটি মুহূর্তে অনিশ্চয়তা ও জীবনের ঝুঁকি থাকে। এখানে এসে আমি বুঝেছি, যুদ্ধ কোনো ভিডিওর দৃশ্য নয়। এর বাস্তবতা অনেক বেশি কঠিন।

প্রতিদিন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা, পরিবারের কথা মনে পড়া এবং কখন কী হবে—সেই অজানা আতঙ্কই যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন দিক। আমি এখানে কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, শাদ, কিউবাসহ কয়েকটি দেশের মানুষকে দেখেছি। সবার আসার কারণ বা পরিস্থিতি এক নয়। দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতি আলাদা হলেও মানুষের ভয়, কষ্ট ও পরিবারের জন্য চিন্তা প্রায় সবারই এক।

বাংলাদেশি ‘ভাড়াটে যোদ্ধাদের’ পরিণতি

তিনি বলেন, রণক্ষেত্রে নেমে অনেকেরই মর্মান্তিক পরিণতি দেখেছি, শুনেছি। পরিচিতদের মধ্যে সিলেটের আবু সালেহ নিখোঁজ হয়েছেন এবং বিক্রমপুরের আহমেদ সাকিব মারা গেছেন। আরো অনেকে নিখোঁজ বা হতাহত হয়েছেন।

যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, বাস্তবে এখান থেকে ফিরে আসা এত সহজ নয়। চুক্তি, সামরিক নিয়ম, কাগজপত্র এবং পরিস্থিতির কারণে ফিরে আসার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। সবচেয়ে বড় কথা, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইনগত বা কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়া যায় না। কারণ, চুক্তিপত্রে নিজের ইচ্ছায় ও জেনেশুনে যুদ্ধে আসার বিষয়টি উল্লেখ থাকে। ফলে এই ফাঁদে আটকে যাওয়ার পর দূতাবাসেরও কিছু করার থাকে না।

তিনি বলেন, যুদ্ধে আসার সিদ্ধান্তটি ছিল মারাত্মক ভুল। একই সঙ্গে এমন অনেক মানুষও আছেন, যারা ভিন্ন প্রতিশ্রুতি, ভুল তথ্য বা প্রতারণার কারণে এসে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

রাজনের বাবা-মা ও ভাই থাকেন টাঙ্গাইলে। তার ভাই রাজিব হোসাইন বলেন, আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, একবার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। তাকে নিয়ে আমরা মারাত্মক দুশ্চিন্তায় আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য