Thursday, June 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeযুগ জিজ্ঞাসাদান করো যদিও এক টুকরো খেজুর হয়!!!

দান করো যদিও এক টুকরো খেজুর হয়!!!

️ রমাদান মাসঃ সাদাকাহর মাস
বিনা হিসাবে দান করুন, জানি করবেন।

শুধু কয়েকটি নুকতা স্মরন করিয়ে দিতে লিখছি।

১) যত্রতত্র সাদাকাহ করবেন না, তাতে দ্বীন, দেশ ও দশের কোন উপকার হয় না। 

২) সাদাকাহ করার ক্ষেত্রে সুরাহ বাক্কারার ১৭৭ নম্বর আয়াত অনুসরণ করুন

৩) যাকাতের জন্য সুরাহ তওবাহ’র ৬০ নং আয়াত অনুসরণ করুন।

️ ২ঃ১৭৭ এর নির্দেশনাগুলো এমন,

১) নিকট আত্মীয় স্বজনদের আগে প্রাধান্য দিন। দেখেন বাবার বাড়ীর কারো সাহায্য লাগবে কিনা, মায়ের বাড়ীর কারো সাহায্য লাগবে কিনা। তারপরে শ্বশুরবাড়ি।

ফায়দাঃ নিকট আত্মীয়কে সাদাকাহ করলে আখেরাতে দ্বিগুন সওয়াব, সাদাকার সওয়াব, আর আত্মীয়দের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখার সওয়াব।

২) ইয়াতীমদের হক্ক আত্মীয়দের হক্কের পরে। তাদের কেউ নাই।

জান্নাতে আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) প্রতিবেশী হতে চান? ইয়াতীমদের হক্ক আদায় করুন।  ইয়াতিম মানে নাবালক শিশু, বালেগ হলে তারা ইয়াতীম নয়।  ইয়াতীম যদি আত্মীয় হয়, তাহলেতো কথাই নেই, ডাবল প্রায়োরিটি।

ফায়দাঃ সমাজে কোন শিশু কিশোর অপরাধী হবে না। সুশিক্ষিত হবে, দ্বীনের পথে থাকবে, নাস্তিক হবে না, সমাজের দায় হবে না। ইয়াতীমের সঠিক যত্ন নিলে তারা সমাজের উন্নয়নে অংশ নিবে।

৩) মিসকিনদের হক্ক ইয়াতীমদের পরে।

মিসকিন কে? যাকে একবেলা ভিক্ষা দেয়া যায়, তাকে ইসলামিক পরিভাষায় মিসকিন বলে না। মিসকিন হলো পাশের বাসার ইঞ্জিনিয়ার ভাই, যার চাকরিটা এই করোনাকালে চলে গেছে, লজ্জায় কারো কাছে হাত পারতে পারছেন না। কিংবা অফিসের কোন কর্মচারী, যিনি সংসারের খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ঈমানদার মানুষ হলেতো লজ্জায় তিনি হাত পেতে চাইতে পারবেন না, তাই না?

তাকে জিজ্ঞাসা করুন, ভাই সব ঠিক আছেতো? পকেটে জোর করে কিছু টাকা গুজে দেন।

ফায়দাঃ উনি শিক্ষিত মানুষ, ভিক্ষাবৃত্তি তার পেশা না, দূঃসময় কেটে যাবে, উনি একদিন আল্লাহর রহমতে আবার কাজে লেগে পড়বেন। আপনার এহসানের কথা ভুলবেন না। একদিন উনিও কাউকে জিজ্ঞাসা করবেন,

“ভাই রাতের খাবার খেয়েছেনতো?”

৪) মুসাফিরঃ ইবনুস-সাবীল, আল্লাহর রাস্তায় নেমেছেন, পথিমধ্যে বিপদে পড়েছেন, টাকা ছিনতাই হয়ে গেছে। সেই মুসলিম ভাইকে কে সাহায্য করবে? কিভাবে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন?

ফায়দাঃ একদিনের সাহায্য তাকে অনেকদূর নিয়ে যাবে। তিনি আল্লাহর উপর ভরসা হারাবেন না।

৫) ভিক্ষুকঃ সা-য়িলীন, ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তিকে সবচেয়ে বেশী অপছন্দ করে। 

উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত, যিনি দিচ্ছেন, তিনিতো আখেরাতের ব্যাংকে জমা করছেন। কিন্তু নীচের হাত, যিনি হাত পেতে নেওয়াকে পেশা বানিয়ে নিয়েছেন, তার জন্য কি? তার জন্য সতর্কবাণীঃ

যে কোন একদিন নিজের ক্ষুধার চেয়ে বেশী ভিক্ষা করলো, আখেরাতে তার মুখের মাংসগুলো ঝলসানো অবস্থায় উত্থিত করা হবে।  সুতরাং সাবধান!

আহা ঘুষখোর সুদখোর যৌতুকখোর স্পীডমানি-ইটারদের কি হাল হবে!

যাহোক সাদাকার কথায় আসি। ভিক্ষাতো তিনিই করেন, যার অবস্থা খুবই নাজুক। যে কারনে তিনি বাধ্য হয়েছেন আত্মসম্মানবোধ ত্যাগ করে ভিক্ষা করতে।

কেউ যদি বলে “আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু দান করেন” – আল্লাহর ওয়াস্তে ফিরিয়ে দেবেন না।  যদি সম্ভব হয় কিছু দিবেন। আল্লাহর ওয়াস্তেই দিবেন, যতটুকু পারেন।

ফায়দাঃ অসহায় বাপটা মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারলো, বিধবা মা ছেলে সন্তানের মুখে আহার দিতে পারলো।

৬) দাসমুক্তিঃ ফীর-রিকাব, শিকলবন্দী মানুষ, ক্রীতদাস। কি বললেন, দাসপ্রথা নাই? পতিতাপল্লীতে যান, গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, কতজন স্বেচ্ছায় এই পেশায় আছেন। দাসপ্রথা আছে কি নাই জেনে যাবেন।

এত এত বিত্তশালী মুসলিম বাংলাদেশে, আমি অবাক হই, বাংলাদেশে এখনো যৌনকর্মী যৌনপল্লী থাকে কি করে? থাকে থাকে, যে দেশে জাহান্নামী মুসলিমের সংখ্যা বেশী,  সেই দেশে এই অনাচার থাকবে এতে অবাক হবার কি আছে?

অসভ্য সমাজে সভ্যতা আর আধুনিকতার নামে মানুষ কেনাবেচা হবে, আল্লাহর গযব ত্বরান্বিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।

যদি ক্ষমতা থাকে, অর্থ থাকে, অনুগ্রহ করে এদিকেও একটু নজর দিবেন।

পারলে এই ক্যাটাগরিতে ঋণগ্রস্ত লোকদের কথাও ভাবতে পারেন। দেনার শিকলে যারা আটকে আছেন।

ফায়দাঃ একটা মানুষকে শিকলমুক্ত করে দেন, হতে পারে এই উসিলায়, আল্লাহ আখেরাতে আপনাকে জাহান্নামের শিকল থেকে মুক্ত করে দেবেন। নিজের কর্মের কথা একবার চিন্তা করেন।

️ শেষ কথাঃ নাচগান, নাস্তিকতা, সেক্যুলারিজম শেখায়, এমন ফালতু কাজে দান খয়রাতে কোন ফায়দা নাই। না দ্বীনের, না দশের।  দান করার ক্ষেত্রে তাই নীচের মানুষগুলোকে অগ্রাধিকার দেন,

১) ৫ ওয়াক্ত সলাতী
২) অভিভাবকহীন ইয়াতীম
৩) অভিভাবকহীন বিধবা

মুসলিম ভাইবোনের প্রয়োজন মিটিয়ে অমুসলিম প্রতিবেশীকেও সাদাকাহ করতে পারবেন, যদি

১) তারা ইসলাম বিদ্বেষী না হয় এবং
২) যদি এ টাকা তাদের উপাসনার কাজে খরচ না করে।

বাকী আল্লাহ ভাল জানেন
সুতরাং লিল্লাহিল হামদ।

সোহেল
১৭ই এপ্রিল, ২০২১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five + four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য